জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকে নতুন করে গতিশীল করতে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা অনুষদের নিচে এক আলোচনা সভায় এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, দলীয় ব্যানার বা রাজনৈতিক এজেন্ডা ছাড়াই শুধু ভিকটিমের ন্যায়বিচার ও ক্যাম্পাসের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্ল্যাটফর্মের প্রাথমিক রিপ্রেজেন্টেটিভ বডিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ থেকে একজন করে পাঁচজন নারী শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে বডি সম্প্রসারণ করা হবে।
সমাজবিজ্ঞান অনুষদের প্রতিনিধি আফিয়া ইবনাত সামিহা বলেন, ‘চলমান আন্দোলনে ভিকটিমের জাস্টিস ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নানাবিধ জটিলতা, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে কোন্দল ও নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্বের কারণে মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে ছোট ছোট বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বড় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পরিবর্তে অনেক শিক্ষার্থী আগের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাই নতুন করে আন্দোলনকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে।’
প্লাটফর্মের প্রাথমিক দাবিসমূহ
১. দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ২১ মে’র মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। প্রশাসনকে অপরাধী শনাক্তকরণ ও আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জানাতে হবে।
২. ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মীর শূন্য পদ দ্রুত পূরণ এবং নারী নিরাপত্তারক্ষীসহ পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে। নিরাপত্তা অবক্ষয়ের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সাইবার নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৩. ক্যাম্পাসের সীমানা নির্ধারণ ও প্রাচীর নির্মাণের টেন্ডার দ্রুত প্রকাশ করতে হবে। সিএন্ডবি থেকে গেরুয়া সড়কের কাজ শুরু এবং মেয়েদের হলের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে পাসকার্ড ব্যবস্থা চালু করতে হবে (সুনির্দিষ্ট ডেডলাইনসহ)। প্রাক্তনদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
৫. কুইক রেসপন্স টিম গঠন করে তার কার্যপ্রণালী প্রকাশ করতে হবে।
৬. সাম্প্রতিক ঘটনার ভিকটিমসহ সব ভিকটিমকে আইনি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিনিধিরা জানান, প্রতিটি দাবির দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সাধারণ শিক্ষার্থীসহ যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষার্থী স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে পারবেন।
আরো পড়ুন>>
>>জাবিতে সাংবাদিকদের হেনস্তা: প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন
>>জাবিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির অপচেষ্টা
>> জাবিতে উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলায় তীব্র প্রতিবাদ ও মানববন্ধন
>> জাবিতে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
>> ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় উত্তাল জাবি, প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
>> জাবিতে প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা
আমানউল্লাহ খান/আমান