সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং চা বাগানে ইমাম উদ্দিন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় ৯ চা-শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ইমাম সোমবার (৪ আগস্ট) রাতে চা-বাগানে গেলে তাকে ‘বহিরাগত’ বলে পিটিয়ে একটি কক্ষে রাখা হয়। পরে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইমাম উদ্দিন উপজেলার মেদি গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় ইমাম উদ্দিনকে বাগানে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার দিনভর চা-বাগানে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভের মুখে তিনজন চা-শ্রমিককে আটক করা হলেও পরে রাতে গোয়াইনঘাট থানায় হত্যা মামলা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে আটক করে।
তারা হলেন- জাফলং চা-বাগানের কপিল উদ্দিন লিটন, নিরঞ্জন গোয়ালা, আক্কেল প্রধান, বিশ্বজিত, চপ্পল কর্মকার, সঞ্জিত মৃধা, কাজল রায়, মঙ্গল রায় ও সজীব কর্মকার।
আটক ৯ জনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে জানিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার মো. তোফায়েল আহমদ বলেন, জাফলং চা-বাগানে ইমাম উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ২৫ জনের নামোল্লেখ করা হয়েছে। আটক ৯ জন এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ইমাম উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে চা বাগান এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। পরে পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করে। এ সময় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। সোমবার আনুমানিক রাত তিনটার দিকে ইমাম উদ্দিনকে চোর সন্দেহে আটক করে চা বাগানের শ্রমিকেরা। এ সময় মারধর করা হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ইমাম উদ্দিনের মত্যু হয়।
তবে ইমাম উদ্দিনের বাবার দাবি, হত্যাকান্ডের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্যই চুরির ঘটনা বলা হচ্ছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে বাগানে ডেকে নিয়ে বহিরাগত হিসেবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।'