কুমিল্লার মুরাদনগরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক নারীকে (২৫) ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ জুন) রাত দেড়টার দিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর পাঁচকিত্তা গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত ফজর আলী (৩৮)। তিনি ওই গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে। স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে মারধর করলেও পরে সে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ভিকটিমের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, যা নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরদিন, শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগী নারী মুরাদনগর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা হয়।
মামলার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ধর্ষক ফজর আলীকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারদের নাম-পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনার পর আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাশাপাশি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ দিন আগে হোমনা উপজেলার স্বামীর বাড়ি থেকে বাহেরচর পাঁচকিত্তা গ্রামে তার বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন ওই নারী। গত ২৬ জুন বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ওই নারীর বাবা-মা বাড়ির বাইরে গেলে অভিযুক্ত ফজর আলী ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। ভুক্তভোগী ওই নারী ঘরের দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে, একপর্যায়ে ফজর আলী কৌশলে ঘরে ভিতরে প্রবেশ করেন। পরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে হাতেনাতে আটক করে ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে মারধর করে ভিডিও করে রাখে। ভুক্তভোগী নারীর দুই সন্তান রয়েছে। তার স্বামী ৫ বছর যাবত প্রবাসে থাকেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, টাকা ধার নেওয়া নিয়ে ফজর আলীর সঙ্গে আমাদের পারিবারিক পরিচয় হয়। এই সূত্র ধরেই ফজর আলী আমাদের বাড়িতে আসেন।
অমিয়/