অতীতের মতো বিএনপির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের নেতারাও একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। আগামী নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগে একসঙ্গে বসে জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ারও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারেক রহমান ও তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে তার সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন জামায়াত আমির। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য রাখা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করে তিনি।
পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর বাইরেও তার সংগ্রামী জীবন ছিল। তিনি গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। শেষ জীবনটা জেলে তার একাকীত্ব অবস্থায় কেটেছে। এ সময় যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা অমানবিক আচরণ করেছেন।
জামায়াত আমির বলেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ হলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও সরকার আমলেতো নেয়ইনি, বরং বারবার উপহাস করেছে। আল্লাহর বিচার, শেষ জীবনে তিনি বিদেশে চিকিৎসাও নিয়েছেন। তবে তার অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ব্রিটেন থেকে ফেরার পর তার স্বাস্থ্যে এতটাই ভেঙ্গে যায় যে, দেশেই তার চিকিৎসা নিতে হয়। আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন, জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। একইসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার পরিবারের সদস্য, বিএনপি নেতাকর্মী এবং চিকিৎসাকাজে নিয়োজিত চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়া বিরল সম্মান নিয়ে চলে গেছেন। তার জানাজায় মানুষের উপস্থিতি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সবাই তার জন্য চোখের পানি ফেলেছেন। তার শেষ বিদায় সংবর্ধনায় জাতির পাওনা তিনি পেয়েছেন। এটা সবার কপালে জোটে না। বিশাল ব্যাপার। আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে যে, আমরাও ভালো কাজ করলে জাতি এভাবে সংবর্ধনা দেবে।
তিনি বলেন, দেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ বাকে রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুযারি জাতীয় নির্বাচন হবে, একইদিনে গণভোটও হবে। এই নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্নে, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয়, এই বিষয় নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। আমরা এটাও বলেছি, অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, আগামীতেও যাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারি, সেই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি। তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা এও বলেছি, দেশের স্থিতিশীলতা ও সুন্দর পরিবেশের আগামী পাঁচটি বছর সবাই মিলেমিশে ভাল কিছু চিন্তা করা যায় কিনা-সেই চিন্তা করতে পারি।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি আগামী নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগেই আমরা বসব। খোলামনে বসে জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেব। বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে জাতীয় ঐক্যের পাটাতন তৈরি করে গেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে যেন আমরা দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেই দোয়া কামনা করি।
বেগম খালেদা জিয়ার দাফনের পরদিন আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে যান জামায়াত আমির। সেখানে প্রথমে তার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান নীরব ও মোবারক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিন মঙ্গলবার গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর ও দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সহ প্রতিনিধি দল। বুধবার মরহুমার জানাজাতেও জামায়াত আমিরসহ দলের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
শফিকুল/মাহফুজ