একটা সময় তার বোলিং ছিল ক্ষুরধার সম্পন্ন। গতির সঙ্গে ছিল কাটার ম্যাজিকও। হরহামেশাই বিভ্রান্ত হতেন ব্যাটাররা। সুবাদে মোস্তাফিজুর রহমান উইকেট তুলে নিতেন মুড়ি-মুড়কির মতো। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেকের বছরে এমন দৃশ্য নিয়মিত ছিল মোস্তাফিজের জন্য।
সময়ের তালে তালে আরও পরিপক্ব হয়েছেন এই পেসার। বোলিংয়ে ক্যারিয়ার-শুরুর সেই ধামাকা খুব একটা চোখে না পড়লেও মোস্তাফিজ যে আরও পরিণত হয়েছেন তা স্পষ্ট। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে মোস্তাফিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগার, ৪-১-১০-৬। মানে ৪ ওভারে এক মেডেনসহ ১০ রানে তিনি নিয়েছেন ৬ উইকেট। গত বছরেই তিনি এমন বোলিং করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
এর আগের সেরা বোলিং ফিগারটি ছিল তার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১৬ সালে ইডেন গার্ডেন্সে ৪ ওভারে ২২ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। গতকাল মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে মোস্তাফিজ নেন দুটি উইকেট। তারপরও আলোচনায় ফিজ। কারণটা রান দেওয়ার পরিসংখ্যানে। এদিন তিনি ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৬ রান, যা বাংলাদেশি বোলারদের জন্য নতুন রেকর্ড।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভারের বোলিং কোটা পূরণ করে সবচেয়ে কম রান দেওয়ার বাংলাদেশি রেকর্ড এখন মোস্তাফিজুর রহমানের। এর আগে রিশাদ হোসেন ও তানজিম হাসান ৪ ওভারে ৭ রান দিয়েছিলেন।
টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে চার ম্যাচে ১০ রানের কম খরচ করলেন মোস্তাফিজ। বাংলাদেশ তো বটেই, আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যেই পূর্ণ ৪ ওভার বোলিং করে চার ম্যাচে ১০ রানের কম খরচের রেকর্ড নেই কোনো বোলারের। তিনবার করে ম্যাচে ১০ রানের কম খরচ করেছেন সাকিব আল হাসান, ভুবনেশ্বর কুমার ও ইমাদ ওয়াসিম।
পাকিস্তান ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথম বল করতে আসেন মোস্তাফিজ। রান দেন মাত্র একটি, তুলে নেন হাসান নেওয়াজের উইকেট। ১২তম ওভারে মোস্তাফিজ দেন ওয়াইড ২ রান। এই ওভারেই দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে ভুলবোঝাবুঝিতে রান আউট হন ফখর জামান। ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজের আগমন। এই ওভারে তিনি দেন দুই রান। তুলে নন খুশদিল শাহর উইকেট। ১৯তম ওভার একটা রান না দিলেই মেডেন ওভার হয়ে যেত তার।
বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভার বোলিং করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ রান দেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মাহেদী হাসান। সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদ বোলিং করেছেন সাড়ে তিন ওভার। রান দেন ২২। তানজিম সাকিব ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। রিশাদ হোসেন ৩ ওভারে ১৯ রান দিয়েই ছিলেন উইকেটশূন্য।
তাসকিন শুরুতে ক্যাচ মিস করলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বোলিং অধ্যায় ছিল দেখার মতো। পাকিস্তানের মতো দলকে ১৯.৩ ওভারে অল আউট করে দেয় মাত্র ১১০ রানে। বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের এই সংস্করণে এটিই দলীয় সর্বনিম্ন। আগের সর্বনিম্ন ১২৯/৭, ২০১৬ সালে মিরপুরেই এশিয়া কাপে।
পাকিস্তান তাদের শেষ ওভারটা শুরু করেছিল ৭ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে। ওভারের প্রথম তিন বলেই উইকেট হারিয়ে অলআউট দলটি। তাসকিনের করা ওভারের প্রথম বলে মাহেদীকে ক্যাচ দেন ফাহিম আশরাফ। পরের বলে রানআউট অভিষিক্ত সালমান মির্জা। তৃতীয় বলে আব্বাস আফ্রিদি ক্যাচ দেন লিটন দাসকে।