দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে তারা ১১তম গ্রেডে বেতন পেতেন। এখন তা বাড়িয়ে দশম গ্রেড করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী তাদের আগের বেতন ছিল ১১তম গ্রেডে। সেই গ্রেডে বেতন ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা পর্যন্ত।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। এই গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার টাকা থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত। এ গ্রেডটি গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য।
এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীত করার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এই প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৬৫ হাজার ৫০২ জন প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। তাদের সবার বেতন স্কেল ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়।
সভায় জানানো হয়, এর আগে রিট পিটিশনের ভিত্তিতে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী তাদের জন্য সরকারি আদেশও জারি করা হয়। এই ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের ধারাবাহিকতায় বাকি ৬৫ হাজার ৫০২ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি দেয়।
অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগও এতে সম্মতি দেয়। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ এই পদগুলোর জন্য দশম গ্রেড নির্ধারণ করে। সব দিক বিবেচনা করে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনার শেষে সভায় উপস্থিত সবাই একমত হন। তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।