নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বাসা ভাড়ায় রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ নিয়ে থাকছেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জানা গেছে, সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ বাসা ভাড়া দেওয়ার নিয়ম থাকায় রাজস্ব ফাঁকি দিতে গার্ড ও নাইট গার্ডের মূল বেতনের বাড়ি ভাড়া দিয়ে বসবাস করছেন তারা। ফাউন্ডেশনের পরিচালনা বোর্ডের ১২৭তম সভায় সরকার নির্ধারিত বাসা ভাড়া দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনে বসবাস করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই সভার নির্দেশনা অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তারা ফাউন্ডেশনের আবাসিক ভবনে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার পরও ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের একাধিক কর্মচারী জানান, তাদের নামে বাসা ভাড়া বরাদ্দ হলেও তারা ওই বাসায় বসবাস করছেন না। তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসবাস করেন। তাই চাকরির ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
সরেজমিনে ফাউন্ডেশনের গিয়ে জানা যায়, অফিসার্স কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলায় পূর্ব পাশে পরিচালকের একান্ত সহকারী মো. সারোয়ার হোসেন, স্টাফ কোয়ার্টারে প্রথম তলার উত্তর পাশে কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক দিলওয়ার হোসেন, তৃতীয় তলার উত্তর পাশে গার্ড মো. আয়নাল হক, দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ পাশে মিউজিয়াম অ্যাটেনডেন্ট কাজী মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশে গার্ড আবুল বাশার, প্রথম তলার দক্ষিণ পাশে গার্ড মো. জায়েদুল হক নয়ন, চতুর্থ তলার পশ্চিম পাশে অফিস সহায়ক সবি শংকর চাকমা, দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশে গার্ড মো. ইউনুস খান ও দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশে গার্ড মো. রানা মিয়ার নামে বরাদ্দ রয়েছে। সেখানে তাদের নামে পল্লিবিদ্যুতের মিটার রয়েছে। তাদের নামে বরাদ্দ হলেও দুজন ছাড়া কেউ সেই বাসায় বসবাস করেন না।
সূত্র জানায়, পরিচালকের একান্ত সহকারী মো. সারোয়ার হোসেনের বরাদ্দ কোয়ার্টারে থাকেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাখওয়াত হোসেন, কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক দিলওয়ার হোসেনের কোয়ার্টারে থাকেন পরিচালকের একান্ত সহকারী মো. সারোয়ার হোসেন, গার্ড মো. আয়নাল হক কোয়ার্টারে থাকেন হিসাবরক্ষক আব্দুর রহিম, মিউজিয়াম অ্যাটেনডেন্ট কাজী মিজানুর রহমানের কোয়ার্টারে থাকেন রিসিপশনিস্ট তাজমহল বেগম, গার্ড আবুল বাশারের কোয়ার্টারে থাকেন মিউজিয়াম অ্যাটেনডেন্ট কাজী মিজানুর রহমান, গার্ড মো. জায়েদুল হক নয়নের কোয়ার্টারে থাকেন পরিচালকের ব্যক্তিগত গাড়িচালক বুলবুল ইসলাম, অফিস সহায়ক সবি শংকর চাকমার কোয়াটারে থাকেন মাসুদুর রহমান, গার্ড রানা মিয়ার কোর্য়াটারে থাকেন মো. হালিম উদ্দিন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এ কে এম আজাদ সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’