ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল
Nagad desktop

পুলিশের দাবি পরিস্থিতি স্বাভাবিক পাবনায় দেড় মাসে ৭ খুন

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৫৯ পিএম
পাবনায় দেড় মাসে ৭ খুন
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

রাজনৈতিক ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে পাবনায় হঠাৎ করে হত্যাকাণ্ড বেড়ে গেছে। গত দেড় মাসে জেলায় সাতজন খুন হয়েছেন। নভেম্বর মাসের প্রথম ১৮ দিনেই ঘটেছে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এর মধ্যে দুদিনের ব্যবধানে খুন হয়েছেন তিনজন। আর অক্টোবর মাসে ঘটেছে দুটি হত্যাকাণ্ড। এর মধ্যে একটি ঘটনা হত্যা নাকি অপমৃত্যু তা নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। এসব হত্যাকাণ্ড ছাড়াও বেড়েছে ছিনতাই, সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাটের মতো অপরাধ। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, ৫ আগস্টের পর পুলিশ এখনো মাঠে পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। এ সুযোগে অপরাধ বেড়েছে।

তবে পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, প্রতি মাসে জেলায় গড়ে চার-পাঁচটি হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ের সংখ্যাটি অস্বাভাবিক নয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ নভেম্বর সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজের মাছের খামারে যাচ্ছিলেন পাবনা সদর উপজেলা মৎসজীবী দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন (৪৫)। স্থানীয় বেতেপাড়া মোড়ে পৌঁছালে হেমায়েতপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য মুন্তাজ আলী এবং তাদের লোকজন জালালকে কুপিয়ে হত্যা করে। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জালাল প্রাণ হারানোর পর থেকে তার পরিবার এখন দিশেহারা।

জালালের স্ত্রী সালমা খাতুনের অভিযোগ, ‘স্থানীয় কবরস্থানের কমিটি গঠন নিয়ে জালালের ওপর মুন্তাজ ও তার লোকজন ক্ষুব্ধ ছিল। মুন্তাজের কথা না শুনেই কমিটিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন জালাল। সেই ক্ষোভের আগুনে প্রাণ দিতে হলো তাকে।’ এদিকে হত্যাণ্ডের পর মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জালালের ছেলে লাবু হোসেন। তিনি জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

পরদিন ১৭ নভেম্বর রাতে পাবনা শহরে তুষার হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সে ২০২৩ সালের ২১ অক্টোবর স্কুলছাত্র সিয়াম হত্যা মামলার প্রধান আসামি। কিন্তু তুষারের মা তাসলিমা খাতুনের বক্তব্য অনুযায়ী তার ছেলে ছিল নির্দোষ। বলেন, ‘সিয়াম হত্যার সময় তুষার বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিল। ওই সময় মারামারিতে রক্তাক্ত হয়েছিল তুষার। পুলিশ তাকে সেই অবস্থায় গ্রেপ্তার করায় হয়ে যায় এক নম্বর আসামি। কিন্তু আমার ছেলে হত্যা করেনি।’

তুষারের বোন আশা খাতুন বলেন, ‘আমার ভাই হত্যার সঙ্গে জড়িত কি না, বা সেই হত্যা করেছে তা প্রমাণ হবে আদালতে। আইনে তার বিচার হবে। তাই বলে হত্যার বদলে হত্যা কোনো সমাধান হতে পারে না। যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে তাদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

ঠিক পরদিন ১৮ নভেম্বর সকালে ঈশ্বরদীর রূপপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে ওয়ালিফ হোসেন মানিক (৩৫) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০২৩ সালের ১৭ জুন ছাত্রলীগ কর্মী তাফসির আহম্মেদ মনা হত্যা মামলার আসামি ছিলেন তিনি। জামিনে বের হয়ে প্রতিপক্ষের হাতে প্রাণ হারান মানিক।

শুধু জালাল, তুষার বা মানিক নয়। গত দেড় মাসে পাবনা জেলায় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলো নিয়ে জেলাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ড ছাড়াও অপমৃত্যু, ছিনতাই, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও সংঘর্ষের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পুরো জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে পাবনায় সাতটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি ৬০ জন। আর গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১ জনকে। বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ড পূর্ব বিরোধ, রাজনৈতিক বিরোধ ও প্রতিশোধ প্রবণতা থেকে ঘটেছে।

এ ছাড়া গত ৮ নভেম্বর সকালে আতাইকুলা থানার গঙ্গারামপুর এলাকা থেকে আসিফ হোসেন (৩২) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের দিন ৭ নভেম্বর রাতে এলাকায় একটি জলসা শুনে বাড়ি ফেরার পথে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।

২৯ অক্টোবর বিকেলে নিখোঁজ হয়েছিলেন আতাইকুলার ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম (৪৫)। চার দিন পর ১ নভেম্বর সকালে তার লাশ তৈলকুপি গ্রামের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর তার ভ্যানটি নিয়ে লাশ গুম করার জন্য পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।

৩১ অক্টোবর সকালে সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়ার সিংহনগর স্কুলের সামনে পদ্মা নদীর তীরে ১২ বছরের এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১ নভেম্বর বিকেলে একই উপজেলার সাতবাড়িয়ার কাঞ্চন পার্কের সামনে ভাসমান অবস্থায় ২২ বছরের এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পাবনার সভাপতি আব্দুল মতীন খান মনে করেন, ‘৫ আগস্টের পর পুলিশ প্রশাসন এখনো মাঠে পুরোপুরি সক্রিয় না থাকার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। যখন অপরাধীর বিচার হবে না, তখন অন্য অপরাধী আরও উৎসাহী হবে। প্রশাসন এখনই লাগাম টেনে না ধরলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।’

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) রেজিনূর রহমান বলেন, ‘অতীতের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পাবনায় প্রতি মাসে সাধারণত চার থেকে পাঁচটি হত্যা মামলা হয়ে থাকে। চলতি নভেম্বর মাসে পাঁচটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি হত্যা মামলা। আর একটি মৃত্যুর মামলা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে সেটি হত্যা নাকি অপমৃত্যু। সেটি সন্দেহজনক হিসেবে আছে। এরই মধ্যে প্রায় সবগুলো মামলার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। অনেক আসামিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

রেজিনূর রহমান আরও বলেন, ‘প্রতি মাসে পাবনা জেলার মামলা পর্যালোচনা করলে সহজেই বোঝায় যায় এগুলো স্বাভাবিক একটি বিষয়। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পুলিশের ওপর আস্থা রাখুন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকট কাটিয়ে পুলিশ আরও বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এখানে মানুষের আস্থা হারানোর কিছু নেই।’

মেয়েকে অশালীন কথা বলার প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল বাবার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
মেয়েকে অশালীন কথা বলার প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল বাবার
সিলেটের মানচিত্র

নিজের মেয়েকে অশালীন কথা বলার জেরে মারামারি করে প্রতিবেশীর ঘুষিতে প্রাণ হারিয়েছেন চৈতন্য গোয়ালা নামে এক ব্যক্তি।

গতকাল শনিবার বিকেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং চা বাগানে এই ঘটনা ঘটে। 

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে অভিযুক্ত সুমন প্রধানকে (৪২) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিহত চৈতন্য গোয়ালার মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত চৈতন্য গোয়ালা ও সুমন প্রধান প্রতিবেশী। তারা বাগানে চা শ্রমিকের কাজ করেন। শনিবার বিকেলে চৈতন্য গোয়ালার মেয়ে পুকুর থেকে গোসল করে উঠলে সুমন প্রধান তাকে অশালীন কথা বলেন। তখন পাশে থাকা বাবা এর প্রতিবাদ করলে দুজনের হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে চৈতন্য গোয়ালাকে ঘুষি মারেন সুমন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে গোয়াইঘাট থানায় মামলা করেন। পরে অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে মধ্য জাফলং ইউনিয়নের মেম্বার শৈলেন দেব খবরের কাগজকে বলেন, নিহত চৈতন্য গোয়ালা ও সুমন প্রধান পাশাপাশি বাড়িতে থাকতেন। দুজনই চা শ্রমিক। একই সঙ্গে চলাফেরা তাদের। একই পুকুরে দুই পরিবারের সদস্যরা গোসল করে। ঘটনার দিন চৈতন্য গোয়ালার মেয়ের গোসল করা নিয়েই দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও পরে মারামারি হয়। তখন চৈতন্যকে ঘুষি মারে সুমন। এতে সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোয়াইঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফয়েজ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, চৈতন্য গোয়ালার মেয়েকে অশালীন কথা বলেন সুমন প্রধান। তখন এক সঙ্গে বাড়ির সিঁড়িতে বসা ছিলেন চৈতন্য ও সুমন। অশালীন কথার প্রতিবাদ করলে চৈতন্যকে কানের বাম পাশে ঘুষি মারেন সুমন।  হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুমনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অমিয়/

হালিশহরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে গণপিটুনি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
হালিশহরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে গণপিটুনি
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক চালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে হালিশহরের ছোটপুল কাঁচাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা রুবেল (২৮) নামের অভিযুক্ত যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গণপিটুনি দেয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত রুবেল পেশায় একজন অটো-টেম্পুচালক। ভুক্তভোগী শিশুর বাবাও একজন গাড়িচালক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুর মা পেশায় পোশাকশ্রমিক। সকালে তিনি কর্মস্থলে চলে যান। সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকায় শিশুটির বাবা মেয়ের সঙ্গে ঘরেই ঘুমাচ্ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে রুবেল গাড়ি বের করার কথা বলে ওই বাসায় আসেন। শিশুর বাবা বৃষ্টির কারণে গাড়ি বের করবেন না জানালে রুবেল ঘর থেকে চলে যাওয়ার ভান করে। এরপর শিশুর বাবা আবার ঘুমিয়ে পড়লে রুবেল পুনরায় ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

শিশুটির বাবা বলেন, ‘হঠাৎ মেয়ের চিৎকার শুনে আমার ঘুম ভেঙে যায়। পরে মেয়ের মুখে সব শুনে আমি রুবেলকে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাকে ধরা হয়।’

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

এর আগে, মঙ্গলবার (২ জুন) একই থানা এলাকার বি ব্লক পাবলিক স্কুল মোড়ে আইসক্রিমের লোভ দেখিয়ে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় দোকানদার ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা।

তামান্না রুপা/

নড়াইলে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:১৮ এএম
নড়াইলে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত সেলিম শেখ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে সেলিম শেখ (২৬) নামের এক ইজিবাইকচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৬ জুন) আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার সেলিম শেখ লক্ষীপাশা ইউনিয়নের বয়রা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী লোহাগড়া এলাকার একটি গ্রামে তার নানা বাড়িতে থাকতেন। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলের দিকে অভিযুক্ত সেলিম শেখ তাকে রাস্তা থেকে ইজিবাইকে করে তুলে নিয়ে যান। তারপর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

তারপর সন্ধ্যায় তাকে উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের একটি বাজার এলাকায় নামিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত সেলিম। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে সে পুরো ঘটনা তাদের জানায়।

শনিবার (৬ জুন) এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা লোহাগড়া থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজিত কুমার রায় বলেন, ভুক্তভোগী মেয়েটির মা বাদী হয়ে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন। এছাড়া ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামি সেলিম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শরিফুল/আমান/

নাগরপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নাগরপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে তার প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় মামলা করেছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের কাজীর-পাচুরিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে বাড়ির পাশে ধানের খোলায় কাজ করছিলেন। কিছু সময় পর মেয়েটি ধান নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। ফিরতে দেরি হলে মা তাকে খুঁজতে বের হন।

এ সময় বাড়ির পাশের জমির আইলে প্রতিবেশী সাজ্জাদের ছেলে মো. শাকিব তার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে দেখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে শাকিব পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর মা জানান, অভিযুক্ত শাকিব তাদের প্রতিবেশী ও আত্মীয়। তার মেয়ে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় সুযোগ নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

নাগরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাকিব পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

জুয়েল রানা/তামান্না রুপা/

ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আত্তাব হোসেন (৬০) নামে এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে আটক করে।

অভিযুক্ত আত্তাব হোসেন উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, শনিবার (৬ জুন) বিকেলে তার মেয়ে দাদির জন্য ওষুধ আনতে আত্তাবের দোকানে যায়। এ সময় শিশুটিকে একা পেয়ে চিকিৎসক আত্তাব ঘরের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটকে রাখে। এ সময় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ভিকটিম ও তার পরিবার আরও বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। শিশুটি বাড়ি ফেরার পর তার আচরণ দেখে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সব স্বীকার করে। এছাড়া শিশুটির মা যৌনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ দেখতে পান বলেও জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য শিশুটিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জেল্লাল হোসেন বিষয়টি নিয়ে বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আত্তাবকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহফুজুর রহমান/অন্তরা