ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক
Nagad desktop

সামরিক সক্ষমতায় বিশ্বে পাকিস্তানের অবস্থান কততম?

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:২৬ পিএম
আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:১২ পিএম
সামরিক সক্ষমতায় বিশ্বে পাকিস্তানের অবস্থান কততম?
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কিছু ছবি। সংগৃহীত

সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর তালিকায় নজর দিলে একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায় তা হলো, প্রায় প্রতিটি দেশেরই সামরিক শক্তি অভাবনীয়। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে অথবা কথিত সেই দুঃস্বপ্নের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, বিশ্ব মোড়লরা কীভাবে তাদের সামরিক শক্তির ঝুলি দিন দিন আরও ভারী করছে। তৃতীয় বিশ্বের প্রায় অদৃশ্য এক কোণে বসে বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের দিকে কিছুটা অর্থপূর্ণ দৃষ্টি রাখার প্রচেষ্টাই ‘সামরিক শক্তির আদ্যোপান্ত’ সিরিজ। এই সিরিজে আজ থাকছে পাকিস্তানের সামরিক শক্তির বিস্তারিত-

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের দখল থেকে ভারতবর্ষের মুক্তির পর পাকিস্তানের সামরিক শক্তির উত্থান ঘটে। স্বাধীনতাপরবর্তী দাঙ্গা ও আঞ্চলিক সহিংসতা ঠেকাতে সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এরপর প্রায় সাত যুগ পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে বেশ শক্তিশালী সামরিক অবস্থান দাঁড় করিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তির এই দেশ। দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় সুরক্ষানীতি সংরক্ষণে তাদের সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পাকিস্তান প্রথম সামরিক দ্বন্দ্বে জড়ায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ১৯৪৭-৪৮ সালের দ্বন্দ্বের মাধ্যমেই ভারত-পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূত্রপাত। এরপর ১৯৬৫ সালে ভারতের বিরুদ্ধে এবং ১৯৭১ সালে অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনী সরাসরি অংশ নেয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানের সামরিক নীতিতে ব্যাপক রদবদল ঘটে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯৯৯ সালে সংঘটিত কার্গিল যুদ্ধে। এই যুদ্ধে পাকিস্তান গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সামরিক সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।
 
বৈশ্বিক স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত জোট সিয়াটো (SEATO) এবং সেন্টোতে (CENTO) যোগ দিয়ে সামরিক খাতে বিশেষ সুবিধা অর্জন করে তারা।

এ ছাড়া ১৯৮০ সালের সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার মাধ্যমে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নিজদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী পর্যায়ে নিয়ে গেছে দেশটি। 

বর্তমান সামরিক সক্ষমতা
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্সের (জিএফপিআই) তথ্য অনুযায়ী, ১৪৫টি দেশের মধ্যে সামরিক শক্তির দিক দিয়ে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থান নবম। সেনা, বিমান ও নৌ - এই তিন বাহিনীর সাহায্যে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে সমীহ কুড়াচ্ছে দেশটি।

এ ছাড়া দেশটির অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা ও সংকট মোকাবিলায় রয়েছে রেঞ্জারস ও ফ্রন্টিয়ার কর্পসের মতো আধাসামরিক বাহিনী। আঞ্চলিক ও জাতীয় প্রতিরক্ষা খাতেই পাকিস্তান বেশি প্রাধান্য দেয়। 

দেশটিতে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ সামরিক সদস্য সরাসরি কর্মরত। সংকটাপন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আছে আরও ৫ লাখ সদস্য। বার্ষিক জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয় দেশটির সামরিক খাত। এই বরাদ্দের পরিমাণ অর্থের হিসাবে প্রায় ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সেনাবাহিনী
পাকিস্তানের সামরিক খাতের সবচেয়ে বড় শাখা দেশটির সেনাবাহিনী। তাদের অস্ত্রের বহরে আছে ৩ হাজার ৭০০টির বেশি ট্যাংক। এই ট্যাংকগুলোর মধ্যে দেশের উৎপাদিত আল-খালিদ এবং টি-৮০ইউডিও রয়েছে। 

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত দল স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ (এসএসজি) দেশের যেকোনো সংকটে কার্যকর অবদান রাখে। জঙ্গি ও দেশদ্রোহী তৎপরতা ঠেকাতে বেশ সক্ষম তারা।

বিমানবাহিনী
প্রায় ১ হাজার ৪০০টি সামরিক বিমান থাকায় দেশটির বিমানবাহিনী সহজেই তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। তাদের বিমানের বহরে রয়েছে এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন, মিরাজ ৩/৫ এবং জে-১৭ থান্ডারের মতো যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে জে-১৭ থান্ডার আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে শত্রুঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য আঘাত করতে সক্ষম।

নৌবাহিনী
আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের নৌবাহিনী কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আরব সাগরের পাকিস্তানসংলগ্ন অঞ্চলের প্রতিরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের প্রতিরোধে দেশটির নৌবাহিনী অত্যন্ত তৎপর। 

পাকিস্তানের নৌবহরে রয়েছে - আগস্টা ৯০বি-ক্লাসের মতো শক্তিশালী সাবমেরিন। সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইলসের (এসএলবিএমএস) মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা ছুড়তে সক্ষম এই নৌযান। এটি সম্প্রতি আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। 
চীন থেকে আমদানি করা টাইপ ০৫৪এ/পি ফ্রিগ্রেটগুলো পাকিস্তানের নৌসক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

পাকিস্তানের সামরিক নীতি
বিশ্বের যে ৯টি দেশের অস্ত্রের বহরে পারমাণবিক বোমা আছে তার মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম। ১৯৭৪ সালে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার কূটনৈতিক উত্তরে এই খাতে গবেষণা শুরু করে দেশটি। দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতেই পরমাণু খাত শক্তিশালী করা হয়েছে বলে সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

তবে ১৯৯৮ সালের পরীক্ষার পর পারমাণবিক শক্তি প্রদর্শনের বিপরীতে অবস্থান নেয় দেশটি। 

পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের বহরে আছে শাহিন-৩-এর মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। শাহিন-৩ প্রায় ২ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম। 

এ ছাড়া নাসর মিসাইল নামের ট্যাকটিকাল নিউক্লিয়ার ওয়েপন (টিএনডব্লিউ) ভারতের বিরুদ্ধে স্নায়ুযুদ্ধে খুব কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। 

এদিকে পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এ শক্তি প্রত্যাহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান।

তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে (এনপিটি) নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার কারণ দেখিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটি।

সামরিক আধুনিকায়ন প্রচেষ্টা 
গত এক দশকে পাকিস্তানের সামরিক খাতে ব্যাপক আধুনিকায়ন ঘটেছে। চীনের সঙ্গে শক্তিশালী কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে জেএফ-১৭-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সম্পন্ন করেছে দেশটি।

এ ছাড়া তুর্কির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে আধুনিক ড্রোন এবং অস্ত্র আমদানি করেছে তারা। 

এদিকে জার্ব-ই-আজব এবং রাদ-উল-ফাসাদের মতো জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সাইবার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধের ময়দানে শক্তিশালী জায়গা দখল করে রেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশ।

সামরিক বাধা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
পাকিস্তানের সামরিক খাতে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থনৈতিক চাপ। প্রতিরক্ষা খাতে বার্ষিক বরাদ্দের প্রায় পুরোটাই ব্যয় করতে হয় বলে আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এদিকে ভারত ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ছে পাকিস্তানের সামরিক খাতে।

এ ছাড়া দেশের জঙ্গি তৎপরতা ও ধর্মভিত্তিক সহিংসতা ঠেকাতেই অনেকটা সামরিক শক্তি ক্ষয় হয়ে যায় দেশটির। 

বাধা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সামরিক খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় বলা যায়। সামনের এক দশকে পাকিস্তান নিজের পারমাণবিক খাতকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। 

এই খাতে ইতোমধ্যেই সেকেন্ড-স্ট্রাইক প্ল্যাটফর্ম ও প্রিসিশন-গিল্ডেড সিস্টেমের (পিজিএস) মতো আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে।
ভূপ্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে দেশটির প্রভাব অনস্বীকার্য। আফগান শান্তি প্রস্তাবে সরাসরি অংশগ্রহণ এবং আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক মেলবন্ধন আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে পাকিস্তানের বাড়তে থাকা প্রভাবকেই আরও স্পষ্ট করে।

এ ছাড়া আধুনিক যুদ্ধনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও উন্নত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

অদমনীয় জাতিসত্তা ও শক্তিশালী সুরক্ষানীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পাকিস্তান। উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বাধার সম্মুখীন হয়েও গতানুগতিক যুদ্ধ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অত্যাধুনিক যুদ্ধনীতি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে দেশটি। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশটির শান্তিপূর্ণ অবস্থান বর্তমান সময়ে এসে আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্স (জিএফপিআই), দ্য ন্যাশন: পাকিস্তানস্ মিলিটারি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্টস, এস আইপিআরআই আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন, আল-জাজিরা: অ্যানালাইসিস অব পাকিস্তানস কাউন্টার-টেররিজম অপারেশনস।

নাইমুর/পপি/অমিয়/

হাজার বছরের রহস্য, উত্তর মিলল পায়রার যকৃতে!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
হাজার বছরের রহস্য, উত্তর মিলল পায়রার যকৃতে!
ছবি: সংগৃহীত

এক আশ্চর্যজনক সহজাত অনুভূতি পায়রাদের বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রাণীরা দিকনির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। কেউ নক্ষত্র অনুসরণ করে, কেউ গুরুত্বপূর্ণ স্থানচিহ্ন মনে রাখে। পাখি, মাছ ও কচ্ছপ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে এক ধরনের কম্পাস হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান ও দিক নির্ধারণ করে। তবে তারা ঠিক কীভাবে এটি করে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

পায়রা এমন একটি সুপরিচিত পাখি, যা এক দিনে শত শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ সংবাদ, বার্তা ও সামরিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এদের ব্যবহার করে আসছেন।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন যে, পায়রা কীভাবে পথ না হারিয়ে নির্ভুলভাবে চলাচল করে। কেউ মনে করেন, তাদের চোখের আলোক-সংবেদনশীল অণুগুলো চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। আবার অন্যদের মতে, এই প্রক্রিয়া ঘটে ঠোঁট বা অন্তঃকর্ণে।

জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়রের গবেষক মার্টিন উইকেলস্কি বলেছেন, ‘চৌম্বকীয় অনুভূতি প্রায় ১০০ বছর ধরে একটি রহস্য হয়ে রয়েছে’।

নতুন এক গবেষণায় উইকেলস্কি ও তার সহকর্মীরা পায়রার দিকনির্ণয়ের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেন। তারা পাখিটির শরীরে চৌম্বকীয় সংকেতের উৎস খুঁজতে গিয়ে একটি অপ্রত্যাশিত স্থানে- যকৃতে শক্তিশালী সংকেতের সন্ধান পান।

গবেষকদের মতে, পায়রার যকৃতে থাকা বিশেষায়িত রোগপ্রতিরোধী কোষ লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে ফেলে এবং লোহা সঞ্চয় করে।

জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিশ্চিয়ান কার্টস জানান, বিজ্ঞানীরা যখন সাময়িকভাবে ওই কোষগুলো নিষ্ক্রিয় করে পায়রাগুলোকে উড়তে দেন, তখন তারা কার্যত পথ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।

কার্টস বলেন, ‘পাখিগুলো কোনোভাবেই পথ খুঁজে পাচ্ছিল না’।

এ পর্যবেক্ষণ থেকে গবেষকদের ধারণা, লোহাসমৃদ্ধ যকৃতের এসব কোষ পায়রার দিকনির্ণয় ক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে পাখিদের এই চৌম্বকীয় কম্পাস সব সময় সমানভাবে কাজ করে না। মেঘলা দিনে তা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। 

গবেষকদের মতে, এর কারণ হলো পাখিরা দিকনির্ণয়ের জন্য সূর্যের অবস্থানকেও ব্যবহার করে।

বিজ্ঞানীরা আগেও ধারণা করেছিলেন যে, রোগপ্রতিরোধী কোষ চৌম্বকীয় সংবেদনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণাটি এ বিষয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব উপস্থাপন করেছে।

গবেষণায় অংশ না নেওয়া ম্যাসাচুসেটস বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণগত বাস্তুবিদ আলবার্ট কাও বলেন, ‘আমি কখনোই এটি অনুমান করতে পারতাম না। কিন্তু ব্যাখ্যাটি শোনার পর তা যথেষ্ট যৌক্তিক মনে হয়েছে।’

গবেষকদের মতে, যকৃতের এসব রোগপ্রতিরোধী কোষ স্নায়ুতন্তুর খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-লেখক ক্লিভিয়া লিসোস্কি বলেন, ‘‘সম্ভবত এভাবেই তারা তাদের ‘চৌম্বকীয় অনুভূতি’ মস্তিষ্কে প্রেরণ করে এবং পায়রাদের দিকনির্ণয়ে সহায়তা করে”।

গবেষকরা মনে করছেন, পাখি ছাড়াও ইঁদুরের মতো অন্যান্য প্রাণীও একই ধরনের চৌম্বকীয় ‘জিপিএস’ ব্যবহার করতে পারে। 

তবে বাইরের বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়রারা সত্যিই এভাবেই দিকনির্ণয় করে কি না এবং সংকেতগুলো কীভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণায় পায়রার যকৃতে সবচেয়ে শক্তিশালী চৌম্বকীয় সংকেত পাওয়া গেলেও একই ধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষ ঠোঁট, প্লীহাসহ শরীরের অন্যান্য অংশেও রয়েছে।

পশুচিকিৎসাবিষয়ক রোগ বিশেষজ্ঞ সাইমন স্পিরো এবং জীববিজ্ঞানী হ্যাল ড্রেকস্মিথ এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে লিখেছেন, এই চৌম্বকীয় ধাঁধার সম্ভবত একক কোনো উত্তর নেই। 

তাদের মতে, পাখিরা কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন পদ্ধতিতে চৌম্বক ক্ষেত্র শনাক্ত করতে পারে- সেটি দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ হোক কিংবা নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য খুঁজে বের করার প্রয়োজন হোক।

তারা লিখেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, অন্ধকারে বাড়ি ফেরার একাধিক উপায় থাকা বিচক্ষণতার পরিচায়ক হতে পারে’। সূত্র: এপি

অমিয়/

বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

রি-ইমাজিন’ বা ‘নতুন করে ভাবো’–প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৮ জুন বাংলাদেশেও পালিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব সমুদ্র দিবস-২০২৬। বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি সমুদ্রের সুরক্ষায় এবার মানুষের সঙ্গে সাগরের বিদ্যমান সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘নতুন করে ভাবো: আমাদের চেনা জগতের বাইরে, সমুদ্রের সঙ্গে এক নতুন সম্পর্ক।’ 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালের শুরুতেই আন্তর্জাতিক জলসীমার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঐতিহাসিক ‘হাই সিস ট্রিটি’ (বিবিএনজে চুক্তি) কার্যকর হওয়ার পর এবারের সমুদ্র দিবসটি বিশ্বজুড়ে বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি উপকূলরেখা থাকা এই অঞ্চলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলছে মৌসুমি বায়ু ও কৃষিতে। ক্রমাগত বাড়ছে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ, যা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

দিবসটি উদযাপনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক র‌্যালি, সেমিনার, সমুদ্র উপকূল পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা।

১৯৯২ সালে রিও ডি জেনিরোতে ধরিত্রী সম্মেলনে প্রথম সমুদ্র দিবসের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তী সময়, ২০০৮ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ জুনকে ‘বিশ্ব সমুদ্র দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল
ছবি: সংগৃহীত

আজকের দিনে তিন বা চার সদস্যের নিউক্লিয়ার পরিবার সামলাতেই অনেকের নাভিশ্বাস ওঠে। সেখানে এক ছাদের নীচে প্রায় ২০০ জন সদস্যের বসবাস- শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই বাস্তব। মিজোরামের বখতাওং গ্রামের ‘চানা পরিবার’ দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বৃহত্তম যৌথ পরিবার হিসেবে পরিচিত। পরিবারের কর্তা জিওনা চানা ২০২১ সালের ১৩ জুন ৭৬ বছর বয়সে মারা গেলেও তার গড়ে তোলা বিশাল পরিবার আজও একই ছাদের নিচে বসবাস করছে।

৩৯ স্ত্রী, ৯৪ সন্তান- বিশ্বজোড়া পরিচিতি

জিওনা চানা মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার প্রথম স্ত্রী জাথিয়াঙ্গিকে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মোট ৩৯টি বিয়ে করেন এবং ৯৪ সন্তানের জনক হন। মৃত্যুর সময় তার পরিবারে ৩৮ জন জীবিত স্ত্রী, ৮৯-৯৪ জন সন্তান এবং বহু নাতি-নাতনি ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ১৮০ থেকে ২০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা যায়।

‘নিউ জেনারেশন হোম’- এক বিশাল পারিবারিক সাম্রাজ্য

চানা পরিবারের বাসভবনের নাম ‘ছুয়ান থার রান’, যার অর্থ ‘নতুন প্রজন্মের বাড়ি’। চারতলা এই বিশাল ভবনে রয়েছে শতাধিক ঘর। পরিবারের সদস্যরা আলাদা কক্ষে থাকলেও রান্নাঘর, খাবার ব্যবস্থা এবং বহু দৈনন্দিন কাজ যৌথভাবে পরিচালিত হয়। বাড়িটির মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি কিচেন, কর্মশালা, কৃষিকাজের পরিকাঠামো এবং অতিথিদের থাকার ব্যবস্থাও।

সংসার পরিচালনা যেন কর্পোরেট ম্যানেজমেন্ট

এত বড় পরিবারের দৈনন্দিন পরিচালনা অনেকের মতে একটি মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার সমতুল্য। পরিবারের প্রথম স্ত্রী জাথিয়াঙ্গি দীর্ঘদিন ধরে গৃহপরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করছেন। কে রান্না করবেন, কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেন, কে কৃষিকাজ বা অন্যান্য উৎপাদনমূলক কাজে যুক্ত থাকবেন- সবই নির্দিষ্ট নিয়মে ভাগ করা থাকে।

প্রতিদিনের রান্না শুনলে অবাক হবেন

পরিবারের সদস্যসংখ্যার কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী প্রয়োজন হয়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদিন ৯০ কেজি চালের ভাত, আলু, ডাল ও সবজি রান্না হয়। মাংসের দিনগুলিতে কয়েক ডজন মুরগি রান্না করা হয়। বিশাল অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে কাঠের উনুনে রান্না করেন পরিবারের নারীরা।

শুধু পরিবারপ্রধান নন, ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতাও

জিওনা চানা ছিলেন লালপা কোহরান থার নামে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রধান। ১৯৪২ সালে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত এই গোষ্ঠী বহুবিবাহকে অনুমোদন করে এবং বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা কয়েক হাজার বলে অনুমান করা হয়। 

চানা সম্প্রদায়ের সদস্যরা কৃষিকাজ, ছুতোরের কাজ, কুটিরশিল্পসহ নানা উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বনির্ভর জীবনযাপন করেন।

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র

চানা পরিবারের অনন্য জীবনযাত্রা বহু বছর ধরেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কৌতূহলের বিষয়। মিজোরামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে তাদের বাড়ি। বিশ্বের বৃহত্তম যৌথ পরিবারের জীবনযাপন কাছ থেকে দেখার জন্য এখনও বহু মানুষ বখতাওং গ্রামে যান।

জিওনা চানা আজ নেই, কিন্তু তার গড়ে তোলা পরিবার আধুনিক নিউক্লিয়ার পরিবারের যুগে যৌথ পারিবারিক ব্যবস্থার এক বিরল ও বিস্ময়কর উদাহরণ হিসেবে আজও বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয়।

গাড়ির দরজা খুলতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
গাড়ির দরজা খুলতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর
ভিডিও থেকে

রাস্তায় চলাচলের সময় অসতর্কভাবে গাড়ির দরজা খোলার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদে এমনই একটি ঘটনা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে।

রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি গাড়ির দরজা হঠাৎ খুলে দেওয়ায় সেটিতে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি মোটরসাইকেল। এতে একজন নিহত এবং অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গাড়ি রাস্তার পাশে পার্ক করা। গাড়ির চালক আশপাশের যানবাহনের গতিবিধি না দেখেই হঠাৎ দরজা খুলে দেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল দরজাটিতে সজোরে আঘাত করে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী দুজনই কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েন। 

ভিডিওতে দেখা যায়, চালকের মাথায় হেলমেট থাকলেও পেছনে বসা আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল না; তিনি পাগড়ি পরিহিত ছিলেন। দুর্ঘটনায় পেছনের আরোহী গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।

জানা যায়, আহত মোটরসাইকেল চালককে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

সিসিটিভিতে ধারণ হওয়া ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নেটিজেনদের একাংশের মতে, গাড়িচালকের অসতর্কতা এবং রাস্তার পরিস্থিতি যাচাই না করেই দরজা খোলার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। 

অন্যদিকে, কেউ কেউ মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত গতিকেও দায়ী করছেন।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণ করা হবে। 

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির দরজা খোলার আগে রিয়ার ভিউ মিরর ও পাশের আয়নায় দেখে পেছনের পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অনেক দেশে এ জন্য ‘ডাচ রিচ’ পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়, যেখানে চালক বা যাত্রী বিপরীত হাত দিয়ে দরজা খোলেন; এতে স্বাভাবিকভাবেই শরীর ঘুরে পেছনের রাস্তা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। 

এ ছাড়া মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। 

বিশেষজ্ঞরা রাস্তার পাশে পার্ক করা যানবাহনের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

অমিয়/

আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি!

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি!
ডা. শরীফ হোসাইন/ ছবি: সংগৃহীত

ফুটবলপ্রেমী আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও দন্ত চিকিৎসায় বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল সার্জন ডা. শরীফ হোসাইন।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন।

ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে অথবা নিজেকে দলটির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে আসা রোগীরা বিনা ভিজিটে দাঁত ও মুখ গহ্বরের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দন্ত চিকিৎসা সেবায়ও বিশেষ ছাড় পাবেন তারা।

এ বিষয়ে ডা. শরীফ হোসাইন বলেন, ‌‘ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছি। শুধু আর্জেন্টিনার খেলার দিন এই সুবিধাটুকু দেওয়া হবে।’

একজন চিকিৎসকের এমন অভিনব উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

আমান/