বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন শহিদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান। রাজশাহীর মানুষের কাছে তিনি হেনা নামে পরিচিত ছিলেন। জাতীয় চার নেতার অন্যতম ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এ এইচ এম কামারুজ্জামান হেনার ছেলে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। আন্দোলন-সংগ্রামে না থেকেও পিতার পরিচয়ের সুবাদে সব পেয়েছেন তিনি। এক লাফে হয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তার আগে প্রহসনের নির্বাচনে দখল করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদ। আওয়ামী লীগ আমলে রাজশাহীতে লিটনের পরিবারের কথার বাইরে কোনো কিছু করা ছিল অসম্ভব ব্যাপার। টানা সাড়ে ১৫ বছর এভাবেই রাজশাহীর অঘোষিত গডফাদার ছিলেন সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।
নিজের সুবিধামতো রাজশাহী আওয়ামী লীগকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করে রেখেছিলেন লিটন। তার স্ত্রী ও মেয়ে ৫০টির বেশি দলীয় পদ-পদবি দখলে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে চলতেন বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে। লিটন পরিবার সিটি করপোরেশন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ), রাজশাহী ওয়াসা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, গণপূর্ত ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদারি এবং নিয়োগ-বাণিজ্য সবই নিয়ন্ত্রণ করেছে।
জানা গেছে, লিটনের স্ত্রী শাহীন আক্তার রেনী তার স্বামীর মতোই একজন দুর্নীতিবাজ। রাজশাহীর মানুষের কাছে তিনি ‘রেনী ভাবি’ নামে পরিচিত। তরুণ-বৃদ্ধ সবারই ছিলেন তিনি ‘রেনী ভাবি’। খায়রুজ্জামান লিটনের বড় মেয়ে ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণাকে টাকা দিলে রাজশাহীতে সব কাজই করা সম্ভব ছিল। তারা মূলত তদবির করতে খায়রুজ্জামান লিটনের পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করতেন। বদলি, নিয়োগ, নগরীর বাজার নিয়ন্ত্রণ, খাস জায়গায় ভাড়া, পরিবহন সেক্টরে কে কোথায় কোন পদে বসবেন তাও ঠিক করে দিতেন তারা। কারা ঠিকাদারির কাজ পাবেন, তা আগে থেকে ঠিক করে দিতেন রেনী ভাবি ও তার মেয়ে অর্ণা।
ঠিকাদারি ও নিয়োগ-বাণিজ্যে মনোযোগী ছিলেন ‘রেনী ভাবি’
মেয়র লিটনের প্রভাবে রাজশাহীর অঘোষিত নগরমাতা ছিলেন ‘রেনী ভাবি’। রাজশাহীর বিভিন্ন প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়ে ঠিকাদারি ও নিয়োগ-বাণিজ্যে জড়িয়ে টাকার কুমির বনে গেছেন এই রেনী ভাবি। রুয়েট-বিএমডিএসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকার টেন্ডারের ভাগ নেন তিনি। নিয়োগ নিয়ে রুয়েটের ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে মামলা করে দুদক, সেই নিয়োগেও তার তদবির ছিল। প্রয়োজন না থাকলেও তার ইচ্ছায় অনেক নিয়োগ হতো। এসব নিয়োগে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে রেনীর বিরুদ্ধে।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে সহসভাপতির পদ বাগিয়ে নেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতিসহ বিভিন্ন কমিটির অন্তত ৩০টি পদ নিজের দখলে রাখেন। এগুলোর মধ্যে রাজশাহী মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য, শহিদ নজমুল হক উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি, লক্ষ্মীপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি, রাজশাহী ওয়াসার ভাইস চেয়ারম্যান, বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি, জয়িতা ফাউন্ডেশনের সদস্য, রামেক পরিচালনা পরিষদের সদস্য, সমাজসেবা অধিদপ্তরের রোগী কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি, জেলা জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের সদস্য, জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, এসডিজি বাস্তবায়ন ও সমন্বয় সম্পর্কিত বিভাগীয় কমিটির সদস্য।
অনেক বছর ধরেই রাজশাহী পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে পরিচিত। ছোট এই শহরে যাতায়াতের জন্য রিকশা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বাহন। খুব কম খরচে শহরের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় যাওয়া যেত। কিন্তু ‘রেনী ভাবি’ টাকা নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানোর সুযোগ করে দেন। প্রতিদিন ব্যাটারিচালিত এই অটোরিকশা থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আসত রেনী ভাবির কাছে। এভাবে পরিচ্ছন্ন এই শহরকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার শহরে পরিণত করেন লিটনের স্ত্রী রেনী।
মেয়ে অর্ণার কুকীর্তি ও জালিয়াতি
বাবা নগরপিতা হওয়ায় অনিয়মকে নিয়ম বানিয়েছেন মেয়ে অর্ণা। শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি জালিয়াতি শুরু করেন। এসএসসি পরীক্ষায় খারাপ করলেও এ প্লাসের দাবিতে বাবাকে মাঠে নামান তিনি। মেয়েকে এসএসসি পরীক্ষায় নম্বর বেশি পাইয়ে দিতে তৎকালীন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চাপ দেন লিটন। কিন্তু বোর্ড চেয়ারম্যান রাজি না হওয়ায় অনুগতদের দিয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করান এবং তাকে সরে যেতে বাধ্য করেন।
অর্ণা সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স না পাওয়ায় তাকে ভর্তি করান সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখানে বারবার ফেল করে রেকর্ড গড়েন মেয়রকন্যা অর্ণা। শেষ পর্যন্ত পিতার প্রভাবে তাকে শর্ত জুড়ে দিয়ে পাস দেখানো হয়। শর্ত দেওয়া হয় অর্ণা কখনো কারও চিকিৎসা করতে পারবেন না।
তবে প্রভাব থাকলে যা হয়। পিতার প্রভাবে মেয়ে অর্ণা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পান। সেখানেও সমানতালে দলীয় প্রভাব খাটিয়েছেন তিনি। মাসে দুই-তিনবার অফিসে হাজিরা দিয়ে পুরো মাসের বেতন তুলতেন লিটনকন্যা। ২-৩ ঘণ্টা চেম্বারে থাকলেও সেখানে বসেই করতেন যাবতীয় তদবির। সে সময় নিজের অফিস কক্ষটি হয়ে যেত তার রাজনৈতিক কার্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে দল ও অর্থের বিবেচনা দুটিই দেখতেন। তবে অর্থের বিবেচনায় দল ও যোগ্যতার মাপকাঠিকে উপেক্ষা করতেন। নিয়োগ-বাণিজ্য থেকে মেয়রকন্যা প্রতিবছর ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকা রোজগার করতেন। শুধু তা-ই নয়, মেডিকেল সেন্টারে বসেই দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিতেন। নেতা-কর্মীরাও তার নামে স্লোগান দিতেন। নিজের নিরাপত্তায় গঠন করেন ‘অর্ণা স্পেশাল ফোর্স বা এএসএফ’। এএসএফের নিরাপত্তা স্কোয়াড নিয়ে ভিভিআইপির দাপট দেখাতেন। এএসএফ সদস্যদের মেয়র লিটন সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ওয়াকিটকিও দিয়ে রেখেছিলেন। রাজশাহীতে এমন অনিয়ম-দুর্নীতিকেই তারা নিয়মে পরিণত করেছিলেন।
প্রভাবশালী পিতার কন্যা সরকারদলীয় নেত্রী হওয়ায় অন্য ডাক্তাররাও তার ভয়ে মুখ খোলার সাহস পেতেন না। তার কোনো কাজে দল কিংবা দলের বাইরে কেউ কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ালে তার বাহিনী দিয়ে হয়রানি ও মারধর করাতেন। যুবলীগ নেতা রাজিব তার এই বিষয়টি দেখভাল করতেন।
মেয়রকন্যা আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা ছিলেন উচ্চাভিলাষী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, নগর ও জেলা ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ করতেন এই নেত্রী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় ২০০ থেকে ৩০০ মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে ঢুকতেন। একদিকে প্রভাবশালী পিতার কন্যা, অন্যদিকে একাধিক পদধারী নেত্রীও। অর্ণা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। জেলায় কোনোদিন রাজনীতি না করলেও হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এ ছাড়া হয়েছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক। প্রভাবশালী পিতার আশীর্বাদে এসব প্রাপ্তি তার।
রাজশাহী নগরী বিশ্বের অনন্য এক উদাহরণ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং দূষণমুক্ত নগরী হিসেবে পৃথিবীর বহু শহরের তুলনায় এগিয়ে। বাতাসে ভাসমান মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কণা দ্রুত কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিশ্বে এগিয়ে রয়েছে রাজশাহী নগর। সেই নগরীর মেয়র হিসেবে এ ক্ষেত্রে খায়রুজ্জামান লিটনের অবদান ছিল। তবে নগরীর উন্নয়ন-সৌন্দর্যের আড়ালে অনৈতিকভাবে টাকার পাহাড় গড়েছেন অপসারিত মেয়র লিটন ও তার পরিবার। দাপট দেখিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে হাতে নিয়েছেন অপ্রয়োজনীয় নানা প্রকল্প। আবার বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন টাকা। সরকারের অনুমোদন ছাড়াই রাসিকে ৯টি বিভাগ খুলে দলীয় নেতা-কর্মীকে নিয়োগ দিয়ে গড়ে তোলেন মেয়র লীগ। নগর ভবন থেকে তাদের প্রতি মাসে সাড়ে ৩ কোটি টাকা বেতন দিতেন তিনি।
সিটি করপোরেশনের কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে লিটন পরিবার। পছন্দের ঠিকাদারদের যোগসাজশে তিনি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কোটি কোটি টাকা নিজের পকেটে ভরেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজশাহীর মোল্লাপাড়ায় একটি লেভেল ক্রসিংয়ে বিকল্প রাস্তা হিসেবে ফ্লাইওভার তৈরি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ফ্লাইওভারের কাজ অর্ধেক রেখেই শেষ করেন ঠিকাদার, যা ওই এলাকার মানুষের ভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, লেভেল ক্রসিংয়ে এই ফ্লাইওভারের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এই কাজ শুরু হওয়ায় আরও যানজট ও ভোগান্তি বাড়ে। একই কথা প্রযোজ্য কামারুজ্জামান চত্বরের নওগাঁ রোডমুখী ফ্লাইওভারটিও। এমন অপ্রয়োজনীয় প্রজেক্ট পাস করাতেন লিটন। এসব কাজ পেতেন মেয়র লিটনের পছন্দের ঠিকাদার এবং প্রতি প্রজেক্টে লিটন পেতেন মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রায় সব ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন রিথিন এন্টারপ্রাইজের মালিক তৌরিদ আল মাসুদ রনি। তিনি মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। শুধু অঢেল টাকা আর লিটন পরিবারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকার কারণে তার একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। গত কয়েক বছর সিটি করপোরেশনে একাই কয়েক শ কোটি টাকার কাজ পেয়েছেন রনি। লিটন পরিবারের প্রভাবের কারণে বিভিন্ন কমিটিতেও রনিকে রাখা হয়েছিল। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রনি।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন নামে ২ হাজার ৯৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় অনুমোদন পায়। এ প্রকল্পের আওতায় নগর সড়ক প্রশস্তকরণ, আলোকায়ন, সবুজায়ন, ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়াও প্রান্তিক সড়কগুলোর উন্নয়ন করা হয়। নির্মাণকাজ শুরু হয় আটটি ফ্লাইওভারের। শেষ হয় তিনটির। এ ছাড়া ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কয়েকটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়। অথচ অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত দাবি করে এসব ফ্লাইওভার ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন না কেউ। মূলত টাকা বানানোর মেশিন হিসেবেই এসব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন লিটন। শুধু তা-ই নয়, সরকারের কয়েক শ কোটি টাকা খরচ করে বাবা এ এইচ এম কামারুজ্জামানের নামকরণে মজেছিলেন লিটন। প্রথমবার মেয়র হয়েই নগরীর ঐতিহ্যবাহী বিন্দু মোড়ের নাম পাল্টে বাবার নামে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন। কিন্তু সেটি পছন্দ না হওয়ায় ভেঙে ফেলে করপোরেশনের টাকায় আরেকটি স্থাপনা নির্মাণ করেন তিনি। এভাবে জেলা পরিষদ মিলনায়তন, দুটি স্কুল ও কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হল এবং নার্সিং কলেজের নাম করা হয়েছে লিটনের বাবার নামে। এ ছাড়া বিভাগীয় স্টেডিয়াম এবং কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার আগের নাম পাল্টে নিজের বাবার নাম জুড়ে দেন তিনি।
অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নগরীর উন্নয়ন-সৌন্দর্য বৃদ্ধির সব প্রকল্প তুলে দিতেন দুই ঠিকাদারের হাতে। নগরীর আলোকায়নে ‘হ্যারো’ আর উন্নয়নকাজে ‘রিথিন’কে দিয়ে তিনি সব কাজ করিয়েছেন। মহানগরীর ১৬টি স্থানে হাইমাস্ট পোল ফ্লাডলাইট স্থাপনের নামে করেছেন লুটপাট। ফ্লাডলাইট স্থাপন এবং উপকরণের দাম সোয়া ২ কোটি হলেও ঠিকাদারকে ৯ কোটি ৭ লাখের বেশি টাকার বিল পরিশোধ করেন। ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা লুটপাট করে তার সিন্ডিকেট।
গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর লিটন ও তার পরিবারের সবাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। জানা গেছে, খায়রুজ্জামান লিটন স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে ভারতের কলকাতা গেছেন বড় মেয়ে তার স্বামীকে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।