যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ছেলের হাতে বাবা হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে রমিম ইসলামকে (২৩) আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে মাদকসেবনের টাকা না দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
শনিবার (২১ জুন) যশোরের চৌগাছা আমলি আদালতে হাজির করলে রমিম ইসলাম বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে রমিম জানান, মাদকসেবনের টাকা না দেওয়ায় পিতার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চলছিল। বিয়ের পরেও কোনো কাজ না করে নিয়মিত বাবার কাছে টাকা চাইতেন তিনি। এসব নিয়ে পিতা শরিফুল ইসলাম প্রায়ই বকাঝকা ও মারধর করতেন। একপর্যায়ে তাদের আলাদা করে দেওয়া হয়। ক্ষোভ থেকে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হাছিনা খাতুন বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় হত্যা মামলা করলে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), যশোর।
পিবিআই যশোর এর পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, গত ৭ মার্চ ভোরে চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম (৪১) তার নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী সেহরির প্রস্তুতির জন্য ঘুম থেকে উঠে বাইরে গেলে, তারই ছেলে রমিম ইসলাম ঘরে ঢুকে বাবাকে এলোপাতাড়ি চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। আহত অবস্থায় শরিফুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রমিমের অবস্থান শনাক্ত করে ২০ জুন বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা এলাকার ঠাকুরবাড়ি টেক থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিটি নিজ বাড়ির মাঠপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
তুহিন/মেহেদী/