ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক
Nagad desktop

বিদেশে যেতে ইচ্ছুক তরুণদের বেশির ভাগ ডেকে আনা হয় নারীদের দিয়ে

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০৩ পিএম
বিদেশে যেতে ইচ্ছুক তরুণদের বেশির ভাগ ডেকে আনা হয় নারীদের দিয়ে
প্রতীকী ছবি

শুধু ভিসা প্রসেসিং ফি দিয়ে এক মাসের মধ্যে ইউরোপ, কানাডা যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। বিদেশে পাঠানোর নামে ফেসবুকে এ ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে হাজার হাজার তরুণের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রধানত বেকার তরুণদের ফাঁদে ফেলার প্রাথমিক কাজটি করে তারা। 

স্বল্প সময়ের জন্য জাঁকজমকপূর্ণ অফিস নিয়ে গুলশান, বনানীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বসে বছরের পর বছর ধরে প্রতারণার কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আর ধাপে ধাপে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

দেখা গেছে, এ রকম চক্রগুলো বেশির ভাগ সময় তাদের নারী স্টাফদের দিয়ে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বরে ফোন করে এবং সরাসরি চাহিদার কথা বলে। এই নারী স্টাফরা ফোনে বিদেশে যারা যেতে চান তাদের অফিসে ডেকে আনেন। অফিসে আসার পর তাদের সাদর আপ্যায়নের কাজটিও করেন নারী স্টাফরা। এরপর চক্রটির অন্য সদস্যরা উচ্চ বেতন, সুযোগ-সুবিধা, ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডার, ভিসার কপি দেখানোসহ নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলেন। এই ফাঁদে পড়েই ভুক্তভোগীরা হারাচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই চক্র ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের নানাভাবে প্রলোভনে ফেলে। প্রতারকদের অফিস, কথার ধরন এতই সূক্ষ্ম ও নিখুঁত যে দেশের সাধারণ সহজ-সরল মানুষ সহজেই তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। প্রতারক চক্র নামমাত্র ভিসা প্রসেসিং ফি জমা নিয়ে ফাঁদে ফেলার কাজটি শুরু করে। এরপর জাল ডকুমেন্ট দেখিয়ে একেকজনের কাছ থেকে কয়েক ধাপে ৮ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। 

এভাবে প্রতারক চক্র বিদেশ গমনে ইচ্ছুক অনেকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর অফিস বন্ধ করে গাঁ ঢাকা দেয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এসব দেখার টাস্কফোর্স থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার তথ্য নেই। আবার প্রতারক চক্রের কোনো সদস্য পুলিশের হাতে ধরা পড়লে ৭-৮ লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এভাবে প্রতারক চক্রের সদস্যরা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। 

গাজীপুরের এক ভুক্তভোগী গোলাম রাব্বি সম্প্রতি এসেছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানাতে। তিনি তার অভিযোগে বলেন, এমএসকে ট্রাভেল নামের একটি প্রতিষ্ঠান অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়েছে। তার জানামতে আরও অন্তত সাতজন প্রতিবেশীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এভাবে ২৫ দিনে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে কয়েক ধাপে টাকা নিলেও এক বছরে কাউকে বিদেশে পাঠায়নি। দুই মাস হলো প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের ফোন নম্বরগুলোও বন্ধ। 

ভুক্তভোগী জানান, সরকারের কাছ থেকে প্রতিকার পাওয়ার আশায় তিনি অভিযোগ জানাতে মন্ত্রণালয়ে এসেছেন। কিন্তু বিদেশে কেউ বৈধভাবে গিয়ে প্রতারণার শিকার হলে মন্ত্রণালয় শুধু সেই সব অভিযোগ আমলে নেয়। অন্য কোনো অভিযোগ আমলে নেয় না।

এদিকে এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চললেও যাদের দেখার কথা, সেই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সেল কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তারা এ ব্যাপারে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। 

তবে গত ২ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব এ জেড এম নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে, আমরা এমন কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’ 

তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে বিজ্ঞাপন দিয়ে লোক সংগ্রহ করা এবং প্রতারণার চেষ্টার পুরো প্রক্রিয়াই অবৈধ। এসব বিজ্ঞাপন কেউ কোনোভাবে দিতে পারেন না।

বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা
ছবি: খবরের কাগজ

বিশ বছর ধরে চরম অর্থকষ্ট আর পাহাড়সম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিন সন্তানকে বুকে আগলে বড় করেছিলেন মা গুলতাজ বেগম। ভেবেছিলেন, সুদিন বুঝি এবার এল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই সুখের দেখা পাওয়ার আগেই স্তব্ধ হয়ে গেল একটি পরিবারের সব স্বপ্ন। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকার একটি লিচু বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওমান প্রবাসী মো. ওমর ফারুকের (২৫) হাত-পা বাঁধা মরদেহ।

শনিবার (৬ জুন) সকালে বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার একটি পাহাড়ি লিচু বাগানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে ফারুকের মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় একদিকে বুকফাটা আর্তনাদে মূর্ছা যাচ্ছেন মা, অন্যদিকে স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন কয়েকদিন পরই সন্তানের জন্ম দিতে যাওয়া তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। যে শিশুটি পৃথিবীর আলো দেখবে, সে আর কোনোদিন তার বাবাকে ডাকতে পারবে না—এই নির্মম সত্য যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না পরিবারটি।

নিহত ওমর ফারুক চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীরেরখীল এলাকার ওসমান আলীর মেঝ ছেলে। প্রায় সাত বছর ওমানে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেড় বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন এবং বিয়ে করে নতুন সংসার জীবন শুরু করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন (মঙ্গলবার) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি ফারুক। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস মেলেনি। 

নিহত ফারুকের মা বুকফাটা কান্না জনিত কণ্ঠে বলেন “আজ সুখের সময় কেন আমার বুকের মানিককে এভাবে হত্যা করা হলো! আমার ছেলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, আর কয়েকদিন পরই সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখবে। সেই শিশুটি তার বাবাকে কোথায় পাবে?

মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, যেহেতু মরদেহটি বোয়ালখালী থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই মূল মামলা এবং আইনি প্রক্রিয়া বোয়ালখালী থানাতেই সম্পন্ন হবে। ঘটনার সুষ্ঠু রহস্য উদ্ঘাটনে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ বোয়ালখালী পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে এবং একটি ছায়াতদন্ত চালাচ্ছে।

এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় এলাকাবাসী। রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফারুকের এমন করুণ পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ। নিহত ফারুকের পরিবার ও এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি— অনতিবিলম্বে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক এবং জড়িত খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।

তৈয়্যবুল ইসলাম/নাঈম

হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের
হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহতের স্বজনরা। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতে হেলাল উদ্দিন (২৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (৮ জুন) বিকেল চারটার দিকে পৌরশহরে উপজেলা ভূমি অফিসের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হেলাল পৌর শহরের কাঁচারীপাড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে। তিনি অটোরিকশা চালাতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেলালের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় তার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ওই যুবকেরা। এ অবস্থায় সে দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে চাইলে ঘাতকরা সেখানেও তার ওপর হামলা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তারা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হেলালকে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট সার্কেল এএসপি মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/নাঈম

রামুতে জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
রামুতে জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে পাহাড়তলী এলাকার আলোচিত আসিফ ও হৃদয় হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিয়াউর রহমান জিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সোমবার (৮ জুন) ভোরে রামু উপজেলার উখিয়ার ঘোনা (গনিয়া কাটা) এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক।

গ্রেপ্তার জিয়া কক্সবাজার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পাহাড়তলী ইসলামপুর এলাকার মৃত নজির আহমেদের ছেলে।

আ ম ফারুক জানান, গত ২ জুন রাতে পাহাড়তলী এলাকার ইসলামপুরে আসিফ ও হৃদয় নামে দুই যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আসিফের বাবা মো. ইসমাইল বাদী হয়ে ৫ জুন কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি জিয়াউর রহমান জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিয়া আত্মগোপনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার অপরাধের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ জোড়া হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় দুটি হত্যা মামলা, একটি মাদক মামলা এবং বিভিন্ন অভিযোগে মোট আটটি মামলা রয়েছে।

তারেকুর রহমান/খাদিজা রুমি/

যশোরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
যশোরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা
যশোর

যশোরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে ছামিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

সোমবার (৮ জুন) ভোরে শহরের শেখহাটি তমালতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। 

নিহত ছামিনা আক্তার পাশের গ্রাম তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আর স্বামী সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাসায় অবস্থানকালে নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। 

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছামিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে একাধিক স্থানে আঘাত করে গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত ছামিনার মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন এবং পরে আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। 

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম জানান, ছামিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আলাদাভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এইচ আর তুহিন/অন্তরা

গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত ছোট ভাই, আশঙ্কাজনক বড় ভাই

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:২১ এএম
গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত ছোট ভাই, আশঙ্কাজনক বড় ভাই
প্রতীকী ছবি

গাইবান্ধা জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই রুমন (১৮) নিহত হয়েছেন। আহত বড় ভাই রুহিতের (২০) অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ সময় খুনিরা পালিয়ে গেলেও দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাইবান্ধা সদরের পূর্ব পিয়ারাপুরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী খবরের কাগজকে জানান, পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের রাকিবের সঙ্গে মৃত ফারুকের ছেলে রুহিতের দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এক পর্যায়ে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উভয়ের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হলে রাকিব  ছুরি দিয়ে রুহিতকে আঘাত করেন।

এ সময় রুহিতের ছোট ভাই রুমন এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন রাকিব। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় সহোদর রুহিত ও রুমনকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রুহিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, এ ঘটনায় খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাকিবের মা বেবি বেগম ও তার স্ত্রী ইতি বেগমকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে' বলেও জানান তিনি।

মিলন খন্দকার/থিও