ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক
Nagad desktop

পঞ্চগড় জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৪, ১১:৪৪ এএম
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ১১:০১ এএম
পঞ্চগড় জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ
কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় রূপ দেখা যায় পঞ্চগড় থেকে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের একটি সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়। অক্টোবর নভেম্বরের দিকে পঞ্চগড় থেকে হিমালয় পর্বতমালার অন্যতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলে। তাই এ সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষেরা ছুটে আসেন পঞ্চগড়ে। পঞ্চগড়ে এলে একইসাথে দেখে নিতে পারেন আরো বেশকিছু স্থান। পঞ্চগড়ের দর্শনীয় স্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা ও খাবার সম্পর্কে জানাচ্ছেন মোহনা জাহ্নবী

উপজেলাভিত্তিক দর্শনীয় স্থানসমূহ এবং সদর উপজেলা থেকে অন্যান্য উপজেলার দূরত্ব

সদর উপজেলাঃ

-মহারাজার দিঘী
-ভিতরগড় ও ভিতরগড় দুর্গনগরী
-মীরগড়
-রকস মিউজিয়াম

তেতুলিয়া উপজেলাঃ (৩৯ কিলোমিটার)

-কাজী টি এস্টেট
-জিরো পয়েন্ট
-কাঞ্চনজঙ্ঘা 
-ডাকবাংলো (এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ সবচেয়ে ভালো দেখা যায়।)
-কাজী রেজওয়ান উল্লাহর জমিদার বাড়ি 

আটোয়ারী উপজেলাঃ (২২.৮ কিলোমিটার)

-আটোয়ারী ইমামবাড়া
-মির্জাপুর শাহী মসজিদ

বোদা উপজেলাঃ (১৯ কিলোমিটার)

-মাড়েয়া ফরেস্ট
-বদেশ্বরী মহাপিঠ মন্দির

দেবীগঞ্জ উপজেলাঃ (৪০.২ কিলোমিটার)

-নিপেন্দ্রনারায়ণ ডাকবাংলো
-নিপেন্দ্রনারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
-ময়নামতির চর
-কুচবিহার রাজার কাচারি ও অবকাশ ভবন
-জগবন্ধু ঠাকুরবাড়ি
-গোলকধাম মন্দির

জনপ্রিয় খাবার

-ডিম ভুনা
-মীরগড় এর ‘টোপা’ মিষ্টি
-এনায়েতপুরের তিশা সুইটস এর লুচি সবজি
-আনন্দ বাজার(আগের নাম মীনা বাজার) এর অর্গানিক মিষ্টি 

ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যাতায়াত ব্যবস্থা

সড়কপথে:
নাবিল, হানিফ ও শ্যামলী পরিবহন এই পথে চলাচল করে। শ্যামলী, গাবতলী ও কলেজগেইট থেকে বাসে উঠতে হয়। ভাড়া নন এসি ও এসি ১১০০-১৯০০ টাকা পর্যন্ত। 
রেলপথে:
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস এ পথে চলাচল করে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উঠতে হয়। ভাড়া ৬৯৫-২৩৯৮ টাকা পর্যন্ত। 

জাহ্নবী

নর্ডিক দেশসমূহ: প্রকৃতি, সমৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
নর্ডিক দেশসমূহ: প্রকৃতি, সমৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত
ছবি: খবরের কাগজ

ইউরোপের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত নর্ডিক দেশসমূহ পৃথিবীর অন্যতম শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং বাসযোগ্য অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত এই অঞ্চল শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নয়, বরং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ সচেতনতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনমানের জন্যও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।

বিশ্ব সুখ সূচক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, স্বচ্ছতা, মানবাধিকার এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে নর্ডিক দেশগুলো নিয়মিতভাবে শীর্ষস্থান অধিকার করে। এখানকার মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে বিশ্বাস করে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়নের এক অনন্য মডেল গড়ে তুলেছে।

নরওয়ে: ফিয়র্ডের দেশ

নরওয়ে তার অপরূপ ফিয়র্ড, সুউচ্চ পাহাড়, জলপ্রপাত এবং দীর্ঘ সমুদ্র উপকূলের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। হাজার হাজার বছর আগে হিমবাহের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া গভীর উপসাগর বা ফিয়র্ডগুলো আজও পর্যটকদের বিস্ময়ে অভিভূত করে।

রাজধানী অসলো আধুনিক নগর পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সুপরিচিত। অন্যদিকে লোফোটেন দ্বীপপুঞ্জ, গেইরাঙ্গার ফিয়র্ড এবং ট্রোমসো অঞ্চলে দেখা মিলতে পারে প্রকৃতির অন্যতম বিস্ময় নর্দার্ন লাইটসের। এসব স্থান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।

সুইডেন: উদ্ভাবন ও প্রকৃতির মেলবন্ধন

সুইডেন স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বৃহত্তম দেশ। বিস্তীর্ণ বনভূমি, অসংখ্য হ্রদ এবং আধুনিক নগর সভ্যতার এক চমৎকার সমন্বয় এখানে দেখা যায়।

রাজধানী স্টকহোম উত্তর ইউরোপের অন্যতম সুন্দর শহর হিসেবে পরিচিত। অসংখ্য দ্বীপের ওপর গড়ে ওঠা এই শহরকে অনেকেই “উত্তরের ভেনিস” বলে অভিহিত করেন।

প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, পরিবেশবান্ধব জীবনধারা এবং উচ্চমানের শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে সুইডেন বিশ্বের অন্যতম উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণা, শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।

ফিনল্যান্ড: হাজার হ্রদের দেশ

ফিনল্যান্ডকে বলা হয় হাজার হ্রদের দেশ। বাস্তবে দেশটিতে রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি হ্রদ।

গ্রীষ্মকালে সবুজ বনভূমি ও হ্রদের অপরূপ সৌন্দর্য যেমন মুগ্ধ করে, তেমনি শীতকালে তুষারে ঢাকা প্রাকৃতিক দৃশ্য এক ভিন্ন জগতের অনুভূতি তৈরি করে।

রাজধানী হেলসিঙ্কি আধুনিক স্থাপত্য, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার জন্য পরিচিত। উত্তরাঞ্চলের ল্যাপল্যান্ডে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক নর্দার্ন লাইটস দেখতে আসেন।

বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যও ফিনল্যান্ড সুপরিচিত। পাশাপাশি প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ডেনমার্ক: সুখী মানুষের দেশ

ডেনমার্ককে প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর একটি বলা হয়। নাগরিকদের উচ্চ জীবনমান, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

রাজধানী কোপেনহেগেন তার রঙিন নৌবন্দর, সাইকেল সংস্কৃতি এবং পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনার জন্য বিখ্যাত।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ডেনমার্ক বিশ্বের অগ্রগামী দেশগুলোর অন্যতম। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সবুজ অর্থনীতির বিকাশেও দেশটির ভূমিকা প্রশংসিত।

আইসল্যান্ড: আগুন ও বরফের দেশ 

আইসল্যান্ড প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। আগ্নেয়গিরি, হিমবাহ, গেইসার, উষ্ণ প্রস্রবণ এবং জলপ্রপাতের অপূর্ব সমন্বয় দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে।

রাজধানী রেইকিয়াভিক পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরাঞ্চলীয় রাজধানী শহর। এখানে প্রকৃতির অপরিসীম শক্তি এবং আধুনিক জীবনযাত্রা পাশাপাশি অবস্থান করছে।

আইসল্যান্ডের ভূপ্রকৃতি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি এর প্রাকৃতিক পরিবেশও পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়।

কেন নর্ডিক দেশগুলো বিশ্বে অনন্য?

নর্ডিক দেশগুলোর সাফল্যের পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য-

উন্নত এবং বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচের শিক্ষা ব্যবস্থা
শক্তিশালী ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা
পরিবেশবান্ধব নীতি ও টেকসই উন্নয়ন
দুর্নীতির নিম্ন হার
নারী-পুরুষের সমতা
শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার
প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ

এখানকার মানুষ প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসেন। বনভূমিতে হাঁটা, হ্রদের ধারে সময় কাটানো, মাছ ধরা, স্কিইং কিংবা পরিবার নিয়ে কটেজে অবকাশ যাপন তাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ভবিষ্যতের জন্য একটি অনুপ্রেরণা

নর্ডিক দেশগুলো শুধু পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় নয়; মানবিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বিশ্বের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ।

আধুনিক সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কীভাবে পরিবেশ, মানুষ এবং উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তার সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই অঞ্চল। উন্নয়ন যে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের জীবনমান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত- নর্ডিক দেশগুলো তারই বাস্তব উদাহরণ।

বরফে আচ্ছাদিত পাহাড়, সবুজ বনভূমি, নীল হ্রদ, মনোমুগ্ধকর ফিয়র্ড এবং উন্নত জীবনব্যবস্থার সমন্বয়ে নর্ডিক অঞ্চল সত্যিই পৃথিবীর এক অনন্য সৌন্দর্যের নাম। একবার যে এই অঞ্চলের প্রকৃতি ও জীবনধারা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়, তার হৃদয়ে নর্ডিক দেশগুলোর জন্য একটি বিশেষ স্থান তৈরি হয়ে যায়।

আমান/

যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান
গদখালী ফুলের গ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুলচাষ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ছবি এআই

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা যশোর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। এই জেলায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, শতবর্ষী স্থাপনা, ধর্মীয় নিদর্শন, সবুজ উদ্যান এবং বিনোদনকেন্দ্র। পরিবার, বন্ধু বা একক ভ্রমণ—সব ধরনের পর্যটকের জন্যই যশোরে রয়েছে আকর্ষণীয় অনেক গন্তব্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক যশোর জেলার কয়েকটি ভ্রমণযোগ্য স্থানের কথা।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান, সাগরদাঁড়ি
বাংলা সাহিত্যের অমর কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান। এখানে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, জাদুঘর এবং কপোতাক্ষ নদের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

কপোতাক্ষ নদ
যশোরের ঐতিহাসিক নদীগুলোর অন্যতম। নদীর তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

যশোর আইটি পার্ক
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র। প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান।

যশোর কালেক্টরেট পার্ক
শহরের মাঝখানে অবস্থিত পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পার্ক। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য উপযোগী।

যশোর পৌর পার্ক
শিশু ও পরিবারকেন্দ্রিক বিনোদনের জন্য জনপ্রিয় একটি পার্ক।

যশোর ইনস্টিটিউট
ঔপনিবেশিক আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয়।

মনিরামপুর জমিদার বাড়ি
প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন। অতীতের জমিদারি ঐতিহ্যের সাক্ষী এই ভবন।

নওয়াপাড়া নদীবন্দর
ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত ব্যস্ত নদীবন্দর। নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে।

ভৈরব নদ
যশোরের অন্যতম প্রধান নদী। নদীতীরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে।

চাঁচড়া শিব মন্দির
প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা। এর ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যিক গুরুত্ব রয়েছে।

বেনাপোল জিরো পয়েন্ট
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। সীমান্ত এলাকার ব্যস্ততা ও পরিবেশ দেখার সুযোগ রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকা
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

গদখালী ফুলের গ্রাম
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুলচাষ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ফুলে ভরা ক্ষেতের সৌন্দর্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।

ঝিকরগাছা ফুলবাগান এলাকা
বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ ও রঙিন প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য জনপ্রিয়।

বকচরা ইকো পার্ক
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য উপযুক্ত একটি বিনোদনকেন্দ্র। সবুজ পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, যশোর
মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ দেয়।

শামস-উল-হুদা স্টেডিয়াম
যশোরের প্রধান ক্রীড়া ভেন্যু। ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে পরিচিত স্থান।

চৌগাছা রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ
অতীতের জমিদারি ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

কেশবপুরের প্রাচীন মন্দিরসমূহ
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন কয়েকটি মন্দির নিয়ে গড়ে উঠেছে এই এলাকা।

খাজুরা গ্রামাঞ্চল
গ্রামীণ জীবন, সবুজ প্রকৃতি এবং শান্ত পরিবেশ উপভোগের জন্য আদর্শ স্থান।

দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে
ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত মৈনট ঘাটটি রাজধানী থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে।

ঢাকার কাছে একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসার মতো দারুণ এক আকর্ষণীয় জায়গা মৈনট ঘাট, যা অনেকের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে ঢাকার বাইরে পুরো দিন কাটানোর জন্য এটি হতে পারে এক চমৎকার গন্তব্য।
ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত এ ঘাটটি রাজধানী থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে। ফলে খুব সহজেই সকাল সকাল রওনা হয়ে সারা দিন ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যেই আবার ঘরে ফিরে আসা সম্ভব। 
এখানে এসে যখন আপনি দাঁড়াবেন, তখন চোখের সামনে ভেসে উঠবে পদ্মা নদীর এক অন্তহীন ও সুবিশাল জলরাশি। পদ্মার বুকে হেলেদুলে ভেসে চলা জেলেদের নৌকা, মৃদু বাতাস আর নদীর পাড় ধরে হেঁটে বেড়ানোর অনুভূতি আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও শহরের কোলাহল ভুলিয়ে দেবে। এই চমৎকার পরিবেশের কারণেই ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে এটি মিনি কক্সবাজার হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

 

মৈনট ঘাট যাওয়ার উপায়

ঢাকা শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকেই আপনি খুব সহজে দোহারে আসতে পারবেন। যাতায়াতের জন্য নিচে কয়েকটি সহজ ও সুবিধাজনক বিকল্প মাধ্যম তুলে ধরা হলো–
১. সরাসরি বাস সার্ভিস: গুলিস্তান মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ‘যমুনা ডিলাক্স’ বাস ছেড়ে যায়। এই রুটে এটিই একমাত্র বাস যা আপনাকে একেবারে ঘাটের কাছাকাছি নামিয়ে দেবে। রাস্তা ফাঁকা থাকলে সাধারণত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, মৈনট ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে আসে সন্ধ্যা ৬টায়। তাই ফেরার তাড়া থাকলে অবশ্যই ৬টার আগেই বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত হতে হবে।
২. মুন্সীগঞ্জ হয়ে যাতায়াত: গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে আপনি ‘নগর পরিবহন’-এর বাসেও আসতে পারেন। নগর পরিবহন নবাবগঞ্জের রাস্তা ব্যবহার না করে মুন্সীগঞ্জ হয়ে যাতায়াত করে। এই বাসে এলে আপনাকে নামতে হবে কার্তিকপুর বাজারে। সেখান থেকে সহজে ঘাটে যাওয়া যায়।
৩. সিএনজি: ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে কদমতলী থেকে কার্তিকপুর বাজার পর্যন্ত লোকাল সিএনজি পাওয়া যায়। জনপ্রতি ভাড়া সাধারণত ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মতো। কার্তিকপুর বাজারে নেমে সেখান থেকে যেকোনো অটোরিকশায় চড়ে আপনি অনায়াসেই মৈনট ঘাট চলে যেতে পারবেন।

 

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখতে এখানে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে একেক ঋতুতে মৈনট ঘাটের সৌন্দর্য একেক রকম রূপ ধারণ করে–
• বর্ষাকাল: আপনি যদি পদ্মার উত্তাল রূপ, বিশাল ঢেউ আর চারপাশের সতেজ সবুজ প্রকৃতি দেখতে চান, তবে বর্ষাকাল আপনার জন্য সেরা সময়।
• শরৎকাল: সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের দিকে এই অঞ্চলের নদীর চারপাশ কাশফুলে ছেয়ে যায়। মনোরম নীল আকাশ আর সাদা কাশফুলের এই কম্বিনেশন ছবি তোলার জন্য দারুণ এক পরিবেশ তৈরি করে।
• শীতকাল: শীতের সময়ে পদ্মা নদী থাকে একদম শান্ত। এই সময়ে মৈনট ঘাট যাওয়ার পথে রাস্তার দুপাশে মাইলের পর মাইল সোনালি সরিষাখেতের দেখা মেলে। এছাড়া শীতকালে নদীর বুকে ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে ওঠে। স্পিডবোট বা নৌকা ভাড়া করে সেই নির্জন চরে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা।

 

দর্শনীয় স্থান ও আশপাশের পুরাকীর্তি

মৈনট ঘাটের মূল সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি আপনি এর কাছাকাছি এলাকার কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা ও জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখতে পারেন। ঘাট এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বান্দুরা নামক স্থানে চোখে পড়বে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো ইতিহাস জড়ানো ‘কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি’। স্থানীয় মানুষ একে ‘কালাকোপা জমিদার বাড়ি’ নামেও ডাকেন। ভাগ্যকুলের তৎকালীন বিখ্যাত জমিদার যদুনাথ রায় তার সন্তানদের বসবাসের জন্য এই দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন।
এই বাড়ির ঠিক কাছাকাছি এলাকাতেই রয়েছে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন, যার মধ্যে জজবাড়ি, উকিলবাড়ি এবং আন্ধারকোঠা অন্যতম। প্রতিটি স্থাপনাই জমিদার যদুনাথ রায়ের কীর্তি। আপনি যদি ইতিহাসপ্রেমী হয়ে থাকেন কিংবা পুরোনো দিনের স্থাপত্যশৈলী ও পুরাকীর্তি দেখতে ভালোবাসেন, তবে মৈনট ঘাট যাওয়ার পথে এই ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোয় একবার ঢুঁ মারতে ভুলবেন না।

খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা

ভ্রমণের সময় খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মৈনট ঘাটে ঋতুভেদে খাবারের ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা থাকে–
• শুকনো ও শীতকালীন মৌসুম: এই সময়ে নদীর পাড়ে অসংখ্য অস্থায়ী খাবারের হোটেল ও দোকান গড়ে ওঠে। পদ্মার একদম টাটকা ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করার মজাই আলাদা। 
• বর্ষাকাল: বর্ষার সময়ে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে ঘাটের সব অস্থায়ী দোকানপাট বন্ধ থাকে। তখন দুপুরের খাবারের জন্য আপনাকে কাছেই অবস্থিত কার্তিকপুর বাজারে যেতে হবে। এই বাজারে চলনসই ও মাঝারি মানের বেশ কিছু ভাতের হোটেল রয়েছে।
• মিষ্টির স্বাদ: কার্তিকপুর বাজারে এলে বিখ্যাত ‘রণজিৎ মোদক’ এবং ‘নিরঞ্জন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর রসগোল্লা চেখে দেখতে একদম ভুলবেন না। মিষ্টির পাশাপাশি এখানকার সুস্বাদু টক ও মিষ্টি দইও বেশ জনপ্রিয়।

 

রাতযাপনের সুবিধা

পর্যটকদের রাতে থাকার জন্য মৈনট ঘাট বা এর আশপাশে ভালো মানের কোনো হোটেল, গেস্টহাউস, বোর্ডিং কিংবা আধুনিক রিসোর্ট গড়ে ওঠেনি। এরপরও যদি আপনি বিশেষ প্রয়োজনে সেখানে রাত কাটাতে চান, তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে কোনো বাসা বা থাকার জায়গা ম্যানেজ করতে হবে। অন্যথায়, ডে ট্যুর বা দিনের আলো থাকতেই ঘুরে ঢাকায় ফিরে আসাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ভ্রমণকালীন সতর্কতা

যেকোনো ট্যুর সুন্দর ও নিরাপদ করতে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত। মৈনট ঘাট ভ্রমণের সময় নিচের বিষয়গুলো বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন–
• সাঁতার ও গোসল: আপনি যদি ভালো সাঁতার না জানেন, তবে পদ্মা নদীতে গোসল করার সময় একদমই বেশি গভীরে যাবেন না। পদ্মার স্রোত অত্যন্ত তীব্র ও বিপজ্জনক হতে পারে।
• পরিবেশ রক্ষা: চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, প্লাস্টিকের পানির বোতল কিংবা যেকোনো ধরনের বর্জ্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন। নদীর পানি বা ঘাটের পরিবেশ নোংরা করবেন না।
• বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ: নদী বা চরের আশপাশে পাখি শিকার করা অথবা পাখিদের বিরক্ত করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
• সামাজিক শিষ্টাচার: জনসমক্ষে বা অপরিচিত মানুষের সামনে ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন। স্থানীয় দোকানদার, অটোরিকশাচালক ও ট্রলারের মাঝিসহ সবার সঙ্গে সব সময় মার্জিত ও বিনয়ী ব্যবহার করুন। কাউকে কখনো ছোট করে দেখবেন না।
• নারীদের প্রতি সম্মান: আপনার কোনো আচরণ বা কথায় যেন একক বা দলবদ্ধভাবে ঘুরতে আসা কোনো নারী পর্যটক কিংবা স্থানীয় নারীরা বিন্দুমাত্র অস্বস্তি বা বিরক্তিবোধ না করেন, সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখুন।

সিনচিয়াং ঘুরে এলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
সিনচিয়াং ঘুরে এলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক
আল মামুন হারুন উর রশিদ

‘অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তথ্য ও বাস্তবতার আলোকেই সত্যকে সন্ধান করা উচিত। এটাই চীনের মূল দর্শন এবং যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করার সবচেয়ে বড় উপায়’। চীনের উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিনচিয়াং প্রথমবার সফর করে এসে সিনচিয়াং ডেইলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক আল মামুন হারুন উর রশিদ। 
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ও বিশেষ করে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে সিনচিয়াংকে নিয়ে একপাক্ষিক ও নেতিবাচক প্রচারণাই দেখে এসেছেন বাংলাদেশের মানুষ। তবে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক 'দ্য নিউ নেশন'-এর এই সাংবাদিকের সাম্প্রতিক সিনচিয়াং সফর সেই চেনা বৃত্ত ভেঙে দিয়েছে। পশ্চিমা চশমা সরিয়ে সরাসরি সিনচিয়াংয়ের স্থিতিশীলতা, দ্রুত বিকাশমান পর্যটন শিল্প এবং স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জীবনযাত্রা দেখে তিনি মুগ্ধ।   
এবারের সফরটি হারুন উর রশিদের চতুর্থ চীন সফর হলেও, সিনচিয়াংয়ে এটিই ছিল তার প্রথম পদার্পণ। এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূগোল নিয়ে আগে থেকেই তার প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে সেখানে গিয়ে তার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।  
তিনি জানান, পশ্চিমা মিডিয়া সিনচিয়াংয়ের যে চিত্র দেখায়, বাস্তবতার সাথে তার আকাশ-পাতাল তফাত। এখানকার স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি।  
সিনচিয়াংয়ের জাদুঘরগুলো ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনো সমাজ বা মানবতা মেনে নিতে পারে না। অতীতে এই অঞ্চলে যে সহিংসতার চ্যালেঞ্জ ছিল, তা মোকাবিলা করে সব স্তরের মানুষকে এক ছাতার নিচে এনে শান্তি ফিরিয়েছে প্রশাসন। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো বর্তমানে চীন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক ভয়হীনভাবে সিনচিয়াংয়ে ঘুরতে আসছেন। 
বাংলাদেশি পাঠকরা কেন সিনচিয়াং নিয়ে পশ্চিমা সংবাদ সহজেই বিশ্বাস করে— সাক্ষাৎকারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে হারুন উর রশিদ অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের চোখের সামনে ২০টি নিউজ পোর্টাল বা মিডিয়া একটি নির্দিষ্ট সুরেই কথা বলে, আর তার বিপরীতে মাত্র একটি মিডিয়া ভিন্ন কিছু বলে, তবে মানুষ ওই ২০টি মিডিয়ার কথাই বিশ্বাস করবে। বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশেই দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা মিডিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে’।  
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভাষার একটি বড় বাধা রয়েছে। চীন তাদের সত্য গল্পগুলো নিজেদের ভাষায় লিখলেও তা সাধারণ বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে পৌঁছায় না। কারণ সবাই ইংরেজি বা চীনা ভাষা পড়তে পারেন না। তাই এই শূন্যতা পূরণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে বাংলা ভাষায় সিনচিয়াংয়ের আসল তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরা জরুরি। যখন মানুষ দুই পক্ষের তথ্যই হাতে পাবে, তখন তারা নিজেরাই সত্য-মিথ্যা বিচার করতে পারবেন। 
'বেল্ট অ্যান্ড রোড' উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ এবং সিনচিয়াংয়ের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা দেখছেন এই সাংবাদিক। ভৌগোলিকভাবে সিনচিয়াং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল, যার সাথে আটটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। ফলে এটি ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার সাথে যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রধান হাব।  
সিনচিয়াংয়ের কৃষি ও পশুপালন খাত পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সভ্যতার মূলে রয়েছে কৃষি ও ধান চাষ। সিনচিয়াং যেভাবে আধুনিক প্রযুক্তিতে চাল এবং নানারকম শাকসবজি উৎপাদন করছে, তা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে।  
পাশাপাশি, সিনচিয়াংয়ের উন্নত ডেইরি শিল্প ও অর্গানিক মিল্ক প্রোডাক্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ গুঁড়োদুধ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। চীন আমাদের অনেক কাছাকাছি দেশ এবং সিনচিয়াং দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য একটি বিশাল কেন্দ্র। ফলে এই খাতে বাংলাদেশ ও সিনচিয়াংয়ের মধ্যে চমৎকার বাণিজ্যিক সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে’।   
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের গণমাধ্যমের এই মেলবন্ধন আরও জোরালো হবে। বাংলাদেশি সাংবাদিকরা আরও বেশি সংখ্যায় সিনচিয়াং সফর করবেন এবং কোনো অন্ধবিশ্বাস বা চাপিয়ে দেওয়া মতবাদে কান না দিয়ে বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সত্য গল্পগুলো বাংলাদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।


সূত্র: সিএমজি

পর্যটকে মুখর রাঙামাটি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
পর্যটকে মুখর রাঙামাটি
‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি কন্যা পর্যটন শহর রাঙামাটি এখন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। টানা দীর্ঘ ছুটির কারণে ঈদের আগে থেকেই পাহাড়ে পর্যটকের আগমন বাড়তে শুরু করলেও বর্তমানে পর্যটকের আগমন আরও বেড়েছে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়েছে পাহাড়ের প্রতিটি পর্যটন স্পট।

পাহাড়, হ্রদ আর সবুজ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের টানে পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পাহাড়ের এপার থেকে ওপারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঈদের আগে থেকেই এখানকার হোটেল-মোটেলসহ পাহাড়ের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রের রিসোর্টগুলো ৭০-৮০ ভাগই বুকিং হয়ে গেছে। সাজেক ভ্যালিও এখন পর্যটকে ভরপুর। 

রাঙামাটি শহরে ৫৬টি আবাসিক হোটেল, ১৭টি রিসোর্ট ও সাজেকে ১১৬টি হোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁ আছে ১৪টির বেশি। সবগুলোই পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় জমে উঠেছে ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, সুবলং ঝরনাসহ জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। পর্যটকের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটন খাতও।

শহুরে ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাহাড়-হ্রদের শহর রাঙামাটি। কয়েক মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে এখন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে সকাল থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছেন পাহাড় আর হ্রদের মেলবন্ধনের মনোরম দৃশ্য। প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে সময় কাটিয়ে স্বস্তির কথা জানালেন পর্যটকরা।

চট্টগ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, রাঙামাটিতে এসে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখে আমরা অভিভূত। এখানে কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ের যে মিতালি, সেটা অন্য কোথাও দেখা সম্ভব না। পর্যটন শহরটি আরও আধুনিকায়ন করা গেলে এখানে সারা বছরই পর্যটকরা তাদের পরিবার নিয়ে ছুটে আসবে।

রাঙামাটিতে হ্রদ-পাহাড়ের মিতালি দেখে আগত পর্যটকরা খুবই খুশি। জেলায় বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পর্যটন স্পট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙামাটি জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তোলাসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পর্যটন খাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকেই অনেক রাজস্ব আদায় সম্ভব।

পাশাপাশি এই অঞ্চল দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে বলে মনে করেন পর্যটকরা।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে নিয়োজিত মো. ইউসুফ বাসসকে বলেন, ঈদের আগে থেকে কিছু পর্যটক আসতে শুরু করলেও বর্তমানে তা অনেক বেড়েছে। শুধু ঝুলন্ত সেতু দেখতে দৈনিক ২-৩ হাজার মানুষ আসছেন।
এখানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমণ। তাই সকাল থেকেই পর্যটকরা ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে ঘুরে দেখছেন সুবলং ঝরনাসহ হ্রদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। 

এ বছর ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে স্থানীয় হোটেল মালিক সমিতি। রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ চৌধুরী জানান, রাঙামাটিতে ঈদের আগে থেকেই পর্যটক আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে তা আরও বেড়েছে। 

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমরা পুরো মাসজুড়েই পর্যটকদের বিশেষ প্যাকেজ সুবিধা দিচ্ছি। এ ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে আমরা হোটেল মালিক সমিতি বিশেষভাবে নজর দিচ্ছি।

বর্তমানে জেলার সাজেক ভ্যালি, ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, পলওয়েল পার্ক, মায়াবী দ্বীপ, আরণ্যক ও সুবলং ঝরনা, রাঙা দ্বীপ, লেকভিউ আইল্যান্ড, কাপ্তাই পট হাউসসহ মনোমুগ্ধকর সব পর্যটন স্পটগুলো এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটকদের উপস্থিতিতে। রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলার পর্যটন স্পটসহ সাজেকের ১১২টি রিসোর্ট-কটেজের মধ্যে প্রায় সব রিসোর্টই শতভাগ পর্যটকে পরিপূর্ণ। 

রাঙামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে রাঙামাটিতে আশানুরূপ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে এবং তা দিন দিন আরও বাড়ছে। পর্যটকরা অনলাইন বা অফলাইনে আমাদের হলিডে কমপ্লেক্সের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ রুম বুকিং করেছেন। 

তিনি বলেন, শুধু পর্যটন কমপ্লেক্স নয়, রাঙামাটির সব হোটেল-মোটেলই এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ। কোথাও কোনো রুম খালি নেই। পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করছি। বর্তমানে পর্যটন কমপ্লেক্সে গড়ে ২-৩ হাজার পর্যটক আসছেন। এবার পর্যটন ব্যবসায় আশানুরূপ সরকারি রাজস্ব আদায় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন এলাকার বোট ইজারাদার সমিতির সহ-সভাপতি মো. রজমান আলী বলেন, পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাওয়ায় বোটের ব্যবসা অনেক ভালো হচ্ছে। বোট সমিতির পক্ষ থেকে আগত পর্যটকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে হেল্প ডেস্ক। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে জেলার সব স্পটে ঘুরে বেড়াতে পারেন তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে। এবারের ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা নিরাপদে সর্বত্র ভ্রমণ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সূত্র: বাসস