এল ক্লাসিকোর মতো কিছুই নেই। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা যখনই মুখোমুখি হয়, ফুটবল দুনিয়ায় এর চেয়ে বড় ম্যাচ আর থাকে না। আজ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তেমনই আরেকটি মহারণ হতে চলেছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠে লড়তে নামবে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। লিগে নবম রাউন্ডের ম্যাচ শেষে রিয়ালের চেয়ে ২ পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে কাতালান ক্লাবটি। সেই ব্যবধান কমিয়ে শীর্ষে উঠার লক্ষ্য নিয়েই এল ক্লাসিকো মোকাবিলা করবে বার্সা।
গত মৌসুমে রিয়ালের বিপক্ষে বার্সা ছিল অপ্রতিরোধ্য। হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে চার এল ক্লাসিকোর সবকটি জিতেছিল তারা। তখন দলের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল ছিলেন সেই জয়গুলোর অন্যতম নায়ক এবং আজকের ম্যাচেও তিনি ফ্লিকের ট্রামকার্ড। এদিকে ম্যাচটি বিশেষ রিয়াল কোচ জাবি আলোনসোর কাছে, যিনি খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাবের হয়ে লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন। এবার প্রথমবারের মতো কোচ হিসেবে এল ক্লাসিকোর স্বাদ পাবেন। জাবির ট্রামকার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই তারকা স্ট্রাইকার বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন।
রিয়াল ঐতিহাসিকভাবে বার্সার বিপক্ষে হেড-টু-হেড রেকর্ডে বেশির ভাগ সময়ই এগিয়ে ছিল, যা শুরু হয়েছিল ১৯৩০-এর দশক থেকে। এরপর উভয় দলই নিজেদের আধিপত্যের সময় পেয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে রিয়াল মাদ্রিদ ছিল প্রভাবশালী। আর ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে বার্সেলোনা ছিল দাপুটে। তবে গত দুই দশকে এই ভারসাম্য বদলাতে শুরু করে, বিশেষত পেপ গার্দিওলার যুগে। ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪টি ক্লাসিকোতে মাদ্রিদ মাত্র একটিতে জিতেছিল, যেখানে গার্দিওলার বার্সা জয় পেয়েছিল ৬-২ ও ৫-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক দুই ম্যাচে, পাশাপাশি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালেও মাদ্রিদকে হারিয়েছিল।
এরপর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটি অনেক বেশি সমানতালে চলে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বার্সা ছিল টানা সাত ম্যাচে অপরাজিত। আর ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদ টানা ছয়টি ক্লাসিকোতে অপরাজিত ছিল। তবে গত মৌসুমে বার্সার টানা চার জয় তাদের অল-টাইম হেড-টু-হেড রেকর্ডে মাদ্রিদের সমতায় পৌঁছে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে এনে দিয়েছে। আগের ২৬১ এল ক্লাসিকোতে রিয়ালের জয় ১০৫টি, বার্সার ১০৪টি। বাকিগুলো ছিল অমীমাংসিত (ড্র)।
চলতি মৌসুমে দুই দল
গত মৌসুম বিবেচনায় রিয়াল এখন আরও উন্নত, তবে তারা এখনো একটি ‘ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস’- অর্থাৎ, পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। দলের খেলায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে বল ছাড়া খেলার ধরনে। সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক নিঃসন্দেহে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্ম। চলতি মৌসুমে তিনি ১১টি ম্যাচের ১০টিতে গোল করেছেন। ভিনিসিউস জুনিয়রও ধীরে ধীরে তার সেরা ফর্মে ফিরছেন। মিডফিল্ডে এখনো পুরোপুরি ছন্দে আসেনি, তবে আরদা গুলার দলে দারুণ এক প্রভাব সৃষ্টি করেছেন, যিনি চলতি মৌসুমে এমবাপ্পের পাঁচ গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। লা লিগায় মাদ্রিদের রেকর্ডও চমৎকার, ৯ ম্যাচে ৮ জয়। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে বড় পরাজয়।
অপরদিকে বার্সা এখনো গত মৌসুমের মতো উচ্চতা ছুঁতে পারেনি। এটা স্বীকার করেছেন ফ্লিক। ইতোমধ্যে ক্লাবের দুটো সমস্যা খুঁজে পেয়েছেন তিনি। প্রথমটি, খেলোয়াড়দের পজিশনিংয়ে ঘাটতি। দ্বিতীয়টি, প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির তীব্রতা কমে যাওয়া। এর সঙ্গে ইনজুরিও বড় ভূমিকা রেখেছে। রাফিনহা, লামিনে ইয়ামাল, ফারমিন লোপেজ, গাভি, জোয়ান গার্সিয়া, দানি ওলমো এবং রবার্ট লেভানদভস্কির মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা মৌসুমের বিভিন্ন সময়ে বাইরে ছিলেন। তবুও ফলাফল একেবারে খারাপ বলা যায় না- চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচের মধ্যে দুটি জয় এবং লা লিগায় রিয়ালের চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্টে পিছিয়ে আছে।
অনিক/নিলয়/