ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণে পৃথক অধিদপ্তর গঠনের আশ্বাস দিলেন মির্জা ফখরুল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা হরিণাকুন্ডুতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য বিপদ: এরদোয়ান সিলেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে প্রশাসনের অভিযান মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্ট কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে প্রথমবার মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়াল ব্যক্তিগতভাবে আমি মৃত্যুদণ্ড বিরোধী: আইনমন্ত্রী বাংলা কিউআর: ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে নতুন বিপ্লব ভ্যানচালকের আর্জেন্টিনা প্রেম মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা: আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় প্রশংসা সৌদি হজমন্ত্রীর অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা বাড়ছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ সংস্থা বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি? পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তি অনিশ্চিত কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের ডিসি বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে চার স্তরে মজুত, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নারী ও শিশুর সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ভোটের দায়িত্বে মারা গেলে ১০ লাখ টাকা পাবে পরিবার মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পোশাক শিল্পের জন্য অশনি সংকেত: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে আলোচনা বিলম্ব করার ‘মূল্য দিতে হবে’: ট্রাম্প আড়াইহাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থী আহত সিংগাইরে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু: ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা সরকারি ভাতা বিতরণে নগদের প্রতি আস্থা অব্যাহত
Nagad desktop

বারে বারে: নতুন আসে দ্বারে

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
বারে বারে: নতুন আসে দ্বারে
শিহাব শাহরিয়ার

যখন বাঙালির একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে গেছে, সমাজ কাঠামোর ভেতরে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে, তখন আপনাকে চিন্তা করতে হবে, আপনি একা এবং এই একা একজন শক্তিধর মানুষ। আপনার সাহস, আপনার মেধা, বুদ্ধি, যোগ্যতা ও ধীশক্তিই আপনার পাথেয়। আপনি ছুটে চলুন নতুনকে আহ্বান জানিয়ে, নতুন আলো অন্যরকম। তাকান, দেখুন আপনার দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে- নতুন আলো।...

রবীন্দ্রনাথ লিখলেন, ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,/ ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,/ আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা...’ আর নজরুল লিখলেন, ‘ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখির ঝড়।/ তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!/ তোরা সব জয়ধ্বনি কর্’!! বাংলা কবিতার এই প্রাতস্মরণীয় দুই মহিরুহ কবিই কি শুধু নতুনের বা তারুণ্যের জয়গান এবং আগমনির প্রবল জোয়ারের কথা বলেছেন? না, নতুন বা নব বা নবীন বা নব্য বা তরুণ বা আধুনিক বা টাটকা’কে আহ্বান জানিয়েছেন, বা জয়গান করেছেন পৃথিবীর সব ক্ষেত্রের সব মনীষীই অর্থাৎ সব মানুষই নতুনকে দেখে চঞ্চল হয়ে ওঠেন। প্রশ্ন যদি করি, কেন নতুন আমাদের চোখে তারুণ্যের হাতছানি দেয়, চঞ্চল করে, শিহরণ জাগায়, আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, অজানা সৌন্দর্যে আক্রান্ত করে? করে এজন্য যে, মানুষের জীবনের প্রবণতাই হলো একটা নান্দনিক ও নিটোল সময় এবং বস্তুকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায় এবং তা অনন্ত সময় ধরে। জানি না এটি সৃষ্টির শুরু থেকেই কি না? কারণ, প্রকৃতির মধ্যে এমন অনাবিল সুখ লুকিয়ে থাকে, যা আহরণ করার জন্যই বোধহয় প্রতিটি মানুষের ভেতর থাকে এ প্রবণতা! আবার যদি রবীন্দ্রনাথের কাছেই আসি, দেখবেন (মহাত্মা গান্ধীর দেওয়া উপাধি) গুরুদেব স্বয়ং বলেছেন, ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই...’। ওই যে বললাম, মানুষ তার জীবন নিয়ে সেই প্রবল প্রবণতা অর্থাৎ ভেতরে ভেতরে সবাই বেঁচে থাকতে চায়- যার নাম নতুন, যার নাম টাটকা আর মানুষ পুরোনোকে মলিন ভেবে প্রত্যাখান করতে চায়, জরাজীর্ণকে মুছে ফেলতে চায়, তাই বারবার স্বাগত জানায় নতুনকে। নতুনও আসে বারবার।

নতুনের আকর্ষণ অফুরন্ত। যেমন ধরুন, বাবা তার ছেলে বা মেয়ের জন্য যখন নতুন পোশাক কিনে আনলেন, সেই নতুন পোশাক হাতে নিয়ে সেই ছেলেটি বা মেয়েটি আনন্দে লাফিয়ে ওঠে, তখন তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে সুন্দরের আচরণ। আপনি যদি বৃক্ষের নতুন কচি বা সবুজ পাতার দিকে তাকান তখন আপনার মন ভরে যায়- যায় না? যায়। আবার একই বৃক্ষের পাতারা যখন ঝরে যায়, তখনো আপনার মনে হয়তো সেই ঝরা পাতার মর্মরে নিজের অজান্তেই গেয়ে ওঠেন- ‘ও ঝরা পাতা ও ঝরা পাতাগো/ তোমার সাথে আমার রাত পোহানো কথাগো/ তোমার সাথে আমার দিন কাটানো কথা...’। এই পুরোনো পাতার জন্য বেদনা হলেও, তাকে হারাতেই হয়। এ হারানো থেকে বা পাতার রং হলুদ থেকে চোখ সরিয়ে তাকাতে হয় সবুজ পাতার দিকে। এই যে রঙের খেলা- এটি চিরন্তন। এটি প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম।

আবার আসুন, অতিবাহিত আমাদের প্রতিদিনের কথায়? আমরা কী দেখছি? দেখছি প্রতিদিন সূর্য উঠছে, আলো ছড়াচ্ছে, আমাদের সঞ্চারিত করছে আবার সূর্য অস্ত যাচ্ছে, আমরা বিদায়ও জানাচ্ছি। আরও একবার রবীন্দ্রনাথ হয়ে আসি- অনেকেই জানেন, বাংলাদেশে তিনি যখন জমিদারি কাজে নাগর, ইছামতী ও পদ্মার পাড়ে অবস্থান করেছেন। এ অবস্থানকালে তিনি প্রায়শই পড়ন্ত বিকেলে তার ছোট্ট নৌকাটি নিয়ে নদীতে বেড়াতেন তীরের কাছ ধরে এবং নৌকায় বসেই ওই দিনের সূর্যকে তিনি বিদায় জানাতেন এবং তখনই মনে মনে হয়তো প্রত্যাশা করতেন পরের দিনের নতুন সূর্যটির কথা। এই যে যেমন, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের কথা বললাম, তেমনি বছরও। আমরা বারবার বিদায় জানাই পুরোনো বছরকে আর আহ্বান জানাই নতুন সূর্যের নতুন একটি বছরকে। এই নতুন বছর, বাঙালিদের বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ আর বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে পালিত হয় ইংরেজি নতুন বছর ১ জানুয়ারি। বছর হলো জন্ম আর মৃত্যুর মতো। পুরোনো যে বছরটিকে আমরা হারিয়ে ফেলি, সেটি যেমন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার মতো আমাদের জীবন থেকে একবারে মুছে যায়- আমরা কেবল ওই বছরটির জন্য স্মৃতির কোঠাকে নাড়াই। তেমনি ওই যে বললাম, নতুন বছরের আগমনে আমরা নতুন করে জীবনকে সাজাতে চাই।

২. 
বারে বারে: নতুন আসে দ্বারে, হ্যাঁ আরেকটি নতুন বছর এল আমাদের জীবনে। ইংরেজি এই নতুন বছর ২০২৬ আর আমরা পেছনে ফেলে এলাম ২০২৫। আমরা কি প্রতিবারই পুরোনো ও নতুনের অঙ্ক কষি? যদি কষি, সেটা কতটা সফল করি? হয়তো করতে পারি অথবা পুরোটা পারি না। কারণ জীবন অঙ্ক কষে কষে হয় না। কেউ হয়তো বছরে কিছুটা সফল হয়, কেউ হয়তো পারে না। এতে দুঃখ নেই। কেননা, আমরা কেউ চেষ্টার ত্রুটি করি না। চেষ্টা যে করতে হয়, পরিকল্পনাও থাকতে হয়, থাকতে হয় আশা, থাকতে হয় স্বপ্ন। আর নতুন বছরকে নিজের ভেতরের রং দিয়ে সাজাতে হয়। এ সাজানোটা হবে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, পড়শির জন্য, সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য। নিজেকে সুন্দর করে তোলার মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রকে সুন্দর করা- নাগরিক হিসেবে মনে করি আপনার, আমার দায়িত্ব। কারণ, আপনার জীবনকে আপনাকেই সাজাতে হবে। আপনি তো আর দুবার জন্মগ্রহণ করতে পারবেন না? তাই, একবার এক জীবনকে উপভোগ করা বা আনন্দ আয়োজনের মাধ্যমে সুন্দর করে কাটিয়ে দেওয়াটাই নতুনের অঙ্ক কষা। ধরুন, আপনার জীবন একটা ট্রেন। একটি ট্রেন একটা স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে, যেতে যেতে অন্য একটি স্টেশনে থামে আবার সেখান থেকে যাত্রা করে। এই ট্রেন ধাবমান ও গতিময় একটি যান। আপনি যদি চলন্ত বা ধাবমান ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে তাকান, দেখবেন- দুপাশে শালবন, সবুজ প্রান্তর, নদী, পাহাড়, সমুদ্র কিংবা অবারিত শস্যভূমি আর দিগন্তজুড়ে সাদা-কালো মেঘের খেলা। এই বিচিত্র খেলা, চারপাশের প্রকৃতি ও নিসর্গের সৌন্দর্য আপনাকে অন্যরকম শিহরণ দেয়। ওই শিহরণই জীবন। কবিতা করে বলি- জীবনানন্দ দাশ থেকে নিয়ে- ‘যখন ঝরিয়া যাব হেমন্তের ঝড়ে’/ পথের পাতার মতো তুমিও তখন/ আমার বুকের ’পরে শুয়ে রবে?/ অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন/ সেদিন তোমার!/ তোমার এ জীবনের ধার/ ক্ষ’য়ে যাবে সেদিন সকল’?

৩.
অনেকেই বলে- অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎকে সাজাতে হয়। কথাটাকে লক্ষ্য করেই আমরা যদি আগাই তাহলে, বিগত বছরের সব ব্যর্থতা, না পাওয়া ইত্যাদি থেকে উতরিয়ে সামনের নতুন বছরকে সাজাতে হবে এবং সফল হতে হবে। এ সাফল্য আনতে হবে, কেননা জীবন গতিময়, জীবন কখনো থেমে থাকে না, ছুটে চলে সময় ও নদীর মতো। পেছনের পিছুটান, ব্যর্থতা, না পারা কিংবা পুরোনো স্মৃতিকে আঁকড়ে না ধরে থেকে নতুন স্রোতের সঙ্গে এগিয়ে চলাই জীবন। কারণ আপনি ভাবুন, যে পথ একবার হেঁটে পেছনে ফেলে এসেছেন, সেই পেছনের পথে গেলে আপনার সময় কি আগাবে না পেছাবে? সুতরাং সময়কে বা বয়সকে ধরে রাখতে হলে আপনাকে যতটুকু পথ হেঁটে এসেছেন, তা পেছনে রেখে আপনাকে সামনের পথটুকুই শেষ করতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে, পেছনের পথে যতটুকু পেয়েছেন, দেখেছেন বা অর্জন করেছেন, তা অর্জিত হয়েছে, কাজেই সামনেরটুকু অর্জন করুন। সামনেও আছে অনেক অনেক অনেক কিছু। সেখানেও আছে আনন্দ। তবে সামনেও সমস্যা থাকতে পারে, পথ সব সময় মসৃণ নয়, পথ কখনো কণ্টকাকীর্ণ, কখনো শত্রু-সংকুল হতে পারে? সে সমস্যা মোকাবিলা করে, পথের কাঁটা শক্ত হাতে সরিয়ে এগিয়ে চলাই জীবনের জয়। এবং সেই জয়টুকু নিয়ে আপনাকে তৃপ্ত থাকতে হবে। আপনি কারোর কাছে কিছু আশা করবেন না? কারুর সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করবেন না? যখন বাঙালির একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে গেছে, সমাজ কাঠামোর ভেতরে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে, তখন আপনাকে চিন্তা করতে হবে, আপনি একা এবং এই একা একজন শক্তিধর মানুষ। আপনার সাহস, আপনার মেধা, বুদ্ধি, যোগ্যতা ও ধীশক্তিই আপনার পাথেয়। আপনি ছুটে চলুন নতুনকে আহ্বান জানিয়ে, নতুন আলো অন্যরকম। তাকান, দেখুন আপনার দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে- নতুন আলো।   

লেখক: কবি

টেলিমেডিসিনের গুরুত্ব

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
টেলিমেডিসিনের গুরুত্ব

আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ভৌগোলিক দূরত্ব কমিয়ে ঘরে বসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার এই প্রযুক্তিগত পদ্ধতি বর্তমানে অত্যন্ত অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এটি টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীর চিকিৎসা এবং সেবাদানের একটি উন্নত ডিজিটাল চিকিৎসাসেবা পদ্ধতি। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে টেলিমেডিসিনের গুরুত্ব অপরিসীম। মহামারির সময় চিকিৎসার সেরা বিকল্প টেলিমেডিসিন। করোনা রোগী হাসপাতালের চেয়ে বেশি সেবা পেয়েছে এই বিকল্প পন্থায়। করোনা ছড়িয়ে পড়া রোধে এটি একটি সফল মাধ্যম ছিল। একই সঙ্গে এটি শুধু বর্তমানেই নয়, ভবিষ্যতেও এর চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। মূলত, টেলিমেডিসিনে ভিডিও কল, ফোন কল বা মেসেজিংয়ের মাধ্যমে রোগী ও ডাক্তারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। এভাবে চিকিৎসক ও রোগী শারীরিকভাবে একই স্থানে না থেকেও যোগাযোগ করতে পারে এবং চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারে। চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায় টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ভিডিও কনফারেন্স বা অনলাইনের বিভিন্ন কলিং সফটওয়্যার যেমন–হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো প্রভৃতি। টেলিমেডিসিন সেবা খুব শিগগিরই স্বাস্থ্যসেবার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবে। আমাদের এই বিশ্বে চিকিৎসার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সার্থক অবদান রয়েছে। এই তথ্যপ্রযুক্তিগুলো ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড, টেলিহেলথ সার্ভিস, মোবাইল টেকনোলজির ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে যোগাযোগের সময় রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইন মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়। সুতরাং এই তথ্যগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি থাকে।

মো. জাহিদুল ইসলাম 
নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
[email protected]

বিচার চাইব কার কাছে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
বিচার চাইব কার কাছে

দেশে একের পর এক ধর্ষণকাণ্ড ঘটেই যাচ্ছে। গণপিটুনি, মিছিল-মিটিং, লেখালেখি, প্রতিবাদ–কিছুই যেন থামাতে পারছে না এই মহামারিকে। সমাজের কিছু পুরুষ আজ যেন আগ্রাসী আতঙ্কের নাম, নারীদের জন্য এক ভয়ংকর বোঝা। নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মান যেন তলানিতে এসে ঠেকেছে। নারী মানেই যেন ভোগের বস্তু, নির্যাতনের শিকার, হত্যাযোগ্য এক অসহায় প্রাণ! এ যেন নতুন এক আইয়ামে জাহেলিয়াত! আছিয়া থেকে রামিসা, ৭ থেকে ৭০–কেউ আজ নিরাপদ নয়। দেশের বিচারব্যবস্থার ভঙ্গুরতা ধর্ষকদের আরও সাহসী করে তুলছে। প্রতিনিয়ত ধর্ষণকাণ্ড ঘটলেও বিচারের হার প্রায় শূন্যের কোঠায়। ক্ষমতার দাপট, নেতাগিরি ও ছলচাতুরীর মাধ্যমে একে একে সবাই পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই তো ধর্ষিতার বাবা আজ বিচার চাইতেও ভয় পান। ধর্ষিতার মা বুকভরা কষ্ট নিয়ে পাথর হয়ে থাকেন। অসহায় কণ্ঠে বলেন, ‘বিচার চাইব কার কাছে? দেশে কি আদৌ বিচার আছে?’

আমরা চাই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির অবসান হোক। সমাজে নারীরা নিরাপদে বাঁচুক। রাষ্ট্র নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক। আমরা আর কোনো ধর্ষণ দেখতে চাই না। চাই না কোনো কর্তিত, খণ্ডিত, গলা কাটা দেহ। বন্ধ হোক ধর্ষণ। বন্ধ হোক ধর্ষিতার আর্তচিৎকার।

রফিকুল ইসলাম
মনোয়ারা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, মানিকগঞ্জ
[email protected]

উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও

দেশের পরিস্থিতি ও পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে নিত্যদিনের ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসে। দেশের নানা আবেগময় ঘটনার বর্ণনা সামনে এলেও অধিকাংশই হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে দেশের মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় এক বৃদ্ধার করুণ মৃত্যুতে উচ্চশিক্ষার ওপর প্রশ্ন উঠে যায়। শেষ জীবনে এসে বৃদ্ধা মা পাইনি কোনো সন্তানদের যত্ন। অযত্ন আর অবহেলায় জীবনের শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত অবস্থায় একই রুমে পড়ে রইলেন ৫-৭ দিন। জানতেন না কেউ। অথচ, সন্তানরা হলেন একজন বুয়েট শিক্ষক, একজন সচিব ও একজন কানাডা প্রবাসী। দেখা যাচ্ছে সন্তানরা ঠিকই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন এবং ভালো অবস্থানেও আছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ছিল নৈতিকতার বড়ই অভাব। নীতিহীন আদর্শ ও উচ্চশিক্ষার কোনো অর্থ নেই। অতএব, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আগে নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া উচিত।

আবদুর রশীদ
শিক্ষক, উত্তর সাতকানিয়া দারুল আরকাম একাডেমি
[email protected]

সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে

প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব সমুদ্র দিবস। দিবসটির মূল লক্ষ্য সমুদ্রের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা। পৃথিবীর প্রায় ৭১ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত সমুদ্র শুধু জলরাশির আধার নয়; এটি মানবসভ্যতার টিকে থাকা, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অন্যতম ভিত্তি। সমুদ্রকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়। কারণ সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও শৈবাল পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের প্রায় অর্ধেক উৎপাদন করে। এ ছাড়া কোটি কোটি মানুষের খাদ্য, কর্মসংস্থান ও জীবিকার উৎস হলো সমুদ্র। মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, খনিজ সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এর অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও সমুদ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে সমুদ্র নানা হুমকির সম্মুখীন। প্লাস্টিক বর্জ্য, শিল্পদূষণ, তেল নিঃসরণ, অতিরিক্ত মাছ আহরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামুদ্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রে জমা হওয়া প্লাস্টিক মাছ, কচ্ছপ, ডলফিনসহ অসংখ্য প্রাণীর জীবন বিপন্ন করছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙন, লবণাক্ততা ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় ডেকে আনছে। সমুদ্র রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সামুদ্রিকদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ব সমুদ্র দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক–সমুদ্র দূষণমুক্ত রাখা, পরিবেশ সংরক্ষণ করা এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া। কারণ সুস্থ সমুদ্রই সুস্থ পৃথিবীর ভিত্তি, আর সুস্থ পৃথিবীই নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা।

নজরুল ইসলাম
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected] 

গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন?

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন?

সামাজিক মাধ্যমে আজকাল গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান দিতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরতদের বিস্তর তফাৎ রয়েছে। গোয়েন্দাদের (এজেন্ট) সাধারণত লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা প্রয়োজন। এমনকি তাদের কোনো প্রকার উর্দি থাকাও উচিত নয়। সমাজ কিংবা আশপাশের কেউ যেন তাদের সম্বন্ধে জানতে বা আঁচ করতে না পারে। এসব গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়োগ কবে হয়েছে তাও রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপন রাখা বাঞ্ছনীয়। ব্যাপারটা বেশ কঠিন হলেও, এতে তাদেরই কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। সাধারণের বেশে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে প্রবেশ করে যেভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, গোয়েন্দা পরিচয়ে তা কঠিন হতে পারে! গোয়েন্দাদের মূলত জনসাধারণের মধ্যে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাদের গোপনীয়তা বজায় রাখা প্রয়োজন। কিন্তু কিছু গোয়েন্দা কর্মকর্তা আজকাল ফেসবুকে নিজের নাম-পরিচয় জানিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে করে পরবর্তীতে তিনি কোথাও তদন্ত বা অনুসন্ধানের কাজে গেলে সবার সতর্ক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ফাঁকতালে আসল অপরাধীরা সটকে পড়ে গা ঢাকা দিতে পারে।

সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের অদক্ষতা আর খামখেয়ালিপনায় ডিবি পুলিশ অতীতে যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছে! এমনকি ডিবি হারুন নিজেও মানুষের কাছে হাস্যরসের পাত্র হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন! গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার নামে হারুন অর রশীদ ডিবি কার্যালয়ে গড়ে তুলেছিলেন আলোচিত ‘ভাতের হোটেল’! সেখানে নিমন্ত্রণ পেতেন রাজনীতিবিদ, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, চলচ্চিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রী! আর এসব ইস্যুতে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আর হারিয়েছে তার ভাবমূর্তি। 

আসিফ আল মাহমুদ 
রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম ৪২০২
[email protected]