জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।
বুধবার (২০ নভেম্বর) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।
প্রথম দিনের শুনানি শেষে পরবর্তী শুনানির জন্য পরের বুধবার দিন ধার্য করেন আদালত।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া ও অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ।
এর আগে ৩ নভেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য নিজ খরচে পেপারবুক তৈরির অনুমতি দেন হাইকোর্ট।
২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ তিন আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন আদালত। এছাড় কাকরাইলে ট্রাস্টের নামে কেনা ৪২ কাঠা জমি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের অনুকূলে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া।
অন্যদিকে বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মো. আবু তাহের দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
এই মামলার শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী তার পক্ষে হাজিরা দেন। এদিন খালেদা জিয়া ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন তাদের আইনজীবী। এদিন শুনানি শেষ না হওয়ায় নতুন দিন ধার্য করেন আদালত।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় মোট আসামি ছিলেন ১৩ জন।
এর মধ্যে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ফাঁসি হয়েছে। অন্য আসামি ব্যারিস্টার আমিনুল হক ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল মারা যান।
বর্তমানে খালেদা জিয়া ছাড়াও এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক কৃষিমন্ত্রী এম কে আনোয়ার, সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম, মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান এবং সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশারফ হোসেন।
এলিস/মেহেদী/এমএ/