ডিজিটাল যুগে অনলাইন ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে বেড়েছে একটি ভয়ংকর প্রতারণা অনলাইন লোন অ্যাপ বা নকল লোন কোম্পানির আড়ালে চলে ব্ল্যাকমেইল। প্রতারকরা আকর্ষক বিজ্ঞাপনে ‘এক মিনিটে ঋণ’, ‘বিনা জামানতে টাকা’ বলে মানুষকে অ্যাপ ডাউনলোড করায় এবং গ্যালারি, কন্টাক্ট, লোকেশনসহ ব্যক্তিগত ডেটা অ্যাক্সেস নেয়। প্রথমে সামান্য টাকা পাঠিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করা হয়; পরে ভেরিফিকেশন ফি, সুদ বা জরিমানা দাবি করে অর্থ আদায় শুরু হয়। টাকা দিতে না পারলে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও বা কন্টাক্ট লিস্ট ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ভয় দেখানো হয়। কখনো কৃত্রিম পর্নো ভিডিও বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। ফলে অনেকের মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে, কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো পরিণতিও দেখা দিয়েছে।
রক্ষা পাওয়ার উপায় আছে: যেকোনো লোন অ্যাপ ব্যবহারের আগে সরকারের অনুমোদন যাচাই করুন; অযথা গ্যালারি/কন্টাক্ট/লোকেশন পারমিশন দেবেন না; জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক ডেটা বা ব্যক্তিগত ছবি অপরিচিত সাইটে আপলোড করবেন না; সন্দেহ হলে স্ক্রিনশট ও সব বার্তা সংরক্ষণ করে থানায়, বিশেষ করে পুলিশের সাইবার ইউনিটে (উদাহরণ: cybercrime.gov.bd বা প্রযোজ্য হেল্পলাইনে) অভিযোগ করুন। সরকারকে অনলাইন লোনের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, টেলিকম ও পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে প্রতারণা শনাক্তকরণ অ্যালগরিদম চালু করা এবং গণমাধ্যমে ডিজিটাল সুরক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধি করাই সমাধান। ভয় নয়, সচেতনতা ও প্রতিবাদ প্রতারকের হাত দুর্বল করে। একা লজ্জা করবেন না, পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন এবং কখনো অবৈধ চাপে টাকা দেবেন না।
সাদিয়া সুলতানা রিমি
শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]