টক ঢেকুর বা চুকা ঢেকুর হলো পেটে অতিরিক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে সালফারযুক্ত ঢেকুর। দ্রুত খাওয়া, ধূমপান অথবা চুইং গাম চিবানোর সময় অতিরিক্ত বাতাসও আমরা গিলে ফেলি, ফলে পেটে এই গ্যাস হয়। হেলথলাইন অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব
টক ঢেকুর সাধারণত রিফ্লাক্স রোগে আক্রান্ত ব্য়ক্তিদের মধ্যে দেখা যায়। সেজন্য বুক জ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাসের অনুভূতি, বারবার বাতকর্ম হওয়া, বমিভাব এবং মুখে দুর্গন্ধের মতো উপসর্গগুলো অনুভূত হয়। খাবার খাওয়ার পর উপসর্গ বেশ গুরুতর আকার নিতে পারে এবং রাতে রোগী পেট উপর দিকে করে শুতে বাধ্য হয়।
কারণ
শরীরে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের সৃষ্টির কারণে চুকা ঢেকুর ওঠে। মুখ গহ্বরে ও পাচনতন্ত্রে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা পেটে যাওয়া খাবারের পচনের ফলে এই গ্যাস উৎপন্ন হয়। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাদ্য ও ব্রকোলির মতো সবজি এবং মদ হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস উৎপন্ন করে। বারবার এবং দীর্ঘস্থায়ী চুকা ঢেকুরের কারণ হলো- গ্যাস্ট্রো-ইসেফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইয়ারডি) ও ইরিটেবেল বাওয়েল সিন্ড্রোমের মতো হজমের রোগ। ফলে পেটের গ্যাস উপরের দিকে উঠে আসায় ঘন ঘন ঢেকুর হয়। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে- খাদ্যে বিষক্রিয়া, বিশেষ ওষুধ, মানসিক চাপ এবং গর্ভাবস্থা।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
ডাক্তার রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে রোগ সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। এরপর নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এর মধ্যে আছে এন্ডোসকপি পরীক্ষা।
খাদ্য তালিকা ও জীবনশৈলীতে পরিবর্তন আনতে পারলে রোগী অনাবশ্যক ও বিরক্তিকর টক ঢেকুর থেকে মুক্তি পেতে পারেন। বিশেষ কিছু ঘরোয়া প্রতিকার চুকা ঢেকুর কমাতে সাহায্য করতে পারে। গ্রিন টি হজমের উন্নতিতে অন্যতম সহায়ক উপাদান, এর দারুণ রকমের ব্যাকটেরিয়ারোধী গুণ রয়েছে। অ্যাপেল সিডার ভিনেগার আরও একটি দুর্দান্ত উপকরণ, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়।
এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে বাড়তে দেয় না। ব্রকোলি, অঙ্কুরিত শুঁটিদানা ও রসুনের মতো গ্যাসবর্ধক খাবারগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। ধূমপান বন্ধ করা উচিত। দুগ্ধজাত খাদ্য কমানো দরকার। মদের মতোই কার্বনেটেড পানীয় গ্রহণ বন্ধ করা উচিত, কারণ এটি চুকা ঢেকুরের অন্যতম কারণ।
কলি


