ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
Nagad desktop

বাস্কেটবলে চ্যাম্পিয়ন পুলিশ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৫, ০৮:৪৮ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৫, ০৯:২৯ পিএম
বাস্কেটবলে চ্যাম্পিয়ন পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশন আয়োজিত ১ম বিভাগ বাস্কেটবল লিগ ২০২৫ এর ফাইনাল খেলায় বাংলাদেশ পুলিশ বাস্কেটবল টিম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেলে সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়াম, মিরপুর-১০, ঢাকায় ১ম বিভাগ বাস্কেটবল লিগ ২০২৫ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

ডিআইজি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ও বাংলাদেশ পুলিশ বাস্কেটবল ক্লাবের সভাপতি কাজী মো. ফজলুল করিম প্রধান অতিথি হিসেবে ম্যাচটি উপভোগ করেন।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনেরসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা এবং খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য দলগুলো হলো বাংলাদেশ পুলিশ বাস্কেটবল টিম, ধূমকেতু বাস্কেটবল টিম, বকসীবাজার বাস্কেটবল টিম ও জোসেফাইট বাস্কেটবল টিম।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশ বাস্কেটবল ক্রীড়া দলটি ২য় বিভাগ জাতীয় বাস্কেটবল লীগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

তুলি/রিফাত/

অবসর ভাবনায় কর্তোয়া

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ এএম
অবসর ভাবনায় কর্তোয়া
থিবো কর্তোয়া। ছবি: সংগৃহীত

সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ শিবিরে চলছে মিশরের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতি। এর মাঝেই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুখগুলোর একজন, থিবো কর্তোয়া ভাবিয়ে তুললেন বেলজিয়ান ফুটবল সমর্থকদের। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই হতে পারে জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ বড় টুর্নামেন্ট।

২০১১ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হওয়া কর্তোয়া এখন বেলজিয়ামের অন্যতম নির্ভরতার নাম। ১০৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষক কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্বীকার করেছেন, নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় হয়তো চলে এসেছে, ‘এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা উচিত কি না জানি না, তবে এই টুর্নামেন্টের পর আমি জাতীয় দলে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি, থাকার সম্ভাবনার চেয়ে। আমি এখনো আরও কয়েক বছর খেলতে চাই। কিন্তু তখন নিজের শরীরেরও যত্ন নিতে হয়। আমার পরিবার এখানে এসেছে, কারণ এটি আমার শেষ টুর্নামেন্টও হতে পারে।’

তবে অবসরের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয় বলেও জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক। বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্স এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশ তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, ‘যদি আমাদের বিশ্বকাপ ভালো যায়, আর যদি দলের ভেতরের ইতিবাচক পরিবেশটা বজায় থাকে। এর পর আমাকে কোচ, (টেকনিক্যাল ডিরেক্টর) ভিনসেন্ট মানার্ট এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

কর্তোয়ার ভাবনায় পরিবর্তন আনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে সাম্প্রতিক কয়েকটি মৌসুমও। সাবেক কোচ ডোমেনিকো তেদেস্কোর সময়ে কিছু আন্তর্জাতিক বিরতিতে না খেলেও চলত তার। সেই অভিজ্ঞতা তাকে উপলব্ধি করিয়েছে বিশ্রামের গুরুত্ব, ‘আমি লক্ষ্য করেছি, ওই আন্তর্জাতিক বিরতিগুলোতে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং জিমে শান্তভাবে কাজ করা যায়। এ ছাড়া গত দেড় বছরে আমার বেশ কিছু ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা ও চোট হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেশি ভাবতে শুরু করেন। আমি দায়িত্ব নতুনদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ভাবছি। সেনে (ল্যামার্স) এবং মাইক (পেন্ডার্স)-এর মতো অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসছে।’

ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে শরীরের সঙ্গে সমঝোতা করেই এগোতে হচ্ছে কর্তোয়াকে। গত বসন্তে চোট কাটিয়ে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে, বিশেষ করে কোয়াড্রিসেপসের চোট তাকে বেশ ভুগিয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রস্তুত বেলজিয়ান গোলরক্ষক, ‘হ্যাঁ, আমি খুবই ক্ষুধার্ত (সফল হওয়ার জন্য), দলের অন্য সবার মতোই। আমি খুব ভালো অনুভব করছি এবং ম্যাচটির জন্য মুখিয়ে আছি। বসন্তে ফেরার জন্য আমি খুব কঠোর পরিশ্রম করেছি। চোটটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল। কারণ তখন আমি নিজেকে প্রায় অপরাজেয় মনে করছিলাম। কিন্তু এখন আমি আমার মান ধরে রাখতে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে প্রস্তুত।’

আগামী বৃহস্পতিবার বেলজিয়াম তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ‘জি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইরান ও নিউজিল্যান্ড।

ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ এএম
ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার
গোলের পর উদ্‌যাপনে কাইল লারিন। ছবি: সংগৃহীত

ঘরের মাঠে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জয় দিয়ে রাঙাতে পারল না কানাডা। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে কাইল লারিনের গোলে ১-১ ব্যবধানে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিকরা।

ড্রয়ের সুবাদে এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপে পয়েন্ট পেল কানাডা। এর আগে, ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে মোট ৬ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই হেরেছিল তারা। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ড্রয়ের মধ্য দিয়ে নিজদের পয়েন্টের খাতা খুলল তারা।

শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১টার দিকে কানাডার টরেন্টোর বিএমও ফিল্ডে প্রথমবারের মতো একে অপরের মুখোমুখি হয় দুই দল।  

ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে কানাডা। ম্যাচের ১৭ মিনিটে গোলের সুযোগ আসে তাদের সামনে। কিন্তু জোনাথান ডেভিডের সেই সুযোগ হাতছাড়ার খেসারত দিতে হয় গোল হজমের মধ্য দিয়ে। 

তিন মিনিট পরেই ম্যাচের ২১ মিনিটে বসনিয়াকে গোলের আনন্দে ভাসান জোভো লুকিচ। ডান দিক থেকে ইভান বেসিকের নেওয়া কর্নারটি নিয়ার-পোস্টে পেয়ে ফ্লিক করে লুকিচের দিকে বাড়িয়ে দেন সিয়াদ কোলাসিনাচ। সেখান থেকে হেডে কানাডার জাল কাঁপান বসনিয়ার এই ফরোয়ার্ড। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বসনিয়া। 

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে কানাডা। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে আসে সুযোগ। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলাকে পরাস্ত করেন জোনাথন ডেভিড। কিন্তু তার নেওয়া শট গোললাইনে ঠেকিয়ে দেন কোলাসিনাচ। তার পায়ে লেগে বলটি বারপোস্টে লেগে ফিরে যায়। এতে বিপদমুক্ত হয় বসনিয়া। 

বসনিয়ার সামনেও সুযোগ ছিল লিড বাড়ানোর। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে কানাডার ভুলে ডি-বক্সের কাছে বল পেয়ে যান এরমেদিন দেমিরোভিচ। কিন্তু কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপিউকে একা পেয়েও জালে বল জড়াতে ব্যর্থ হন তিনি। 

অন্যদিকে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে আক্রমণভাগে একাধিক পরিবর্তন আনেন কানাডার কোচ জেসি মার্শ। এর ফল পাওয়া যায় ৭৯ মিনিটে। বদলি মাঠে নামা কাইল লারিনের কোনাকুনি শট বসনিয়ার ডিফেন্ডারের শরীরে লেগে জালে জড়ায়। এতে পুরো স্টেডিয়াম ফেটে পড়ে উল্লাসে। মাঠে নামার মাত্র ১২১ সেকেন্ডের মধ্যেই কানাডাকে খেলায় ফেরান লারিন। 

ম্যাচের বাকি সময় আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণেও কোনো গোলের দেখা পায়নি দুই দল। এতে ১-১ গোলে ড্রয়ের মধ্য দিয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের।

সালমান/

লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৪ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:০৭ এএম
লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে কানাডা এবং বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা। প্রথম দেখায় স্বাগতিকরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও শেষ পর্যন্ত গোল হজম করতে হয়েছে তাদের। জোভো লুকিচের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে বসনিয়া। 

শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১টার দিকে কানাডার টরেন্টোর বিএমও ফিল্ডে গড়ায় ম্যাচটি। 

ম্যাচের শুরু থেকেই বসনিয়াকে চেপে ধরে কানাডা। ম্যাচের ১৭ মিনিটে গোল করার সুযোগ হাতছাড়া করে তারা। তানি ওলুয়াসেয়ির পাস থেকে পাওয়া বল পেনাল্টি বক্সের কাছে ফাঁকায় পান জোনাথান ডেভিড। সেখান থেকে তার নেওয়া জোরালো শটটি রুখে দেন বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজ। 

গোলবঞ্চিত হওয়ার তিন মিনিট পর ২১ মিনিটে গোল হজম করে কানাডা। ডান দিক থেকে ইভান বেসিকের নেওয়া কর্নারটি নিয়ার-পোস্টে পেয়ে ফ্লিক করে জোভো লুকিচের দিকে বাড়িয়ে দেন সিয়াদ কোলাসিনাচ। সেখান থেকে হেডে গোল আদায় করে নেন বসনিয়ার এই ফরোয়ার্ড। 

এতে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বসনিয়া। 

সালমান/

কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয়

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:২৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:২৬ এএম
কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয়
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। মেক্সিকোর পর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজন হলো কানাডায়। দেশটিতে বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব। 

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে কানাডার টরেন্টোতে আয়োজিত জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আলোচিত ছিল বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি, ফ্রেঞ্চ হিপ-হপ শিল্পী ভেগেড্রিম এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেবের যৌথ পরিবেশনা। 

সঞ্জয়ের পারফরম্যান্স প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতেই কানাডার প্রথম অধিবাসী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। আদিবাসী বংশোদ্ভূত কানাডীয় সংগীতশিল্পী উইলিয়াম প্রিন্স ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে দেশের প্রথম অধিবাসীদের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোরা ফাতেহি বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘সির সির’ পরিবেশন করেন। এরপর মঞ্চে জেসি রেয়েজ ও এলিয়ান্নার ‘ইলুমিনেট’ গান পরিবেশিত হয়।

এছাড়া বিশ্বখ্যাত তারকা মাইকেল বুবল, অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালিসিয়া কারা, উইলিয়াম প্রিন্স ও ইলিয়েনার পরিবেশনাও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

সালমান/

মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:০০ এএম
মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসেছে ইউরোপের দেশ স্কটল্যান্ড। অন্যদিকে যুদ্ধবিগ্রহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করে ৫২ বছর পর শ্রেষ্ঠত্বের আসরে ক্যারিবীয় অঞ্চলের (কনকাকাফ) হাইতি। দল দুটিকে প্রত্যাবর্তনের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে হচ্ছে মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে। কারণ ‘সি’ গ্রুপে তাদের সঙ্গী পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন সুপার পাওয়ার ব্রাজিল ও র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা সাতে থাকা মরক্কো। 

যদিও নকআউটের টিকিট কাটা কঠিন, তবে স্কটল্যান্ড ও হাইতি শুধু অংশগ্রহণের জন্য বিশ্বকাপে আসেনি। লড়াকু ফুটবল আর ঐতিহ্যের ধারক স্কটিশ কোচ স্টিভ ক্লার্ক বলেছেন, প্রতিপক্ষ নয়, তারা শুধু নিজেদের নিয়েই ভাবছে। প্রতিটি ম্যাচে তারা জয়ের জন্যই মাঠে নামবে। স্কটিসদের সৌভাগ্য যে হাইতির মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মিশন শুরু করতে পারছে! অন্যদিকে হাইতি অন্তত গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষদের কঠিন পরীক্ষা নিতে চাইবে। জয় না পেলেও প্রতিপক্ষকে রুখে (ড্র) দিয়ে বড় মঞ্চে আশার সঞ্চার করতে চায়। খাতা-কলমে আন্ডারডগ হলেও মাঠে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র হাইতি। বাংলাদেশ সময় রবিবার সকাল ৭টায় ম্যাসাচুসেটসে বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। 

বাছাই পর্বে স্কটল্যান্ডের শেষ রাতটি ছিল রোমাঞ্চের চেয়েও নাটকীয়। গ্রিসের কাছে হেরে যখন স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছিল, তখনই ভাগ্যের ছোঁয়ায় অন্য সমীকরণে বেঁচে ফেরে স্কটিশরা। আর ডেনমার্কের বিরুদ্ধে সেই ফয়সালার ম্যাচে স্কট ম্যাকটোমিনের অবিশ্বাস্য সেই ‘ওভারহেড কিক’ থেকে শুরু করে কিয়েরান টিয়ার্নির বুলেট গতির গোল, সবই ছিল রূপকথার মতো। ম্যাকটমিনের শূন্যে ভাসা কিকটি এতটাই নান্দনিক ছিল যে, তার উচ্চতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিখ্যাত বাইসাইকেল কিকের উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের নেতৃত্ব ও ভরসার প্রতীক অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন। বড় তারকা ইপিএলে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো জন ম্যাকগিন। দলটির বড় শক্তি তাদের মাঝমাঠ। স্কট ম্যাকটমিনে, জন ম্যাকগিন ও বিলি গিলমরদের অভিজ্ঞতা এবং আগ্রাসী ফুটবল স্কটিশ মিডফিল্ডকে দিয়েছে এক নতুন রূপ, যা বড় মঞ্চে যেকোনো দলের জন্যই ভয়ের কারণ হতে পারে। অতীতে ৯ বার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারেনি তারা। 

সত্তরের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত যারা বিশ্বকাপের নিয়মিত মুখ ছিল, সেই দেশটি ১৯৯৮ সালের পর থেকে বিশ্বমঞ্চে ছিল ব্রাত্য। টানা ছয়টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। কোচ স্টিভ ক্লার্ক যখন ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেন, স্কটিশ ফুটবল ছিল তখন দিকভ্রান্ত। সেই ক্লার্কের হাত ধরেই বদলে গেছে দেশটির ফুটবলে। প্রায় তিন দশক পর ফিরে এসেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। 

অন্যদিকে ৫২ বছর পর ফেরা হাইতি এর আগে ১৯৭৪ সালে একবারই বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল, তিন ম্যাচে ১৪ গোল হজম করে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্বে। হাইতি জাতীয় ফুটবল দলের রূপকথার প্রত্যাবর্তনের নায়ক ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়েন মিগনে। অথচ আজ পর্যন্ত হাইতির মাটিতে পা রাখতে পারেননি তিনি। চরম নিরাপত্তাসংকটের কারণে মিগনেকে তার পুরো রণকৌশল সাজাতে হয়েছে বিদেশের মাটিতে বসে। বাছাইয়ে গ্রুপ পর্বে কুরাসাওয়ের কাছে ৫-১ ব্যবধানে হারের বড় ধাক্কা সামলে নিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। হন্ডুরাস ও কোস্টারিকার মতো অভিজ্ঞ শক্তিকে পেছনে ফেলে কনকাকাফ অঞ্চলের গ্রুপসেরা হয়েই বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে হাইতি।

অনেকের মতে, এটি গত দুই দশকের মধ্যে হাইতির সেরা ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে মাঠ মাতাচ্ছেন হাইতির তিন ফুটবলার। প্রিমিয়ার লিগের সান্ডারল্যান্ডের হয়ে মাঠ মাতানো উইলসন ইসিদোর তো রীতিমতো তারকা! উলভারহ্যাম্পটনের জাঁ-রিকার বেলগার্ড, বার্নলির হানেস দেলক্রো এবং এজে অক্সারের জসু কাসিমিরদের মতো প্রবাসে থাকা তারকাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন ডানলি জিন জেকস, রিকাদো আদে ও দন দিদসনদের মতো স্থানীয়রা। ড্যানলি জঁ জাকের নেতৃত্বে আছেন ডেরিক এতিয়েন জুনিয়র, লুইসিয়াস ডিডসন এবং দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ডাকেন্স নাজন। বিশ্বকাপে হাইতির সফল হওয়ার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় হলো নিজেদের রক্ষণভাগকে জমাট রাখা, শারীরিক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে টেক্কা দেওয়া এবং সেট-পিস বা কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল আদায় করে নেওয়া। কঠিন গ্রুপে কাজটা মোটেও সহজ হবে না। 

বিশ্বকাপ রেকর্ডস
স্কটল্যান্ড

ফিফা র‌্যাঙ্কিং: ৪৩
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: এ নিয়ে ৯ বার
সেরা ফল: ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০ ও ১৯৯৮ আসরে গ্রুপ পর্ব 
শক্তি: শারীরিক সক্ষমতা ও লড়াকু মানসিকতা
দুর্বলতা: বিশ্বমানের তারকা খেলোয়াড়ের অভাব

হাইতি 
ফিফা র‌্যাঙ্কিং: ৮৩ 
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: এ নিয়ে দ্বিতীয়বার
সেরা ফল: ১৯৭৪ আসরে গ্রুপ পর্ব 
শক্তি: গতিময় আক্রমণ
দুর্বলতা: অভিজ্ঞতার ঘাটতি