রাজধানীর মুগদায় আলোচিত সৌদি প্রবাসী মোকাররম হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) সকালে মুগদা থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যৌথ অভিযানে নরসিংদীর শিবপুর থানার জয়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকার বাসিন্দা মোকাররম মিয়া (৩৮) গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি ঢাকার মুগদার মান্ডা এলাকায় প্রেমিকা তাসলিমা ওরফে হাসনার পরিচিত হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন।
তদন্তে জানা যায়, সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় আরেক প্রবাসীর স্ত্রী তাসলিমার সঙ্গে মোকাররমের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সময় মোকাররম বিভিন্ন সময়ে তাসলিমাকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি অর্থ পাঠান বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর মোকাররম তাসলিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং দেওয়া টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোকাররম ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন।
এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমা, তার সহযোগী হেলেনা বেগম ও হেলেনার কিশোরী মেয়ে হালিমা আক্তার মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তদন্তকারীদের দাবি, ১৪ মে সকালে মোকাররমের খাবার বা পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। তিনি দুর্বল হয়ে পড়লে প্রথমে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে ধারালো বটি ও হাতুড়ি দিয়ে মাথা, ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর বাথরুমে নিয়ে মরদেহ আট টুকরো করা হয়। পরে সেগুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মান্ডা ও মানিকনগর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। বিচ্ছিন্ন মাথাটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফেলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।
গত ১৭ মে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ মান্ডা এলাকার একটি ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি পলিথিনে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে মরদেহটি মোকাররমের বলে শনাক্ত করা হয়।
এর আগে ১৮ মে র্যাব হেলেনা বেগম ও তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে হালিমাকে গ্রেপ্তার করে। পরে হেলেনা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।