এশিয়া কাপের সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ম্যাচটি দুই দলের জন্যই বাঁচা-মরার। ফাইনালের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই। তবে হেরে গেল এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিদায়ঘণ্টা বাজবে। আবুধাবিতে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।
শ্রীলঙ্কা টানা তিন জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার ফোরে নাম লেখায়। তবে এই পর্বে শুরুটা তাদের বাজে। বাংলাদেশের কাছে হেরে যায় চার উইকেটে। ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বাকি দুই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই লঙ্কানদের। আজ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, এরপর ভারত। সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার সামনে দুর্গম পথই।
সেই তুলনায় পাকিস্তানের রাস্তা কিছুটা সহজ। যদিও তাদের সুপার ফোরের শুরুটা হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ৬ উইকেটে হেরে। আজ তাদের খেলতে হবে নড়বড়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। শেষ ম্যাচে পাক শিবিরের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ।
তবে অফ-ফিল্ড নানা ইস্যুতে শিরোনামে থাকা পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স মাঝারি মানের থেকেও নিচে নেমে গেছে। একই আসরে দুইবার ভারতের কাছে পরাজয়ে মানসিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে দলটি। সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের অনুপস্থিতি তাদের ব্যাটিং লাইনআপের দুর্বলতা প্রকট করেছে। টেকনিক ও মানসিক দৃঢ়তার ঘাটতি স্পষ্ট।
বোলিংয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ধারাবাহিকতা। লেগ-স্পিনার আবরার আহমেদ ওমান ও আমিরাতের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে কার্যকর হলেও ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে সঠিক লেন্থ খুঁজে পাননি, উল্টে মার খেয়েছেন রীতিমতো।
শ্রীলঙ্কা গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে এগোলেও সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের বিপক্ষে হার। এতে শুধু তাদের জয়ের ধারা থামেনি, ভেঙেছে টানা আট ম্যাচের জয়ের রেকর্ডও। তাদেরও কিছু দুর্বল জায়গা আছে। বিশেষ করে নড়বড়ে মিডল অর্ডার ব্যাটিং। যদিও বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ নম্বরে নেমে দাসুন শানাকার পাল্টা আক্রমণ কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল। গ্রুপ পর্বে টানা দুটি হাফসেঞ্চুরি করা পাথুম নিসাঙ্কা এখন ছন্দে নেই। তবে কুশল মেন্ডিস ও কামিল মিশারা ভালো ফর্মে আছেন, যারা ব্যাটিংয়ে স্থিতি আনতে পারেন।
পেসার নুয়ান তুষারা নজর কেড়েছেন ইতোমধ্যে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ছয় উইকেট নিয়ে তিনি আছেন চতুর্থ স্থানে। স্পিন জাদুকর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুশমন্ত চামিরা, চারিথ আসালাঙ্কা ও অধিনায়ক শানাকাও বিভিন্ন ম্যাচে কার্যকর অবদান রেখেছেন।
হেড টু হেড
টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হয়েছে মোট ২৩ বার। তাতে পাকিস্তানের জয় ১৩টি। শ্রীলঙ্কা জিতেছে ১০টিতে। প্রায় তিন বছর পর দুই দল আবার এই সংস্করণে মুখোমুখি হচ্ছে। দুই দলের সর্বশেষ লড়াই ছিল এশিয়া কাপে, ২০২২ সালে। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে অবশ্য পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।
পিচ রিপোর্ট
আবহাওয়ার কারণে মাঠে বাতাস নতুন বলে সিমারদের সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্পিনাররাও ভূমিকা রাখতে পারবেন। এই ভেন্যুতে এখন পর্যন্ত হওয়া সাত ম্যাচে দেখা গেছে, স্পিনারদের বল ব্যাটে আসতে সময় নিচ্ছে।
সম্ভাব্য একাদশ
পাকিস্তান
সায়েম আয়ুব, সাহিবজাদা ফারহান, ফখর জামান, সালমান আঘা (অধিনায়ক), হুসেইন তালাত, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, শাহীন আফ্রিদি, হারিস রউফ ও আবরার আহমেদ।
শ্রীলঙ্কা
পাথুম নিসাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস (উইকেটরক্ষক), কামিল মিশারা, কুশল পেরেরা, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), দাসুন শানাকা, কামিন্দু মেন্ডিস, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ওয়েল্লালাগে, দুশমন্ত চামিরা ও নুয়ান তুষারা।
চঞ্চল/নিলয়/