ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক রমনার বন আসরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন ১৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল অর্থবিল বিশ্লেষণ: পার পাচ্ছেন সম্পদশালীরা হাকিমি: আফ্রিকার আশা, মরক্কোর প্রাণ ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
Nagad desktop

মাগুরায় স্কুলশিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১:০৭ এএম
মাগুরায় স্কুলশিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাগুরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক অলোক কুমার মৌলিক (৫৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা মাগুরা সদর থানায় অভিযোগ করলে শনিবার  (১২ এপ্রিল) অলোক কুমারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। 

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মাগুরা পুলিশ লাইন স্কুল পাড়ায় ওই শিক্ষকের ভাড়া বাসায় প্রাইভেট পড়তে গেলে সহপাঠীদের ছুটি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করেন অলোক কুমার। 

মেয়েটির মা অভিযোগে লেখেন, 'গত মার্চ মাসের ৭ তারিখে  সকাল ১০টার দিকে তার মেয়ে আলোক কুমার মৌলিকের কাছে মাগুরা সদর থানাধীন পৌরসভাস্থ পুলিশ লাইন্স স্কুলপাড়ার জনৈক জাকির এলাহির ২য় তলা বিল্ডিংয়ের নীচ তলায় প্রাইভেট পড়ার জন্য যায়। সেখানে গিয়ে দেখে যে, তার প্রাইভেট পড়ার রুমে কোন ছাত্র-ছাত্রী নেই। এ সময় মেয়েটি অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে আলোক কুমার জানান সবাইকে ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। এর পর আমার মেয়েকে তার রুমের ভিতরে আসতে বলে। তখন আমার মেয়ে বলে যে, সবাই চলে গেছে তাই সে আজ আর প্রাইভেট পড়বে না। তখন সে আমার মেয়েকে বলে যে, কোন ছাত্র ছাত্রী না থাকায় সে আমার মেয়েকে একাই ভাল করে ইংরেজি পড়াবে। তখন আমার মেয়ে তার কথায় রাজী হয়ে প্রাইভেট পড়ার রুমের মধ্যে গেলে সে আমার মেয়ের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলতে থাকে এবং মেয়েটির ওপর যৌন নিপীড়ন চালায়।'

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী বলেন, মেয়েটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

শ্রাবণ/মেহেদী/

চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি
খবরের কাগজ গ্রাফিক্স

বিশেষ শর্তের বেড়াজালে আটকে গিয়ে চট্টগ্রামের প্রাণিসম্পদ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি খামারের খাদ্য, ফুড সাপ্লিমেন্ট এবং ওষুধ সরবরাহ দরপত্র প্রতিযোগিতাহীন হয়ে পড়ছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত দিয়ে দরপত্র আহ্বানের কারণে অনেকেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছেন। 

ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও দরপত্রে কারিগরি শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যাতে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। এতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ কমে যাচ্ছে। 

একাধিক ঠিকাদার আলাপকালে জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গরু ও ছাগলের খামার, পাহাড়তলীতে আঞ্চলিক মুরগির খামার, ফেনীর সোনাগাজীতে হাঁসের খামার, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সীতাকুণ্ড ও রাঙামাটিতে মুরগি খামার, বরইছড়িতে শূকরের খামার, বান্দরবানে গয়ালের খামারসহ বিভিন্ন সরকারি খামারের জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার খাদ্য, ওষুধ এবং ফুড সাপ্লিমেন্ট কেনা হয়। একটি নির্দিষ্ট চক্র বছরের পর বছর ধরে কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতিযোগিতাহীন ব্যবসা করে যাচ্ছে। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরবরাহ করা প্রাণিখাদ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, ই-জিপি প্রক্রিয়া সব যোগ্য ঠিকাদারের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অযৌক্তিক বা প্রতিযোগিতাবিরোধী শর্ত বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে দরপত্র কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। 

ঠিকাদারদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন খামারের খাদ্য উপকরণ ক্রয়ের দরপত্রে ‘টক্সিন বাইন্ডার, প্রোটিন কনসেনট্রেন্ট, লাইমস্টোন, লিভার টনিক, এমাইনো এসিডসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং সাপ্লিমেন্ট কেনার জন্য এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা বাজারের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব শর্তের কারণে নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না। অথচ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর) অনুযায়ী কারিগরি স্পেসিফিকেশন এমন হতে হবে যেন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয়। 

সর্বশেষ সীতাকুণ্ডে মুরগির খামারের কাজটি পেতে এমন শর্ত দেওয়া হয়, যা শুধু সীতাকুণ্ড পৌরসভার একজন রাজনীতিবিদের বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ ও আব্দুলাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স পূরণ করতে পারে। 

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুন্না ট্রেডার্স, সাওদা এন্টারপ্রাইজ, ফারুক এন্টারপ্রাইজ, তাসুমো ফ্যাশনস ও এনকিউএন এন্টারপ্রাইজ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এ ধরনের বিশেষ শর্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করে।

আবেদনে বলা হয়, দরপত্রের বিশেষ শর্ত নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করছে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাইজামান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এক চিঠিতে বিষয়টি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেক টাচ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘দরপত্রের বিশেষ শর্তের কারণে আমরা অংশগ্রহণ করতে পারছি না। এতে সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান কাজ পাচ্ছে। শর্ত শিথিল করার জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।’ 

আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবরার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্বত্বাধিকারী মো. আশরাফুল শিহাব খবরের কাগজকে জানান, সীতাকুণ্ড পোলট্রি খামার ভুট্টা ভাঙা, লাইমস্টোন এবং ডাইক্যালসিয়াম ফসফেট সরবরাহের দরপত্র কিনেছেন তিনি। ৬০ লাখ টাকার এই দরপত্র কিনেও তিনি জমা দেননি। দরপত্রে চাওয়া ডাইক্যালসিয়াম ফসফেট (ডিসিপি) বাংলাদেশে উৎপাদন হয় না। দরপত্রের শর্তে এই পণ্যটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনপত্র চাওয়া হয়েছে। শর্তে ডিসিপির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য যে কোম্পানির সঙ্গে মেলে ওই কোম্পানি শুধুমাত্র একজন ঠিকাদারকেই অনুমোদনপত্র দেয়। কিন্তু তিনি অনুমোদনপত্র পাননি। এ কারণে দরপত্র কেনার পরও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

তিনি জানান, ছোট একটি আইটেমের উদ্ভট শর্তের কারণে দরপত্রটিতে অন্য কেউ প্রতিযোগিতা করতে পারেননি। 

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড মুরগি খামারের উপপরিচালক কামাল উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘তিনি যোগদান করার আগেই দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে ঠিকাদারদের অভিযোগ থাকলে আমরা সেটি নিয়ে চিন্তা করব।’ 

জানতে চাইলে পাহাড়তলী আঞ্চলিক মুরগি খামারের উপপরিচালক ডা. ওয়ারেস কামাল খবরের কাগজকে বলেন, তারা পিপিআর রুল মেনে দরপত্র আহ্বান করেন। সরকার যদি রুল পরিবর্তন করে তখন তারা সেভাবে দরপত্র আহ্বান করবেন। তা ছাড়া দরপত্র আহ্বানের পর মূল্যায়ন কমিটি বিষয়টি বিবেচনা করে দেখে। সব ঠিক থাকলে তখন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এখানে তাদের অনিয়মের সুযোগ নেই। 

জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খবরের কাগজকে বলেন, পিপিআরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। পিপিআর অনুসরণ করে দরপত্র আহ্বান করলে যিনি কাজ পাবেন, তিনিই পণ্য সরবরাহ করবেন। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মসজিদের পাশে টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ৮ এপিবিএনের পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন ক্যাম্প-১০ এর জি/১৬ ব্লকে মসজিদুল আবরার সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, একটি অজ্ঞাত মরদেহের খবর পেয়ে মসজিদের পাশের টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশ, এপিবিএন এবং স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং পরিচয় শনাক্তের জন্য মরদেহটি উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

রিদুয়ানুল সোহাগ/তামান্না রুপা/

সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০৫ এএম
সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরােনর (রহ.) মাজারে প্রায় ৭০০ বছরের অধিকাল থেকে দানের টাকা অনেকটা হিসেব ছাড়া খরচ হচ্ছে। এই ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।

 তিনি জানিয়েছেন, মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসেবে স্বচ্ছতা আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের আগে দুটো মাজার পরিদর্শন করে দানের টাকার বিষয়ে সরেজমিন খোঁজ খবর নিয়েছেন ডিসি মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাজারগুলোর আয়-ব্যয়ের মধ্যে কোনো সচ্ছতা নেই। ওদের কাছে কোনো হিসাব নেই। আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট এবং মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করবে। এই সময়ের মধ্যে আয়-ব্যয়ের সঠিক চিত্র, দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।’

জানা গেছে, দুটো মাজারে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসেন ভক্তরা। কেউ প্রার্থনা নিয়ে, কেউ মানত নিয়ে। সেই সঙ্গে দান করেন অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু ও নানা মূল্যবান সামগ্রী। এসবই মাজারের আয়। আয়-ব্যয়ের হিসেবে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে এ উদ্যোগে মিশ্র-প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে  মাজারভক্তদের মধ্যে। প্রায় ৭০০ বছরেরও অধিকাল ধরে প্রচলিত ধারায় ব্যহত করতে এমনটি করা হয়েছে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধমেও নানা আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়েছে। তারা বলছেন, ‘মাজারে যখন মব হয়, তখন প্রশাসন নীরব থাকে। আর দানের টাকার হিসেব নিতে মাঠে নামছে!’

জানা যায়, সম্প্রতি একটি লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সভায় মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অস্পষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিলেট জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে। দুই মাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মানত, দান ও নজরানা প্রদান করেন। নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের দানও জমা পড়ে মাজারে।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার দান আসে এসব মাজারে। কিন্তু সেই দানের টাকা কিভাবে পরিচালিত হয়, কোথায় ব্যয় করা হয় কিংবা কত টাকা আয় হচ্ছে; এসব বিষয়ে কখনোই জনসম্মুখে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয় না। ২০০৩ সালে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহ্যবাহী গজার মাছের মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে দরগাহ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। সে সময় সংবাদমাধ্যমে মাজারের বিপুল আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন মাজার কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, মাজারের দানের অর্থের একটি অংশ বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারীদের ব্যয়ে ব্যবহৃত হয় এবং অবশিষ্ট অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়। কিন্তু সেই ব্যয়ের কোনো সুসংগঠিত ও জনসম্মুখে উপস্থাপিত হিসাব কখনো দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শুক্রবার জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের বিষয়টি নির্ধারিত হয় গত বুধবার অনুষ্ঠিত একটি সভায়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট সিটি করপোরেশন, ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অংশ নেন। সভায় মাজার দুটির বর্তমান আয়-ব্যয়, দান-অনুদান, প্রশাসনিক কাঠামো, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কমিটির পক্ষ থেকে সুসংগঠিত আর্থিক রেকর্ড ও নির্ভরযোগ্য হিসাবপত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ঘাটতির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাবপত্র চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও জানা গেছে। সভায় বক্তারা বলেন, শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সিলেটবাসীর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গৌরবের অংশ। তাই এর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। মাজার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; বরং এটি সমগ্র সিলেটবাসীর সম্পদ। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিচালনা করা জরুরি। সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় পরিচালনা এবং নিয়মিত অডিটের বিষয়েও মতামত দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাজারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এতে ভক্তদের আস্থা আরও বাড়বে এবং দানের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

এদিকে, জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন মাজার কর্তৃপক্ষ। হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান বলেন, ‘প্রশাসন কেন হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট ধারণা পাননি। সভায় অংশগ্রহণের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। আমাদের কথাও শুনতে রাজি হননি জেলা প্রশাসক। আমরা এটা কিভাবে পেলাম এটাও শোনতে রাজি নন। আমাদের একটা কোর্টের রায় আছে। একটা মামলাও চলমান আছে। কিন্তু তিনি আমাদেরকে কথা বলারও সুযোগ দেননি। আমরা অসহায় হয়ে বসে আছি।’

মাজারে ভক্তদের দান-খয়রাত প্রথা অনুযায়ী ব্যয় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসাবপত্র রয়েছে, তবে সেগুলো উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাইনি। তাই কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি বা অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে। তবে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা
ছবি: সংগৃহীত

উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চাকে উৎসাহিত করতে এক দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করা হয়।

মেলায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা উপস্থাপন করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ ছাড়া স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেলকুচি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, বেলকুচি থানার তদন্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. গোলাম রেজা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিন।

এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের বিজ্ঞান মেলায় উপজেলার মোট ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল ও প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

মেলা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএন/

টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন উপলক্ষে শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে টাঙ্গাইল সদরের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে রোগ প্রতিরোধ ও খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন রোগব্যাধি সম্পর্কে অনেক খামারির পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় রোগ শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

তিনি আরও বলেন, খামারিদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদের রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এলএসডি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই ভিত্তির ওপর এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ খামারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জুয়েল রানা/এসএন