সাংবাদিক ও লেখকের লেখায় পত্রিকার প্রতিটি পাতা পরিপূর্ণ ও সুসজ্জিত হয়। লেখাগুলোর মর্মার্থ অনুধাবন করে শিল্পীরা সুন্দর চিত্রণ এঁকে পত্রিকাকে করে তোলেন আরও নান্দনিক। লেখক ও সাংবাদিকদের প্রেরিত তথ্য, ছবি, মতামত, সাহিত্যকর্ম ইত্যাদি সম্পাদকমণ্ডলী বিচার-বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত মনে হলে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। সাংবাদিক ও লেখক উভয়ের লেখালেখির প্ল্যাটফর্ম পত্রপত্রিকা এবং পত্রিকার মাধ্যমেই তাদের সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই, ভেদাভেদ নেই, রেষারেষি নেই এবং প্রতিযোগিতা নেই। যে যার দায়িত্ববোধ থেকে সংবাদ, মতামত, সাক্ষাৎকার, সমস্যা, পরামর্শ ইত্যাদি গুরুত্বসহকারে পত্রিকার পাতায় তুলে ধরার চেষ্টা করছে। লেখালেখির সূত্রে গাঁথা একে-অপরের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল।
নতুন নতুন পত্রিকা আত্মপ্রকাশের পাশাপাশি একদিকে সাংবাদিক ও লেখকের সংখ্যা বেড়েছে অন্যদিকে তাদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বেশকিছু সংগঠন বা পরিষদ। লেখক ও সাংবাদিকরা যাতে একে অপরের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করতে পারে, পরিচয় হতে পারে, মেলামেশা করতে পারে এবং আলাপ-আলোচনা করতে পারে সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণ প্রত্যাশা করে, লেখক ও সাংবাদিকরা সমাজের নানাবিধ সমস্যা শনাক্ত করে যৌথভাবে মতপ্রকাশের মাধ্যমে সমাধানের উপযুক্ত পথ নির্ধারণে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। সাংবাদিক ও লেখকের মধ্যকার সম্পর্কের যত্ন নেওয়ার জন্য এবং তাদের বন্ধন আরও দৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন সেমিনার, শিক্ষামূলক সমাবেশ, আলোচনা সভা, তর্কবিতর্ক বৈঠক, মিলনমেলা উৎসব ইত্যাদি প্রোগ্রামের আয়োজন করতে হবে। এ ব্যাপারে সমাজের সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, গবেষক, বুদ্ধিজীবী ও গুণীজনদের মতামত, পরামর্শ, দিকনির্দেশনা একান্ত প্রয়োজন।
পলাশ কুণ্ডু
এলএলবি (পাস), রংপুর আইন কলেজ
[email protected]