ভূমিকম্প থেকে মানুষকে রক্ষা ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পরিকল্পনা করছে সরকার। সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।
এতে সভাপতিত্ব করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ সভায় ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যাগে করণীয় কী, কীভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র খবরের কাগজকে এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ভূমিকম্প বিষয়ে আজ (গতকাল রবিবার) দিকনির্দেশনার খসড়া তৈরি হচ্ছে, যা সোমবার (আজ) অনুষ্ঠেয় সভায় উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সারা দেশে ‘ইউটিলিটি’ সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সরকারেরই এই সংস্থাগুলোর কোনোটির একটির সঙ্গে অন্যটির সমন্বয় নেই।
সরকারের উচ্চপদস্থ এ কর্মকর্তা বলেন, দুর্যাগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানে না দেশের কোন এলাকা দিয়ে গ্যাসলাইন বসানো হয়েছে, পানির লাইন কোথায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা কোথা দিয়ে হয়েছে। এখন ভূমিকম্পের মতো বড় কোনো দুর্যোগ হলে কীভাবে ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব? এসব সার্ভিস যদি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো, তাহলে দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সম্ভব হতো।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের (ইডেন ভবন) নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মুনতাসির মানমুন খবরের কাগজকে বলেন, ভূমিকম্পের পর পরই সচিবালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামো পরীক্ষা করা হয়েছে। ভয় পাওয়ার মতো তেমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, সচিবালয়ের বেশির ভাগ ভবন পুরোনো। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ভবন ভেঙে সেখানে নতুন আধুনিক একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একনেকে পাস হলেই পুরোনো ভবন দুটি ভেঙে সেখানে নতুন ভবন তৈরি করা হবে। এভাবে ধারাবাহিকভাবে পুরোনো ভবনগুলো অপসারণ করা হবে।
একই অধিদপ্তরের অপর নির্বাহী প্রকৌশলী (ইইই) নিয়াজ মো. তানভীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, গত শুক্রবারের পর তাৎক্ষণিকভাবে সচিবালয়ের সব ভবনের লিফট ও অন্য ইলেকট্রিক লাইন ও পরিষেবাগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। তেমন কোনো সংকট দেখা যায়নি। সচিবালয়সংক্রান্ত একটি মাস্টারপ্ল্যান হয়েছে জানিয়ে এই প্রকৌশলী বলেন, পর্যায়ক্রমে পুরোনো ভবনগুলোর স্থলে নতুন ভবন হবে। তখন মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সবকিছুই করা হবে। তবে সচিবালয়ের ভেতরে দুটি ইলেকট্রিক সাবস্টেশন রয়েছে জানিয়ে তানভীর আলম বলেন, এই সাবস্টেশন দুটি রিপ্লেস করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। একনেকে অনুমোদন হলে এ দুটি পুরোনো সাবস্টেশন পরিবর্তন করা হবে।