অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় মাদারীপুরের দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত জাফর বেপারী মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চর বাজিতপুর গ্রামের লাল মিয়া বেপারীর ছেলে ও সিরাজুল হাওলাদার একই গ্রামের হামেদ আলী হাওলাদারের ছেলে। ঘটানার পর পালিয়েছে এই গ্রামের অভিযুক্ত চান্দু সরদারের ছেলে লোকমান সরদার।
জানা যায়, ভাগ্যের চাকা পরির্বতনের জন্য অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত পহেলা সেপ্টেম্বর বাড়ি ছাড়েন জাফর বেপারী ও সিরাজুল হাওলাদার। এরপর লিবিয়া পৌঁছে ১৪ অক্টোবর ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ওঠে জাফর ও সিরাজুলসহ অর্ধশত যুবক। পরে তেল শেষ হয়ে গেলে মধ্যসাগরে ভাসতে থাকে অভিবাসীবহনকারী নৌকাটি। একসপ্তাহ ভাসমান থাকার পর তীব্র শীতে সাগরেই মৃত্যু হয় জাফর ও সিরাজুলসহ বেশ কয়েকজন যুবকের। বিষয়টি দালালচক্র গোপন রাখলেও গত মঙ্গলবার দুই যুবকের মৃত্যুর খবর আসলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা।
স্বজনদের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য চর বাজিতপুর গ্রামের চান্দু সরদারের ছেলে লোকমান সরদার প্রলোভন দেখিয়ে দুটি পরিবারের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ৩০ লাখ টাকা। ঝক্কিঝামেলা ছাড়া সরাসরি ইতালি নেওয়ার কথা থাকলেও যুবকদের মৃত্যুর পর গা ঢাকা দিয়ে অভিযুক্ত। বাড়িতে গিয়ে না পাওয়া গেলেও অভিযুক্তের স্বজনদের দাবি, এই ঘটনায় জড়িত নয় লোকমান।
নিহত জাফরের বাবা লাল মিয়া বেপারী বলেন, ‘আমার বড় ছেলের এই মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। দালাল লোকমান একসাথে আমাদের পরিবার থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তখন বলেছিল, কোন ঝামেলা ছাড়াই জাফরকে ইতালি পৌঁছে দিবে। কিন্তু সাগরেই মৃত্যু হলো জাফর ও একই গ্রামের সিরাজুলের। এই ঘটনায় জড়িত লোকমান ও তার পরিাবরের সদস্যরা। তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় দুই যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এমন সংবাদ লোকমুখে শোনা গেছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসএন/