আবাসিক হলে র্যাগিং করায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছয় শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের ৩৩০ নং কক্ষ থেকে অভিযুক্ত ৬ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
অভিুযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাব্বির হোসেন, শেহান শরীফ শেখ, লিমন হোসেন, কান্ত বড়ুয়া, সাকিব খান এবং ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সঞ্চয় বড়ুয়া।
জানা যায়, সোমবার রাতে ভুক্তভোগীদের লালন শাহ হলে ডাকেন অভিযুক্তরা। পরে তাদের ডাকে ভুক্তভোগী সাইম, রাকিবুল, শামীম, রাকিব, হামজা, তারেক, রিশান, তানভীর এবং মামুনসহ কয়েকজন সেখানে যায়। এরপর ৪ জনকে (শামীম, সাইম, রাকিবুল, হামজা) আটকে রেখে বাকিদের অ্যাসাইনমেন্ট লেখার কাজ থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে আটকে রাখা চারজনের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে তারা।
এ সময় ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজনকে পাঁচরকম হাসি দিতে বলা হয়, আরেকজনকে কল দিয়ে বাজে ভাষা বলতে বলা হয় এবং আরেকজনকে নাচতে বলা হয়।
এ ঘটনার সময় হলের সিনিয়র শিক্ষার্থী হাসানুল বান্না অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরেন এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের পুলিশে সোপর্দ করেন।
ওই সিনিয়র শিক্ষার্থী হাসানুল বান্না বলেন, 'আমার কাছে অভিযোগ আসে হলের ৩৩০নং রুমে র্যাগিং চলছে। এরপর আমি সেখানে গিয়ে দেখি সাব্বির এবং সঞ্চয় দুজন মিলে ওদেরকে র্যাগ দিচ্ছে। পরে ঘটনা জিজ্ঞেস করলে তারা অস্বীকার করে। এরপর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদেরকে র্যাগিং দিচ্ছিল এটা নিশ্চিত হওয়া যায়।'
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভর্তির পর থেকে বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাদেরকে নিয়মিত র্যাগ দিয়ে আসছিল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শরীফ শেহান বলেন, 'আমি র্যাগিংয়ের কক্ষে ছিলাম না। পরে আমাকে ডাকা হয়। এ সময় রুমে গিয়ে বান্না ভাইকে দেখতে পাই। এর আগে মেসে জুনিয়রদের সঙ্গে আমরা বসেছিলাম। ওইদিন ভিসি ও প্রক্টর স্যারের নামসহ বিভাগের শিক্ষকদের নাম জিজ্ঞেস করা হয়। এ সময় কেউ না পারলে তাকে একটু ধমকও দেওয়া হয়। তবে কাউকে মারধর বা শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।'
থানার ডিউটি অফিসার এস আই মাসুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আমাদের কাছে ছয়জনকে নিয়ে আসে। পরে তাদেরকে হেফাজতে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নিয়ামতুল্লাহ/সুমন/এমএ/