তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে তাদের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে হারানোর স্মৃতি নিয়ে বাংলাদেশ দল এবার নিজেদের মাটিতে সমানসংখ্যক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ে এই সিরিজে আত্মবিশ্বাস হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন অধিনায়ক লিট দাস। আজ প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে গতকাল মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তার বলা কথার চুম্বক অংশ খবরের কাগজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস, এই সিরিজে কতটা আত্মবিশ্বাস জোগাবে?
লিটন: পাকিস্তানে যখন খেলতে যাই, একই চিন্তাধারা ছিল যে জেতার জন্য খেলব। দুর্ভাগ্যবশত জিততে পারিনি। কিছু ভুল করেছি, তাই ফল আনতে পারিনি। তবে শ্রীলঙ্কা সিরিজে প্রথম ম্যাচ হারার পর ভালোভাবে কামব্যাক করেছি। অবশ্যই আমাদের প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভেতরে আত্মবিশ্বাস জন্মেছে। তবে একই সঙ্গে এখন ভিন্ন কন্ডিশন, ভিন্ন দল। তাই পার্টিকুলারলি ওই দিনে ওই ভাবেই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আত্মবিশ্বাস আপনাকে সাহায্য করবে। একই সময়ে অবস্থানটা ধরে রাখার জন্য আপনার মনোযোগটা কেমন আছে, সেটাও অনেক বেশি জরুরি হবে সামনের ম্যাচের জন্য।
প্রশ্ন: হোম কন্ডিশনের সুবিধা? যেকোনো দলকে হারানোর মানসিকতা কী আছে?
লিটন: যেকোনো দলকে হারানোর মতো মানসিকতা আমাদের আছে। আমরা সেই চেষ্টাই করব। তবে আপনাকে নির্দিষ্ট দিনে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। তার মানে এই না যে, হোম কন্ডিশন বলে আমরাই ভালো ক্রিকেট খেলব। আগেও বলেছি, পাকিস্তান ভালো দল। তাদের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই বিপিএল খেলে থাকে। তারাও সেই কন্ডিশনটা সম্পর্কে জানে। আমরা চেষ্টা করব, ভালো ক্রিকেট খেলার।
প্রশ্ন: হাই স্কোরিং ম্যাচ?
লিটন: আমার ক্রিকেট অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয় এখানে (বিপিএল ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রানের তফাত) দুটি বিষয়। আমরা যখন বিপিএল খেলি, একটা ইনিংস থাকে যেখানে শিশির পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তখন ব্যাটিং করাটা সহজ হয়ে যায়। আর বিপিএলে আমার মনে হয় না, প্রত্যেক দলে ৫টা মানসম্পন্ন বোলার থাকে। তাই ২-১টা বোলারকে টার্গেট করলে রানটা বেড়ে যায়। তবে জাতীয় দল ভিন্ন জায়গা। প্রতিটি দলে ৫-৬টা মানসম্পন্ন বোলার থাকে। তো আমার মনে হয়, হাই স্কোরিং না হলেও খেলাটা জমবে খুব। দুই দলই কাছাকাছি থাকবে।
প্রশ্ন: একই একাদশ?
লিটন: পার্টিকুলার দিন, পার্টিকুলার কন্ডিশনের ওপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব (একই একাদশ নাকি বেঞ্চ দেখব)। আমাদের দলে যে বেঞ্চের শক্তি আছে, সবাই খেলার মতো সামর্থ্যবান। আমরা টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে ঠিক করব, কোন সময় কাকে খেলানো যায়। আমরা সেভাবেই চেষ্টা করব।
প্রশ্ন: অধিনায়কত্ব ও নিজের ব্যাটিং?
লিটন: যখন ব্যাটিংয়ে যাই, তখন তো আমি ব্যাটসম্যান থাকি, অধিনায়ক থাকি না। আমার দায়িত্ব হচ্ছে রান করা। প্রত্যেক ম্যাচে আমার এটাই চিন্তা থাকে। যত দিন ক্রিকেট খেলি, যদি ভবিষ্যতেও অধিনায়ক থাকি, একই চিন্তা থাকবে। এই মুহূর্তে ভবিষ্যৎ অতটা দেখাটা ঠিক না। কারণ এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ এখনো অনেক দূর। এরপর আমাদের হাতে সময় থাকবে। আপনি একসঙ্গে তো ১০ ধাপ এগোতে পারবেন না। এক-দুই-তিন করে এগোতে হবে। সেই ধাপগুলো হচ্ছে এই জায়গা। আমরা চেষ্টা করব ওই ধাপগুলো পূরণ করতে।
প্রশ্ন: মিরাজ, না মেহেদি
লিটন: দুজনের (মিরাজ ও মেহেদি) সম্ভাবনাই খুব বেশি। আমার মনে হয়, আমরা সিদ্ধান্ত নেব, কালকেই (আজ) দেখতে পারবেন।
প্রশ্ন: পাওয়ার প্লেতে ওপেনার
লিটন: একটা ওপেনারকে তো ব্যাটিং ভালো করতেই হবে। শুধু (তানজিদ) তামিম না, (পারভেজ হোসেন) ইমনও দুই-একটা ম্যাচ খুবই ভালো ইনিংস খেলেছে এবং ইন ফ্যাক্ট ও তো ইউএই-এর সঙ্গে একশও মেরেছে। তো এটা বিগ অ্যাচিভমেন্ট। প্রত্যেকটা ওপেনার, ওপেনার না শুধু, যে ব্যাটসম্যান যাবে তারই রোল হচ্ছে ইনিংসটা বড় করা এবং ইফেক্টিভ ইনিংস খেলা।
প্রশ্ন: নাঈম শেখের এক ম্যাচ খেলে বাদ পড়া?
লিটন: প্রফেশনাল প্লেয়ারের মেন্টালি ডাউন হওয়ার কোনো চান্স এখানে আমি দেখি না। আপনাকে এটাও বুঝতে হবে, যেকোনো প্লেয়ারই যখন বাংলাদেশ টিমে ঢোকে, সে ডমিস্টিকে রান করেই ঢোকে। বাট আপনি যার জায়গাটা নিবেন, যার জায়গায় খেলবেন, সে তো ন্যাশনাল টিম খেলছে এবং প্রুভেন। সো তার জায়গায় আসতে গেলেও আপনাকে এ রকম সিচুয়েশন পার করে আসতে হবে। যেমন আপনি বললেন যে, জাকের ইনজুরড থাকার কারণে সে (নাঈম শেখ) খেলছে। জাকের যদি ইনজুরড না থাকত, নাঈম খেলত না। সো জিনিসগুলো এখনকার জন্য। তারও অনেক সময় আছে, অপরচুনিটি আসবে। যদি অপরচুনিটি আসে সে চেষ্টা করবে হান্ড্রেড পার্সেন্ট দেওয়ার। আই বিলিভ, নাঈমেরও সেই ক্যাপাবিলিটি আছে।
প্রশ্ন: বিপিএলে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের খেলা প্রসঙ্গে?
লিটন: ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মজাই এটা যে, বিশ্বের সব ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলার সুযোগ থাকে, বন্ধুত্ব করার সুযোগ থাকে। আমার মনে হয়, এটা দুই দিক থেকেই কাজে দেবে। তারাও যেমন আমাদের শক্তি-দুর্বলতার জায়গা জানবে, আমরাও তাদের সঙ্গে খেলে, তাদের শক্তি-দুর্বলতা জানি। তাই আমার মনে হয় না, খুব একটা সমস্যা হবে। তবে ইকুয়েলি এটা খুব ভালো দিক।
প্রশ্ন: উইকেট নিয়ে?
লিটন: উইকেট ভালোই দেখলাম। আমার কাছে মনে হয় ভালো উইকেট হবে। ব্যাটিং-বোলিং দুই সাইডেই থাকবে।