গাজার পর এবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল স্থায়ীভাবে দখল করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ড ছাড়বে না। বরং লিতানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বিশাল এলাকা দখল করে সেখানে স্থায়ী ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তোলা হবে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কাটজ এই অভিযানে গাজা উপত্যকায় অনুসৃত ‘জাতিগত নির্মূল’ ও ধ্বংসযজ্ঞের মডেল প্রয়োগ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কাটজ স্পষ্ট করেছেন যে, এই সামরিক অভিযানের শেষে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননের ভেতরে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করবে এবং লিতানি নদী পর্যন্ত পুরো এলাকার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার বাস্তুচ্যুত লেবানিজ বাসিন্দাদের তাদের ঘরবাড়িতে ফিরতে বাধা দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “সীমান্ত সংলগ্ন লেবাননের গ্রামগুলোর সমস্ত ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। গাজার রাফাহ এবং বেইত হ্যানুন মডেলে এই ধ্বংসলীলা চালানো হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলি মন্ত্রীর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। গাজার মতো লেবাননেও জনবসতিহীন একটি ‘বাফার জোন’ তৈরির এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ও মানবিক সংকটকে আরও উসকে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতার যে চিত্র বিশ্ববাসী দেখেছে, লেবাননেও একই ধরণের ধ্বংসযজ্ঞের হুমকি নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মাহফুজ/