ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা দুলু

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:২৮ পিএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৪, ০২:২৮ পিএম
হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা দুলু
অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু

হার্ট অ্যাটাক হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। 

শনিবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। 

দুলুর ব্যক্তিগত সহকারী শামসুল আলম রনি জানান, শনিবার রাতে বাসায় হার্ট অ্যাটাক করলে তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
 
দুলুর রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

রদবদলে চাপা ক্ষোভ বিএনপিতে

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১০:০৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১০:১২ এএম
রদবদলে চাপা ক্ষোভ বিএনপিতে

দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে বড় রদবদল করেছে বিএনপি। দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, আবার কাউকে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ বিএনপিতে এত বড় রদবদলের ঘটনায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে নেতা-কর্মীদের মাঝে। তবে প্রকাশ্যে কেউই মুখ খুলছেন না। 

বিএনপির সূত্রমতে, এবার একই প্রক্রিয়ায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির ৫টি শূন্য পদ, ভাইস চেয়ারম্যান ১১টি শূন্য পদ পূরণ করা হবে। পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে পরিবর্তন আসছে। সবমিলিয়ে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দুই শতাধিক নেতাকে বিভিন্ন পদে রদবদল করা হতে পারে। তবে এখনি বিএনপির কাউন্সিলের আয়োজন করার সম্ভাবনা খুবই কম।

বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একক ক্ষমতাবলে এই সব রদবদল করেছেন। এই বিষয়ে কিছুদিন ধরে তৎপরতা আঁচ করা গেলেও নীতি-নির্ধারণী ফোরামের অনেক নেতাই বিষয়টি জানতেন না। কমিটিতে এমন কিছু নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে, যারা রাজনৈতিকভাবে আনকোরা ও অপেক্ষাকৃত তরুণ। এতে অনেকে বিরক্ত ও হতাশ। তবে এ বিষয়ে তারা কথা বলতে অবশ্য রাজি নন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘এখন নিজেকে দলের চেয়ে অনেকে বড় মনে করেন। দলের আদর্শের চেয়ে এখন সবাই পদ-পদবি নিতে বেশি আগ্রহী। দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদেরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। যাকে যে পদ দেওয়া হয়েছে, তিনি হয়তো মনে করেন তাকে আরও বড় পদে দায়িত্ব দেওয়া যেত। তবে সবাইকে তো খুশি করা সম্ভব হয় না। সংগঠনকে এগিয়ে নিতে পদ-পদবি ভুলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ 

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, ‘দলের পেছনে কার কি অবদান, তার সঠিক মূল্যায়ন না করা হলে দলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কমিটিতে রদবদলের ক্ষেত্রে আরও যাচাই-বাছাই করা দরকার।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৪৫ জন এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে ২৯ জনসহ মোট ৭৪ জনের পদে রদবদল করা হয়েছে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রায় ৩৫ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, হারুন অর রশিদ- এই চারজনকে যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়েছে। কিন্তু এ চারজন সাংগঠনিকভাবে অনেক দক্ষ। দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছেন। তাদেরকে আসলে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। আবার জালালউদ্দিন মজুমদার, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সায়েদুল হক সাঈদ, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল ফারুক, এস এম গালিব- এই পাঁচজনকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন কমিটিতে কাউকে কাউকে যোগ্যতার তুলনায় বেশি মূল্যায়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত খালেক, রংপুরের সহ-সাংগঠনিক ও নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলামকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, আমিনুল ইসলাম ঢাকায় বসে এত বড় পদে আসীন হলেন কীভাবে? ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবালকে নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হলেও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলকে কোনো পদে পদায়ন করা হয়নি। 

বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী বলছেন, পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বড় লাফ দিয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন ও মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দীন, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ঢাকার আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পরও আজাদ সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে এত বড় পদে কীভাবে পদায়ন পান? আবার কেউ কেউ তদবির করে ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। 

তাদের ভাষ্যমতে, সরোয়ার, আলাল, খোকন, সাবেক এমপি হারুনসহ সাংগঠনিকভাবে দক্ষ কয়েকজনকে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কারাভোগ করার পর তাদের দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। হারুন সংসদে বিএনপির পক্ষ থেকে ভালোই ভূমিকা রেখেছিলেন। এ ছাড়া কিছু নেতার ওপর বিএনপির হাইকমান্ড সন্তুষ্ট ছিলেন না। এই কারণে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবুর রহমান সরোয়ার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রদবদল করা হয়েছে। দলকে শক্তিশালী ও আন্দোলনমুখী করতেই হাইকমান্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমাদেরকে উপদেষ্টা বানিয়ে কীভাবে কাজে লাগাবে- এটা এখন দেখার বিষয়।’ 

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহবুবউদ্দিন খোকন খবরের কাগজকে বলেন, ‘রদবদল স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দীর্ঘ ১৩ বছর যুগ্ম মহাসচিব ছিলাম, এখান থেকে পরিবর্তন দরকার ছিল। বর্তমান পদ নিয়ে আমি খুশি আছি।’ তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমি বিএনপির রাজনীতি করি। দলের প্রয়োজনে যেকোনো পোস্ট-পজিশনে কাজ করে যাব। আমি মনে করি, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দলে পরিবর্তন আসতে পারে। একজন কর্মী হিসেবে দলের আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।’ 

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাকে নিয়ে দল ও আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিশ্চয়ই উত্তম কোনো পরিকল্পনা আছে।’

২১ সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির আকার বাড়িয়ে ২৯ সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে দুই ভাগে ভাগ করে নতুন কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবার স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, ড. এনামুল হক চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে বেশি মূল্যায়ন পেয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাজভিরুল ইসলাম।

দলের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে- বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক আগের কমিটি যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীনসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই কারণে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তাই বহির্বিশ্বে দলের আন্তর্জাতিক লবিং জোরদার করতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চেয়ার অব দ্য কমিটি করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে। যদিও এর আগে নেতৃত্বে ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন, ঢাকাসহ তিন মহানগর, যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটিতে রদবদলে দপ্তরে দায়িত্ব থাকা কয়েকজন নেতাসহ বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল ও তারেক রহমানের এপিএস লন্ডনে অবস্থানরত আব্দুর রহমান সানির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। দলটির একাধিক নেতা বলছেন, কমিটি গঠন নিয়েও নানা কথা রয়েছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব নেতারা বিশেষ গুরুত্ব পান। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাদেরও বড় অংশগ্রহণ ছিল। তাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত নেতাদের ভালো পদে পদায়ন করা হয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু খবরের কাগজকে বলেন, ‘রদবদল দলের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। সাংগঠনিকভাবে কিছু পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটা একটি রাজনৈতিক ঘটনা। এই পরিবর্তন যাদের পক্ষে গেছে তারা খুশি, আবার যাদের বিপক্ষে গেছে তারা অখুশি। তবে এই পরিবর্তন দলকে কতটা শক্তিশালী করেছে, রাজপথে কতটা সক্রিয় করতে পারছে- তা দেখতে কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই প্রক্রিয়ায় স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যানসহ দলের শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ভালো মনে করছেন বলেই পদে পরিবর্তন করছেন।’ 

এ বিষয়ে রকিবুল ইসলাম বকুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

আ.লীগের ঢাকা মহানগর কমিটি: এগিয়ে উত্তর, পিছিয়ে দক্ষিণ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১০:০৫ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৫১ পিএম
আ.লীগের ঢাকা মহানগর কমিটি:  এগিয়ে উত্তর, পিছিয়ে দক্ষিণ

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা বারবার উপেক্ষা করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ২০২১-২২ সালে সম্মেলন হলেও এখনো থানা ও ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করতে পারেননি তারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর নির্দেশনার পর মহানগর উত্তরের অন্তর্গত থানা ও ওয়ার্ড কমিটি দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মতৈক্য না হওয়ায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আওতাভুক্ত থানা ও ওয়ার্ড কমিটি জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। যদিও ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগরের বর্তমান কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে।

মহানগর সূত্র জানিয়েছে, ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয় শেখ বজলুর রহমানকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় এস এম মান্নান কচিকে। অন্যদিকে দক্ষিণের সভাপতি হন আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. হুমায়ুন কবিরের নাম ঘোষণা করা হয়। এই চার নেতা ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে সময় নেন প্রায় এক বছর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর মেয়াদের এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০২২ সালের নভেম্বরে। 

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের অন্তর্গত থানা ও ওয়ার্ডগুলোর কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হয় ২০২১ সালের শেষ দিকে। কিন্তু গত আড়াই বছরেও এই কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নগর উত্তরের সাংগঠনিক থানা ২৪টি থানা ও ৬৪টি ওয়ার্ড এবং দক্ষিণের ২৪টি থানা ও ৫৭টি ওয়ার্ডের কমিটি এখনো ঘোষণা হয়নি।  

আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেছেন, ‘অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সব কমিটি জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কমিটি চূড়ান্ত করবেন। যাচাই-বাছাই শেষে এসব কমিটি ঘোষণা করা হবে। আগামী ২৩ জুন দলের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পরে এসব কমিটি ঘোষণা হতে পারে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে মহানগরের সব থানা ও ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করে জমা দিতে ২০২৩ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু সে সময়ের মধ্যে কমিটি কেন্দ্রে জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। পরে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয় দলের উচ্চপর্যায় থেকে। তখন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের দ্বন্দ্বের কারণে দুই নেতা আলাদাভাবে কমিটি করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেন। যা গ্রহণ না করে ক্ষিপ্ত হন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি মন্নাফী ও হুমায়ুনকে একমত হয়ে একটি করে কমিটি কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন। 

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী খবরের কাগজকে বলেন, “আমার পছন্দ হলে ওনার (সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির) পছন্দ হয় না। ওনার হলে আমার পছন্দ হয় না। কমিটি নিয়ে এভাবে টানাহেঁচড়া চলছে। আমি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলব। না হলে আমি আগের কমিটি জমা দিয়ে দেব। কোনো খারাপ নেতার পক্ষে আমার ‘সই’ দিতে পারব না। হাইব্রিড কাউকে নয়, ত্যাগী নেতাদের পদে রাখতে চাই। না হলে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেব।”  

কমিটির বিষয়ে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুতই থানা ও ওয়ার্ডের কমিটি কেন্দ্রে জমা দিয়ে দেব। আসলে সভাপতি সাহেব (মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ) অসুস্থ। এ জন্য কমিটি জমা দিতে দেরি হচ্ছে। তবে কমিটি গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’

এদিকে গত ৪ জুন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ তাদের থানা, ওয়ার্ড, ইউনিটের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ করেছে বলে এক অনুষ্ঠানে জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দেরিতে হলেও এই কাজটি অনেক দিন ধরে নেতা-কর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। মহানগর দক্ষিণও আমাকে জানিয়েছে কমিটি জমা দেবে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে আছে বলে জানিয়েছে। আর উত্তর আগেই কমিটি গঠন-প্রক্রিয়া শেষ করেছে।’

আওয়ামী লীগের মহানগর উত্তরের নেতাদের কাছ থেকে জানা গেছে, চলতি (জুন) মাসে সব কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর এসব কমিটি ঘোষণা করা হবে। অবশ্য কমিটি জমা দেওয়ার পরই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কেউ কেউ অনুসারীদের ‘গ্রিন সিগনাল’ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

প্রস্তাবিত ঢাকা মহানগর উত্তরের অন্তর্ভুক্ত তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। ওই থানার একাধিক নেতা জানান, কমিটিতে কারা থাকছেন তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মাধ্যমে সবাই জেনে গেছেন। প্রস্তাবিত ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আছেন নুরুল ইসলাম মোল্লা সুরুজ ও সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন মুহিবুল হাসান। দুজন একই মহল্লায় থাকেন। 

প্রস্তাবিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল হাসানের পেছনে আছেন তার ছোট ভাই যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসান। এই নাজমুলের বিরুদ্ধে জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। নিজের বদলে টাকা দিয়ে আরেকজনকে জেল খাটতে পাঠিয়ে আলোচিত নাজমুল। বর্তমানে তিনি জেলে আছেন। তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আমাকে আউট করে থানা কমিটি দেওয়া হচ্ছে বলে শুনতে পেয়েছি। যাদের দেওয়া হচ্ছে, তারা অযোগ্য। থানা কমিটি সামলানোর সক্ষমতা তাদের নেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সবাই অবাক হয়েছেন। হাসিঠাট্টা হয়েছে এলাকায়।’

মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিতর্কিত কেউ কমিটিতে ঢুকলে আমরা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেব।’ তুরাগ থানার কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা যা শুনছেন, আমাদের কানেও তা এসেছে। তবে কমিটি ঘোষণা হওয়ার আগে কিছু বলা যাবে না।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান মির্জা ফখরুলের

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ১০:৩০ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ১০:৩০ পিএম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান মির্জা ফখরুলের
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দিয়ে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য মায়ানমারকে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। দেশের জনগণ রোহিঙ্গাদের নানা ধরনের দুর্যোগ, যেমন- ক্ষুধা, আবাসন, বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। অথচ তাদের নিজ দেশে ফেরাতে তাঁবেদার ডামি আওয়ামী সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।’

বুধবার (১৯ জুন) রাতে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মনির হোসেন সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে এই বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব। 

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আমি বিশ্বের সব শরণার্থীকে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রতি আন্তরিক সংহতি জ্ঞাপন করছি। সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত প্রায় ১২ কোটি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। জাতিসংঘ ক্রমবর্ধমান সংখ্যাটিকে ‘বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর ওপর ভয়ংকর অভিযোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।” 

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর দেশে দেশে উদ্বাস্তু সমস্যা আজও ভয়াবহ ও অমানবিক। বিশ্ব নাগরিকদের সহজাত কিছু অধিকার রয়েছে, যেমন-মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার স্বাধীনতাসহ মানবিক মর্যাদা। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমানভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা খুবই আতঙ্কজনক। শরণার্থীরাও বিভিন্ন দেশে ক্ষুধা ও বেকারত্বের তাড়নায় অপরাধের সঙ্গে জড়িত হওয়ার কারণে স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে। নতুন নতুন সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে।’ 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের নাম জোরেশোরে আলোচিত হবে। রোহিঙ্গা সমস্যার বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে বাংলাদেশ। বিএনপি আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাসহ বিশ্বের সব শরণার্থীকে সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে যেতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমি বিশ্ব শরণার্থীদের প্রতি সমব্যাথী এবং তাদের নিজ দেশে মাথা উঁচু করে ফেরার প্রত্যাশা করছি।’

শফিকুল ইসলাম/সালমান/

বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান চরমোনাই পীরের

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ১০:০৪ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ১০:০৪ পিএম
বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান চরমোনাই পীরের
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম

সিলেট, মৌলভীবাজার, ফেনীসহ উত্তরাঞ্চলের বন্যাদুর্গত মানুষের সাহায্যে সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমাজের বিত্তবান এবং বিভিন্ন সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

বুধবার (১৯ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও মৌলভীবাজারের প্রায় অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। এলাকার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) উপকেন্দ্র প্লাবনঝুঁকির মুখে পড়েছে। সিলেট ও মৌলভীবাজারের আশপাশের বাড়িঘর প্লাবিত হয়ে লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।’ 

রেজাউল করীম বলেন, ‘টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তাসহ প্রধান নদ-নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন অবিরাম বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ইনসাফপূর্ণ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না থাকায় মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। মানুষ অনাহারে, অর্ধাহারে অসহায় জীবনযাপন করছে। ইসলাম মানুষের কল্যাণের জন্য নিবেদিত। কল্যাণকামীতাই ইসলামের বৈশিষ্ট্য। মৌলিক অধিকার ফিরে পেতে সকলকে ইসলামের সুমহান আদর্শে ফিরে আসতে হবে।’

সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আ.লীগের সভা বৃহস্পতিবার

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৬:৪০ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৬:৪০ পিএম
সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আ.লীগের সভা বৃহস্পতিবার
আওয়ামী লীগ

সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যৌথ সভা করবে আওয়ামী লীগ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (১৯ জুন) আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ এবং সব সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সভা করবেন। সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মেয়রকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।