ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

পাওনা টাকা চাওয়ায় কুপিয়ে হত্যা, ২ যুবকের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০৪:৩৬ পিএম
পাওনা টাকা চাওয়ায় কুপিয়ে হত্যা, ২ যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ছবি : খবরের কাগজ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়ায় মোবাইলফোন দোকানের সেলসম্যানকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার (১৫ মে) রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহা. মহিদুজ্জামান এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিনুল ইসলাম ওরফে শাওন (৩০) নাটোরের লালপুর উপজেলার কাজিপাড়ার মৃত সানাউল্লাহর ছেলে ও মাসুদ রানা (২৬) বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের আকমল হোসেনের ছেলে। এ ছাড়া মেহেদী হাসান রকি (২৫) নামে অপর এক আসামিকে তিন বছর কারাদণ্ড দেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত জহুরুল ইসলাম (২৩) বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম বাজার এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি উপজেলার পানিকুমড়া বাজারের মেহেদী হাসান মনির টেলিকম ও ইলেক্ট্রনিকসের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করতেন। ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি একটি আমবাগানে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বিক্রি করা স্মার্টফোনের পাওনা টাকা চাওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, আসামি মাসুদ রানা ও শাওন নিহত জহুরুলের কাছ থেকে ব্যবহারের জন্য বাকিতে তিনটি স্মার্টফোন কিনেছিলেন। জহুরুল তাদের টাকার জন্য চাপ দিতেন। কিন্তু মাসুদ ও শাওন টাকা জোগাড় করতে পারছিলেন না। তাই তারা জহুরুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টাকা দেওয়ার নাম করে কৌশলে একটি আমবাগানে ডাকা হয়। জহুরুল সেখানে গেলে শাওন ও মাসুদ তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর জহুরুলের কাছে থাকা ২৮টি স্মার্টফোন ও নগদ ২৫ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। এরপর মোবাইল ফোনগুলো অন্য আসামি রকির কাছে রাখেন।

তিনি আরও জানান, ওই বছরের ৬ জানুয়ারি বাঘার তেথুলিয়া শিকদারপাড়া গ্রাম থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার ভাই বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তদন্তে দুইজনের নাম পাওয়া যায়। পরে পুলিশ তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এনায়েত করিম/সালমান/

এমপি আনার হত্যা, ৩ আসামি রিমান্ডে

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৫:৪৬ পিএম
এমপি আনার হত্যা, ৩ আসামি রিমান্ডে
ছবি : খবরের কাগজ

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (২৪ মে) আদালত এই নির্দেশ দেন। আসামিদের রিমান্ড চেয়ে পুলিশের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত এ আদেশ দেন।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (আদালতে দায়িত্বরত) এসআই জালাল উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, রিমান্ড শুনানিতে কোনো আইনজীবী আসামিদের পক্ষে দাঁড়াননি।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি আব্দুস সাত্তার দুলাল বলেন, এই ঘটনাটি নৃশংস। কাউকে এভাবে হত্যা করা যায় ভাবলে গা শিউরে ওঠে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অবশ্যই এ মামলায় রিমান্ড পাওয়া উচিৎ। আর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো শিলাস্তি রহমান আদালতের কাছে দাবি করেন, এসব ঘটনার কিছুই তিনি জানেন না।

পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আদালত আসামিদের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুক্রবার (২৪ মে) তাদেরকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুল ইসলাম আদালতে এই রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিন আসামি হলেন- শিমুল ভূইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূইয়া ওরফে আমানুল্যা সাইদ, তানভীর ভূইয়া ও শিলাস্তি রহমান।

উল্লেখ্য এমপি আনার গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে। ১৩ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন আনার।

পরে গত ১৮ মে বরাহনগর থানায় আনার নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করেন তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। এরপরও খোঁজ মেলেনি তিনবারের এই সংসদ সদস্যের। তিনদিন পর গত ২২ মে গণমাধ্যমে খবর আসে, কলকাতার পার্শ্ববর্তী নিউটাউন এলাকায় বহুতল সঞ্জীবা গার্ডেনস নামে একটি আবাসিক ভবনের বিইউ ৫৬ নম্বর রুমে আনার খুন হয়েছেন। তবে এখনও তার মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

এদিকে এমপি আনার নিখোঁজের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় অপহরণ মামলা করেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। মামলায় তিনি কাউকে আসামি করেননি। পরে পুলিশ আটক এই তিনজনকে এই মামলায় আসামি করে।

মামলার এজাহারে ডরিন উল্লেখ করেন, ৯ মে রাত ৮টার দিকে আমার বাবা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সংসদ সদস্য ভবনের বাসা থেকে গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ১১ মে ৪টা ৪৫ মিনিটে বাবার সঙ্গে মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বললে বাবার কথাবার্তায় কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর বাবার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে বন্ধ পাই।

‘১৩ মে আমার বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ আসে। মেসেজে লেখা ছিল- ‘আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সঙ্গে ভিআইপি আছে। আমি অমিত শাহের কাছে যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নেই। পরে ফোন দেবো।’

‘এ ছাড়াও আরও কয়েকটি মেসেজ আসে। মেসেজগুলো বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে।’

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আমরা বিভিন্ন জায়গায় বাবার খোঁজখবর করতে থাকি। আমার বাবার কোনো সন্ধান না পেয়ে বাবার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস কলকাতার বারানগর পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করেন। বাবাকে খোঁজাখুজি অব্যাহত রাখি। পরবর্তীসময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাবাকে অপহরণ করেছে। বাবাকে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুজি করেও পাইনি।

মাহমুদুল আলম/এমএ/

 

পি কে হালদারের দুই সহযোগীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:২৩ এএম
পি কে হালদারের দুই সহযোগীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে গ্রেপ্তার পি কে হালদারের সহযোগী ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তৎকালীন দুই পরিচালক বাসুদেব ব্যানার্জি ও তার স্ত্রী পাপিয়া ব্যানার্জিকে ৪ জুনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। 

তাদের জামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ মে) এ নির্দেশ দেন আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। শুনানিতে দুদকের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। বাসুদেব ব্যানার্জি ও পাপিয়া ব্যানার্জির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী। 

গত ৯ মে পৃথক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বাসুদেব ব্যানার্জি ও পাপিয়া ব্যানার্জির ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের বেঞ্চ। জামিনের শর্ত ছিল পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তারা বিদেশ যেতে পারবেন না।

হাইকোর্টের দেওয়া এ জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক আবেদন করলে ১৩ মে তা মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ সংশোধন ও প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে আসামিপক্ষ। শুনানি শেষে তাদের ৪ জুনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

বেনজীরের ৩৩ অ্যাকাউন্টসহ সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ০৯:৪৬ পিএম
বেনজীরের ৩৩ অ্যাকাউন্টসহ সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের ২৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ মোট ৩৩টি অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আস্ সামছ জগলুল হোসেনের আদালত এই নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু রাতে খবরের কাগজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, ওই সময় আমি এই আদালতে উপস্থিত ছিলাম না। অন্য একটি মামলায় অন্য একটি আদালতে ছিলাম। আদালত থেকে বের হয়ে বিষয়টি জেনেছি।

আদালতসূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীরের ৮৩টি দলিলের সম্পদ জব্দের আদেশ দেন আদালত।

সম্প্রতি ‘বেনজীরের ঘরে আলাদিনের চেরাগ’ শিরোনামে একটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পুলিশের সাবেক আইজিপি ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের সাহাপুর ইউনিয়নে সাভানা ইকো রিসোর্ট নামে অভিজাত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র। আর তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি কোম্পানি থাকার কথা উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বেনজীরকে ঘিরে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে বেনজীর আহমেদের বাড়ি ও দামি ফ্ল্যাটের খোঁজ পাওয়া গেছে। ঢাকার কাছের এলাকায় তার বিঘার পর বিঘা জমি রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুই মেয়ের নামে বেস্ট হোল্ডিংস ও পাঁচতারা হোটেল লা মেরিডিয়ানের রয়েছে দুই লাখ শেয়ার, পূর্বাচলে রয়েছে ৪০ কাঠার সুবিশাল জায়গাজুড়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ৪৫ কোটি টাকা। একই এলাকায় আরও আছে ২২ কোটি টাকা মূল্যের ১০ বিঘা জমি। যদিও ৩৪ বছর ৭ মাসের দীর্ঘ চাকরিজীবনে বেনজীর আহমেদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট আয় মাত্র ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকার মতো হওয়ার কথা।

প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকে চিঠি দেন জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ৩৪ বছর ৭ মাস চাকরি করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে অবসরে যান। অবসর গ্রহণের পর দেখা যায়, বেনজীর আহমেদের স্ত্রী ও কন্যাদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, যা তার আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক।

বেনজীর আহমেদ তার পদের অপব্যবহার করে আয়ের তুলনায় প্রতিবেদনে উল্লিখিত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, চিঠিতে জানান সুমন। এমন পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী, বড় মেয়ে এবং ছোট মেয়ের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদককে অনুরোধ করেন তিনি।

সড়ক অবরোধ-অগ্নিসংযোগ : ৩০ অটোরিকশাচালকের জামিন নামঞ্জুর

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ০৯:১০ পিএম
সড়ক অবরোধ-অগ্নিসংযোগ : ৩০ অটোরিকশাচালকের জামিন নামঞ্জুর
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, বাস ভাঙচুর ও পুলিশকে আহতের ঘটনায় করা দুই মামলায় ৩০ অটোরিকশাচালকের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।  

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পৃথক এ আদেশ দেন। 

তার মধ্যে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত মিরপুর মডেল থানার মামলায় ১৫ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। অন্যদিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত পল্লবী থানার মামলায় আরও ১৫ জন আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

জামিন নামঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন অনিক, আবু বক্কর, আলী হোসেন, সাগর মৃধা, সাগর শেখ, বকুল হোসেন, নুরুল ইসলাম, মাজেদ আলী, মোতাহার হোসেন, দুলু মিয়া ওরফে বুলু, নবী হোসেন, শাহাবুদ্দিন, নুরুল আমিন, জুনায়েদ, জাকির হোসেন, রানা চৌধুরী, রাসেল, জাকির হোসেন, মেহেদী হাসান, আব্দুল মোতালেব, জালাল শরীফ, মোরসালিন মিয়া, শাহজাহান মিয়া, রাসেল, ওয়াজিব, আনোয়ার হোসেন, আতাউর রহমান, সুমন, নুর মোহাম্মদ ও শরীফ।

গত ১৯ মে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁও, মিরপুর-১, ১০ এবং আশপাশের এলাকায় অটোরিকশাচালকরা সড়ক অবরোধ করেন। ওই সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনরত রিকশাচালকরা সড়কে বসে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে কর্মসূচি থেকে বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর ও মিরপুরের কালশীতে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় তিন থানায় চারটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় প্রায় আড়াই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

ন্যায়বিচার পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার : প্রধান বিচারপতি

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম
ন্যায়বিচার পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার : প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। ছবি : খবরের কাগজ

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, দেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়া তার মৌলিক অধিকার। 

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকালে রংপুর জেলা জজ কোর্ট চত্বরে বিচারপ্রার্থী ও সাক্ষীদের বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, সবাই যাতে সুষ্ঠুভাবে ন্যায়বিচার পান, সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে বিচার বিভাগ। দেশে জেলা জজ কোর্ট এলাকায় ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণ করা হবে। যাতে মামলার জামিনে থাকা আসামি, সাক্ষীসহ বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়কুঞ্জে বিশ্রাম নিতে পারেন।

ন্যায়কুঞ্জ উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম সাইফুর রহমান, রংপুরের জেলা জজসহ জেলার বিভিন্ন আদালতের বিচারকরা। ন্যায়কুঞ্জ উদ্বোধনের পর রংপুরের বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধান বিচারপতি।

রংপুর জেলা জজ কোর্ট চত্বরে প্রায় ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণ করা হয়েছে।