ঈদুল আজহা মানেই মুসলিমদের ত্যাগের মহিমা, ধর্মীয় আবেগ আর আনন্দের এক অনন্য আয়োজন। আর এই আয়োজনের সবচেয়ে প্রাণবন্ত অংশ হলো কোরবানির পশুর হাট। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বর্তমানে রাজধানীসহ সারা দেশে কোরবানির পশুর হাট জমজমাট হয়ে উঠছে। দেশের প্রতিটি জেলার আনাচে-কানাচে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বাসহ সব জায়েজ কোরবানি পশুর জোগান বাড়ছে। সেই সঙ্গে কোরবানি পশুর হাটে সব ধরনের লোকসমাগম হয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে পশু কেনাবেচা। মানুষের এই ব্যাপক সমাগমের কারণে নিরাপত্তাঝুঁকিও বেড়ে যায়। প্রতি বছরই হাটে চুরি, ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা, জাল টাকার সমাহার, চোরাচালানসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। ফলে কোরবানি পশুর হাটকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাটগুলোতে নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ দেওয়া উচিত। আবার, সম্পূর্ণ হাটে নজরদারিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা দরকার এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কোরবানির হাটে জাল টাকার ছড়াছড়ি বেশি হয়ে থাকে। তাই জাল টাকা প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সহায়তায় হাটে বিশেষ বুথ স্থাপন করা জরুরি। মাইকিং, ব্যানার ও প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করতে হবে যাতে তারা অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু না খায় এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানায়। তাই কোরবানি হাটের নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার ও প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. শাহরিয়ার সৌরভ
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
[email protected]