জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলেছেন, আমি কথা বলার অবস্থায় নেই। আমার জীবনে কি ঘটে গেলো সেটি আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। সিএন্ডজি অটো রিকশায় ঢুকিয়ে আমাকে গলা টিপে ধরেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা। থানায় নেওয়ার পর ওসি বলেছেন, তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এভাবে ঘটনার ব্যাখ্যা করেন তিনি নিজেই।
গত শুক্রবার রাতের ঘটনার পর থেকে শনিবার সারাদিনই আলোচনায় নাঈম হাসানের ঘটনাটি। ঘটনার পর পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের পর এবার নিজেও গণমাধ্যমের সামনে এসে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
থানায় নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও খুলশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল হক তাকে ‘চোখ নিচে নামিয়ে কথা বলতে’ বলেছিলেন বলে অভিযোগ করেন এই ক্রিকেটার।
তিনি বলেন, কোনো তথ্য থাকলে পুলিশ অবশ্যই আমাকে থামিয়ে ব্যাগ চেক করতে পারত। তল্লাশি করার অধিকার তাদের আছে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। আমি সিএনজি থেকে নামার পর আবার উঠতে গেলে একজন পুলিশ সদস্য ভেতরে ঢুকে আমার গলা চেপে ধরে। আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। তারা আমার ব্যাগও চেক করেনি, কিছুই চেক করেনি। সবকিছু থানায় নিয়ে যায়।
নাঈমের অভিযোগ, থানায় নেওয়ার পর নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তিনি সম্মানজনক আচরণ পাননি। কিন্তু ওসির কাছে একটি ফোন আসার পর ওসি একটু শান্ত গলায় কথা বলতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, আমি ওসিকে আমার পরিচয় দিয়েছি। পরিচয় দেওয়ার পর উনি আমাকে বললেন, ‘চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল।’ এটা বলার কিছুক্ষণ পরই উনার মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনে কথা বলার পর তিনি আবার আমাকে বললেন, ‘ভাইয়া, আপনি বসেন।’ তখন তার কথার সুর পুরোপুরি বদলে যায়।
ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নাঈম বলেন, রাতের ওই সময়ে আশপাশের মানুষ এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
তিনি বলেন, প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জনের মতো মানুষ সেখানে ছিল। ওদেরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিতে চাই। ওরা না থাকলে ঘটনাটা অন্যরকম হতে পারত। যখন আমাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, আমি তাদের বলেছিলাম আমার সঙ্গে আসতে। তারা আমার সঙ্গে থানায় গেছে। এজন্য অন্য কিছু করার সুযোগ পায়নি।
ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে রয়েছেন বলেও জানান নাঈম।
তিনি বলেন, আমি এখন একটু একা থাকতে চাই। গতকাল থেকে সারারাত ঘুমাইনি। ঘটনাটা অনেকবার বলতে হয়েছে। মানসিকভাবে আমি খুবই বিপর্যস্ত।
মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার বলেন, আইন অনুযায়ী সরকার যে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে পারে, আমি সেটাই চাই। ভবিষ্যতে আর কোনো মানুষের সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে।
নাঈম দাবি করেন, রাতভর থানায় থাকার পর পুলিশের উপস্থিতিতেই তার ব্যাগের প্রতিটি জিনিসপত্র তল্লাশি করা হয়। গ্লাভস, ব্যাট, হেলমেট, পোশাকসহ সবকিছু একে একে বের করে দেখানো হলেও কোনো ধরনের অবৈধ বস্তু পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই অফস্পিনার এখন পর্যন্ত ১৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। উইকেট নিয়েছেন ৪৮টি। ক্যারিয়ারে চারবার এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে তার।
সংবাদ সম্মেলনে নাঈমের ভাই সাজ্জাদ হাসান ও বাবা চসিকের সাবেক কমিশনার মাহবুবুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
পরে মাহবুবুল আলম বলেন, আমার ছেলে একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারের উপর এ অবস্থা করেছে পুলিশ। তাহলে সাধারণ মানুষ হলে কি অবস্থা হতো। পুলিশ এখনও কোন পরিবর্তন হয়নি। ঘটনায় জড়িত পুলিশদের সাময়িক বরখাস্ত হলো লোক দেখানো। আমি ওই পুলিশদের চাকুরীচ্যুত ও শাস্তি দাবি করছি, তাদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।
এসএন/