পৃথিবীতে তেলাপোকার মতো অপছন্দনীয় পোকা হয়তো খুব কমই আছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, মানুষ সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে তেলাপোকাকে। তেলাপোকাকে দেখলেই বিরক্ত হয় মানুষ। আবার অনেকেই উড়ন্ত তেলাপোকা দেখে ভয়ে সিঁটিয়ে যায়। কিন্তু এই তেলাপোকা এক বিস্ময়কর পোকা। এই ছোট পোকার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা তাকে অনন্য করে তোলে।
পৃথিবীতে তেলাপোকা: তেলাপোকা পৃথিবীতে প্রায় ৩২ কোটি বছর ধরে আছে। বিজ্ঞানীরা একে প্রায় ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ বলে ডাকেন। কেননা এর মৌলিক গঠন খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। পৃথিবীতে প্রায় ৪ হাজার প্রজাতির তেলাপোকা আছে। তেলাপোকা সম্পর্কে প্রচুর মিথ প্রচলিত আছে। তারা গ্রহের প্রায় প্রতিটি কোণ জয় করেছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জঙ্গল থেকে শুরু করে অ্যান্টার্কটিকার কাছে বরফের জাহাজ পর্যন্ত সবখানে।
তেলাপোকা মাথা ছাড়া এক সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে: তেলাপোকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য এটি। তেলাপোকার অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা রয়েছে। এটি মাথা ছাড়া এক সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। খাবার ছাড়াও এক সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। ভৌতিক সিনেমার কল্পকাহিনি মনে হলেও এটাই সত্য। তেলাপোকা নাকের পরিবর্তে শরীরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে শ্বাস নেয়। তা ছাড়া মৌলিক কাজ সম্পন্ন করতে তাদের মস্তিষ্কের প্রয়োজন হয় না। এর পরিবর্তে তারা স্নায়ু টিস্যুর ওপর নির্ভর করে। তাই মাথা ছাড়াও তেলাপোকা এক সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু তার পরেই তৃষ্ণায় মারা যায়, কারণ পানি খেতে মুখের প্রয়োজন হয়।
দ্রুতগতির প্রাণী: তেলাপোকার আরেকটি বৈশিষ্ট্য এটি দ্রুতগতির প্রাণী। গতি এর গোপন অস্ত্র। হয়তো উড়ন্ত তেলাপোকা দেখে অনেকটাই আন্দাজ করতে পারার কথা। তেলাপোকা ঘণ্টায় তিন মাইল বেগে দৌড়াতে পারে। যা তার আকার বিবেচনা করলে, শহরের যানজটে গাড়ির চেয়েও দ্রুতগতিতে ছুটে চলা মানুষের মতো। তেলাপোকার পা সংবেদনশীল লোমে ঢাকা থাকে, যা বাতাসের সামান্যতম নড়াচড়াও শনাক্ত করে। বিপদ এগিয়ে আসার বিষয়ে সতর্ক করে এসব লোম। এই কারণেই রাতে বাতি জ্বালানোর আগেই তারা অদৃশ্য হয়ে যায়।

নরখাদক তেলাপোকা: খাবারের ক্ষেত্রে তেলাপোকা প্রায় সবকিছুই খায়। যেমন ফল, আঠা, মল এবং এমনকি তাদের নিজস্ব প্রজাতিও। বেঁচে থাকার জন্য এই প্রাণীরা একে অপরের ওপর আক্রমণ করে। সাধারণত বৃদ্ধরা শাবকদের খায়। তাই এদের নরখাদক বলা যায়।
তেলাপোকার ইন্দ্রিয়: তেলাপোকার ইন্দ্রিয় অসাধারণ। তেলাপোকা তাদের পা দিয়ে স্বাদ নিতে পারে, তাদের অ্যান্টেনা দিয়ে গন্ধ নিতে পারে এবং তাদের নমনীয় বহিঃকঙ্কাল দ্বারা মুদ্রার মতো পাতলা ফাটল ভেদ করে বেরিয়ে আসতে পারে। কিছু প্রজাতির তেলাপোকা তাদের হৃৎস্পন্দন ধীর করে আধ ঘণ্টা পানির নিচে বেঁচে থাকতে পারে। জেনে রাখা ভালো তেলাপোকা তাদের ৭৫ শতাংশ সময় বিশ্রামে কাটায় এবং ৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত ঠাণ্ডা তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে।
প্রকৃতিতে তেলাপোকা: তেলাপোকাকে দেখে মানুষ নাক সিঁটকালেও প্রকৃতিতে এর অনেক ভূমিকা আছে। তেলাপোকা আশ্চর্যজনকভাবে পরিষ্কার প্রাণী। তারা ক্রমাগত নিজেদের লালন-পালন করে এবং বনে জঙ্গলে তারা পচে যাওয়া পাতা এবং কাঠ ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ভূমিকা পালন করে। তাদের ছাড়া বন মৃত উদ্ভিদ পদার্থে ভরে যেত।
তেলাপোকার নেতিবাচক দিক: তেলাপোকা সম্পর্কে সব খবরই ইতিবাচক নয়। তেলাপোকা সালমোনেলা এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের মতো রোগ ছড়ায়। এমনকি তেলাপোকা হাঁপানির আক্রমণের কারণও হতে পারে। ঘরে তেলাপোকা জীবাণু ছড়াতে পারে এবং অ্যালার্জির কারণ হতে পারে এবং একটি স্ত্রী তেলাপোকা বছরে শত শত সন্তান জন্ম দিতে পারে। এই প্রজননের কারণে তেলাপোকা নির্মূল করা কঠিন।
তারেক/
.jpg)
.jpg)