ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা, এলাকাবাসীর তৎপরতায় রক্ষা বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ শরীয়তপুরে মাটি গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠা স্থানে গ্যাস নেই: বাপেক্স শার্শায় আওয়ামী লীগ নেতা টিংকু গ্রেপ্তার শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু! মানিকগঞ্জে বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্ত ছেলে ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০ ড. ইউনূসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ প্রতিদিন ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে : মির্জা ফখরুল মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায় ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা পাঁচ বছর না খেয়েও যেভাবে বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের প্রাণী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস খাদে পড়ে নারী-শিশুসহ নিহত ৪ ধামরাইয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা আবারও ম্যাচ চলাকালে মাঠে লুটিয়ে পড়লেন এরিকসেন উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক রাজধানীর বনানীতে আরএফএল ‘বেস্ট বাই’ এর নতুন শোরুম চালু গজারিয়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার তুরিন আফরোজ ফুটপাথের দোকানীকে সাধারণ ভাববেন না! হতে পারে... ইরানের হামলায় চুক্তির কোনো পরিবর্তন হবে না: ট্রাম্প রামুতে জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার আবারও ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ কানাডার পিক্সেল স্টুডিও অ্যাপ বন্ধ করল গুগল রাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টারিং শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত
Nagad desktop

পুতিনের ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ যেন এক রাজপ্রাসাদ

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৬ এএম
পুতিনের ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ যেন এক রাজপ্রাসাদ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত নেতা হিসেবে ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দুটি প্রতীক ছাড়া খুব কমই ভ্রমণ করেন। একটি হচ্ছে তার বর্মসজ্জিত লিমুজিন ‘অরাস সেনাট’ এবং অন্যটি হচ্ছে তার জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০ পিইউ। এটি আবার ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বা ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ নামে পরিচিত। গত বৃহস্পতিবার তিনি এই উড়োজাহাজে চড়ে ভারত সফরে গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের যেমন ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’, ঠিক তেমনই পুতিনের রয়েছে ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’। একে বিমান না বলে উড়ন্ত দুর্গ বলাই শ্রেয়। দীর্ঘপাল্লার এবং চার ইঞ্জিনযুক্ত রুশ বিমানটি যেন ছোটখাটো এক প্রাসাদ। কী নেই তাতে!

সংবাদদাতারা বলছেন, পুতিনের ‘ফ্লাইং ক্রেমলিনে’ রয়েছে উন্নত এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি। মাঝ আকাশে হ্যাকিং বা কোনো বাধা তৈরি হলে তা রুখে দেওয়ার সব কঠোর সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা রয়েছে বিমানে। শত্রুপক্ষের হামলা থেকে সব রকমভাবে রাষ্ট্রনেতাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে পারে ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এর রুশ সংস্করণটি।

১৯৪৫ সালে তৈরি সোভিয়েত যুগের লিমুজিন জেডআইএস-১১০-এর অনুকরণে তৈরি গাড়িটি রাশিয়ার অটোমোবাইল সংস্থা অরাস-এর নকশা করা। গাড়িটি তৈরি করেছে রাশিয়ার অটোমোটিভ প্রযুক্তি উন্নয়ন সংস্থা ‘সেন্ট্রাল সায়েন্টিফিক রিসার্চ অটোমোবাইল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিন ইনস্টিটিউট’ ওরফে ‘নমি’।

ইলিউশিন ডিজাইন ব্যুরো ১৯৮০ সালে দূরপাল্লার এই রুশ বিমানটি তৈরি করে। এটি ১৯৮৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথমবার আকাশে উড়েছিল। ১৯৯০ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে রুশ প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বিমানটি। আইএল-৯৬-৩০০পিইউ দূরপাল্লার আইএল-৯৬ প্ল্যাটফর্মে তৈরি, যার দৈর্ঘ্য ৫৫ দশমিক ৩৫ মিটার এবং ডানা বা উইংস্প্যান ৬০ দশমিক ১২ মিটার।

বিমানটিতে রয়েছে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ডাইনিং ও কনফারেন্স রুম। এ ছাড়া বিমানে সিনিয়র সদস্যদের জন্য আলাদা অফিস রুম আছে। বিমানে সব সময় মজুত থাকে প্রেসিডেন্টের জন্য রক্ত ও চিকিৎসক। রাস্তায় চলার সময় প্রেসিডেন্টের গাড়ির আগে-পিছে যেমন আরও অন্য গাড়ি থাকে কনভয়ে, তেমন সুরক্ষার জন্য প্রেসিডেন্টের বিমানের আগেও একাধিক নজরদারি বিমান উড়তে থাকে।

প্রেসিডেন্টের বিমানের সুরক্ষাব্যবস্থাও দুর্ভেদ্য দুর্গের মতোই। শত্রুর রাডারের নজর এড়াতে এবং ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা আটকানোর জন্য ইলেকট্রনিক প্রতিরোধব্যবস্থা যেমন রয়েছে, তেমনই ক্ষেপণাস্ত্র এড়াতে ইনফ্রারেড ডিকয়-ব্যবস্থা বসানো রয়েছে বিমানে।

অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির যোগাযোগমাধ্যম রয়েছে বিমানে। ফলে যেকোনো সময়ে বিমানে বসেই মস্কোকে জরুরি নির্দেশ দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের যে প্রান্তেই বিমানটি উড়ুক না কেন, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রাগারের সঙ্গে যেকোনো সময়ে এনক্রিপ্টেড এবং নিরাপদ যোগাযোগ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট।

রুশ প্রেসিডেন্টের বিমানের অন্দরসজ্জাও চোখ ধাঁধানো। দামি আখরোট কাঠের আসবাব, চামড়া ও গৃহসজ্জার সামগ্রী, তাতে বসানো স্বর্ণের পাত। রান্নাঘর ও খাবারের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা। ব্যায়ামের জন্য ফিটনেস এরিয়া বা জিমও।

একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুতিনের জেটে একটি ‘পারমাণবিক বোতাম’ রাখা রয়েছে। যদিও এটি এখনো নিশ্চিত নয়। পারমাণবিক বোতাম মূলত একটি জটিল ‘চেইন-অব-কমান্ড সিস্টেম’। কঠোর প্রোটোকল ও সুরক্ষাব্যবস্থা জড়িয়ে থাকে এর সঙ্গে। একক কোনো ব্যক্তির নির্দেশে এই বোতামটি কার্যকর হয় না। একাধিক নিরাপত্তা ধাপ পেরিয়ে পারমাণবিক আক্রমণের নির্দেশে কোড সম্পূর্ণ করা সম্ভব।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পারমাণবিক অনুমোদন প্রক্রিয়াটি রুশ প্রেসিডেন্টের চেগেট পারমাণবিক ব্রিফকেসের সঙ্গে সংযুক্ত। বিমানের কোনো পৃথক ‘বোতাম’ নেই। যদিও বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন যে প্রয়োজনে জেটটি পারমাণবিক কমান্ড পরিচালনা করতে সক্ষম। তবে এযাবৎ এই বিষয়ে ক্রেমলিন বা মস্কো কেউই কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

ভারতের আকাশে পুতিনের বিমান প্রবেশের মুহূর্ত থেকে ল্যান্ডিং পর্যন্ত এক দিনে হাজার হাজার বার বিমানটির গতিপথ নজরবন্দি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের যাত্রাপথটি আঁটসাঁট নিরাপত্তার জালে মুড়ে ফেলে রুশ পাহারাদার প্রযুক্তি। ফলে পুরো রুটেই নজিরবিহীন সতর্কতা বজায় রাখা হয়। ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের পর বিমানটিকে নজরদারি বিমানের সঙ্গে দেখা গেছে বলে সূত্রের দাবি।

ফ্লাইট রাডার ২৪ থেকে প্রাপ্ত সূত্র অনুসারে, ভ্লাদিমির পুতিনের জেট বিমানটি বৃহস্পতিবার গোটা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি নজরদারির আওতায় থাকা বিমান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভারত সফরের পথে নয়া নজির গড়ে ফেলেছে পুতিনের ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বা উড়ন্ত দুর্গটি।পিটিআই/রয়টার্স/ এনডিটিভি।

শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু!
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিতে প্রথমদিকে অনিচ্ছুক ছিল তেল আবিব। অনেকের মতে, ইসরায়েল শুধু যুদ্ধ অব্যাহত রাখতেই আগ্রহী ছিল না, বরং এই সংঘাত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান ও ভাবমূর্তির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।

সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার একটি ফোনালাপের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতে এমন ধারণা তৈরি হয় যে, নেতানিয়াহু অনেক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ধারণা করা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত না করতে এবং বৈরুতকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করেছিলেন। 

এ তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর ইসরায়েলের একটি অংশের কাছে নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে শুধু একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবেই নয়, বরং ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকেও উপেক্ষা করতে প্রস্তুত একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন।

ফলে যখন তাকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়, তখন বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তার জন্য খুব ইতিবাচক বার্তা বহন করেনি। 

অনেক ইসরায়েলির মধ্যে এমন প্রত্যাশাও ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সমঝোতা বা আলোচনাকে ভেস্তে দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুর হাতে কোনো না কোনো গোপন কৌশল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী অংশের স্বার্থ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। 

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই সংঘাত অপরিহার্য। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি প্রতিষ্ঠা।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এর পেছনে কেবল নিরাপত্তা বা কৌশলগত বিবেচনাই নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও কাজ করছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য নির্বাচন এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রশ্নে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

থিও/

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু এবং ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) এই দুর্যোগের ফলে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও পরিবহন অবকাঠামো ভেঙে পড়ে এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বেশ কিছু অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করার পর জরুরি উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাও অঞ্চলের উপকূলবর্তী এলাকা, যা ওই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও পরিবহন কেন্দ্র ‘জেনারেল সান্তোস সিটি’র কাছাকাছি অবস্থিত।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পের ফলে বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়াসহ ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আটকেপড়াদের উদ্ধারে ইতোমধ্যে তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে পরবর্তীতে সমুদ্রের ঢেউয়ের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে অনেক জায়গার সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় বা কমিয়ে আনা হয়।

তা সত্ত্বেও, পূর্বসতর্কতা হিসেবে উপকূলীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের ওপরও। নিরাপত্তার স্বার্থে ‘জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়, যার ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পে ডজন খানেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৩০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে পুনরায় প্রবেশ না করার জন্য বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

জনপ্রিয় পর্যটন ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের বড় আকারের প্রাকৃতিক বিপর্যয় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, এই ঘটনাটি আবারও তা মনে করিয়ে দিল।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইন ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ফলে এখানে প্রায়শই ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

মিন্দানাওজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। এরই মধ্যে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোকে সব ধরনের সহায়তা দিতে এবং চলমান ঝুঁকিগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করতে সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ও হেলথ ইনস্যুরেন্স জার্নাল

তামান্না রুপা/

ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা
ছবি: আল জাজিরা থেকে

ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ইসরায়েল ইরানের মাহশাহরের কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্যবস্তু করার পর এই হামলা চালাল ইরান।

কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি ফ্লেক্সিবল ফোম এবং রিজিড ফোম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উৎপাদন করে। এই রাসায়নিকগুলোর মধ্যে একটি হলো টলুইন ডাইআইসোসায়ানেট (টিডিআই), যা এই অঞ্চলে একমাত্র ইরানই উৎপাদন করে থাকে।

বৈশ্বিক সরবরাহের ক্ষেত্রে, এই রাসায়নিকের ইরানি রপ্তানি মোট বাজারের ২ শতাংশেরও কম, তাই এর প্রভাব ততটা গভীর নয়।

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইসরায়েলের হাইফায় একটি রাসায়নিক কারখানায় হামলা চালিয়েছে।

তারা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, এই অঞ্চলে বেসামরিক ও জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুতে আরও হামলা হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী থাকবে।

থিও/অমিয়/

ইরানের হামলায় চুক্তির কোনো পরিবর্তন হবে না: ট্রাম্প

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
ইরানের হামলায় চুক্তির কোনো পরিবর্তন হবে না: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই হামলার কারণে চুক্তির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটন যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছালে, তা মেনে নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর আর কোনো উপায় নেই বলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

একই সঙ্গে আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা না বাড়িয়ে নেতানিয়াহুকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের মূল চাবিকাঠি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র তার হাতেই।

টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘নেতানিয়াহুর সামনে আর কোনো বিকল্প থাকবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমিই নিই। সব সিদ্ধান্ত আমার। তিনি এখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নন‘’

গত এপ্রিলের শুরুর দিকে হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের ওপর ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই কড়া বক্তব্য সামনে এল।

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের কড়া বার্তা

ফক্স নিউজ ও অ্যাক্সিওসকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার নির্দেশ দেবেন। তবে ট্রাম্পের এই অবস্থান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া বিবৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প টেলিফোনে নেতানিয়াহুকে আপাতত শান্ত থাকতে বলেছেন কারণ ‘একটি ভালো চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি আমরা’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী প্রথমে এর বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের কথায় ‘এক প্রকার রাজি’ হয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই মুহূর্তে ইসরায়েল থেকে বড় কোনো হামলার আশঙ্কা নেই।’

ট্রাম্পের ইরান পরিকল্পনা

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। তবে (ইসরায়েলে হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো) এমন কোনো বড় আঘাত ছিল না যা সব ওলট-পালট করে দেবে।’

তবে গত এপ্রিলের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পকে যতটুকু আশাবাদী দেখাচ্ছিল, তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির বিষয়ে এবার তার কণ্ঠে ততটা দৃঢ়তা শোনা যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় চুক্তিটি এগিয়ে চলছে। দেখা যাক কী হয়।’

ইরানের এই হামলা তার নিজস্ব সমীকরণে কোনো প্রভাব ফেলবে না উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তিটি তার নিজস্ব যোগ্যতায় সফল হতেও পারে, আবার নাও পারে। তবে এই হামলার কারণে এতে কোনো প্রভাব পড়বে না।’

ইরান অভিযানের প্রস্তুতি

যদি এই চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তবে কী করা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানে কমান্ডো অভিযানের কথা বিবেচনা করবেন। তিনি বলেন, ‘সেক্ষেত্রে দুটি বিষয় ঘটতে পারে। প্রথমত, আমরা সরাসরি সেখানে ঢুকে সামরিকভাবে বাকি জায়গাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেব, যা আগে করা হয়নি। অথবা আমরা ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ বজায় রাখব। কারণ এই অবরোধ সম্ভবত দেশটির ওপর হওয়া যেকোনো সামরিক হামলার চেয়েও বেশি শক্তিশালী।’

গত সপ্তাহে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের একটি তুমুল উত্তপ্ত ফোনালাপের পর তার এই মন্তব্যগুলো সামনে এল। জানা গেছে, সেই ফোনালাপে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুকে বলেন, ‘তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? আমি না থাকলে আজ তুমি জেলে থাকতে। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এসবের কারণে সবাই এখন ইসরায়েলকে ঘৃণা করছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে সেই ফোনালাপের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং ফোনালাপের ভেতরের এসব বক্তব্যের বিবরণ নিয়ে কোনো দ্বিমত পোষণ করেননি। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

আবারও ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ কানাডার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
আবারও ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ কানাডার
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কানাডা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এই পরিস্থিতি চলমান আলোচনা এবং শান্তির সম্ভাবনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

সোমবার (৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কানাডার পররাষ্ট্রবিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, আমরা উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এই সংকটের সমাধান এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি টেকসই কূটনৈতিক সমাধান অপরিহার্য।

এদিকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। জবাবে ইরানের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা 

সালমান/