নতুন বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে বই ছাপানো দরকার প্রায় ৪০ কোটি। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছাপানো হবে প্রায় ৭ কোটি। ৩৩ কোটি বই এখনো ছাপা হয়নি, যা হিসাবে ৬৩ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ে বই ছাপাতে না পারার পেছনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পাঠ্যবইয়ে জুলাই আন্দোলনের গল্প ও গ্রাফিতি যুক্ত করাসহ একাধিক সংশোধন-পরিমার্জনকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। খরচ কমাতে উৎসব করে বই দেওয়ার কোনো কর্মসূচি রাখেনি সরকার। তবে পহেলা জানুয়ারি বইয়ের অনলাইন ভার্সন শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান রিয়াজুল হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘৪০ কোটির মধ্যে ৭ কোটি ছাপানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে অনলাইন ভার্সন উদ্বোধন করা হবে অর্থাৎ বইগুলোর পিডিএফ কপি অনলাইনে দেওয়া হবে।’
এনসিটিবি ও প্রকাশনী সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ৪০ কোটি ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ২০২ কপি বই ছাপানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রাথমিকের জন্য ছাপানো হবে ৯ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫৫ কপি বই। আর মাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হবে ৩০ কোটি ৯৬ লাখ ১২ হাজার ৮৪৭ কপি বই। ব্রেইল বই ছাপানো হবে প্রায় ৮ হাজার। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৩ হাজার ২৮৩ জন।
প্রতিবছর জুন-জুলাই মাস থেকে নতুন বই ছাপানোর কাজ শুরু করা হয়। চলতি বছর আওয়ামী লীগ সরকার সে অনুযায়ী কাজ শুরু করে। তবে বিপত্তি ঘটে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর। এনসিটিবিতে বড় ধরনের রদবদল ঘটে। চেয়ারম্যানসহ একাধিক সদস্য পদত্যাগ করেন। অন্তর্বর্তী সরকার সেখানে নতুনদের পদায়ন করে। এরই মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাতিলের দাবি ওঠে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের গল্প ও গ্রাফিতি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়। সেসব গল্প রচনা ও পরিমার্জন করার জন্য নতুন করে কাজ করতে হয়। যার কারণে অতিরিক্ত সময় লাগে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রকাশনী সংস্থাগুলোর কাগজ না পাওয়া এবং ব্যাংক ঋণ পেতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, কম সময়ে অনেক কাজ করতে হয়েছে। বইয়ের সংখ্যা বেড়েছে। নতুন করে গল্প রচনা করতে হয়েছে। সংযোজন-বিয়োজনও বেশি করতে হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন না হলে নির্ধারিত সময়ে বই পৌঁছে যেত।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সব বই ছাপানোর কাজ শেষ। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বই ছাপানো বাকি রয়েছে। তাদের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। অপরদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রথমদিকে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বই দেওয়া হবে। বাকি বই দুই ধাপে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এনসিটিবির নির্ধারিত সময় জানুয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্ত।
পহেলা জানুয়ারি পাঠ্যবইয়ের অনলাইন ভার্সন উদ্বোধন করা হবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আমাই) মিলনায়তনে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক এ বি এম রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষাবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক ড. এম আমিনুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের প্রমুখ।