মাদারীপুরে দাম্পত্য কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় ইতালি প্রবাসী স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। স্ত্রীর দাবি, পরকীয়া নিয়ে ঝগড়ার জেরে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দিয়াপাড়া এলাকার মাতুব্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মো. হাবিব মাতুব্বর (৩২) একই এলাকার মৃত রশিদ মাতুব্বরের ছেলে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী শিউলি বেগমকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাবিব মাতুব্বর ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। শুক্রবার রাতে আবারও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ভোরের দিকে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী শিউলি বেগমের বিরুদ্ধে।
এ সময় তার চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাবিবকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদরের ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিউলিকে আটক করে পুলিশ। একই সঙ্গে ব্লেডটিও উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী হাবিব মাতুব্বরের চাচাতো ভাই হৃদয় মাতুব্বর জানান, রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শিউলি বেগম ব্লেড দিয়ে আমার ভাইয়ের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। চিৎকার শুনে আমরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিই।
অভিযুক্ত শিউলি বেগম বলেন, আমার স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত। একাধিক নারীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। এজন্য ক্ষোভের বশেই এ কাজ করেছি।
এদিকে পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিব মাতুব্বর বলেন, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমি জানি না। এ ঘটনায় আমি মামলা করব।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে অভিযুক্ত স্ত্রী শিউলি বেগমকে আটক করা হয়েছে। এখনো লিখত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুনছি হাবিব দ্বিতীয় বিয়ে করছে, এই কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।
রফিকুল ইসলাম/অমিয়/