বটতলার নাট্য প্রযোজনা ‘খনা’। সামিনা লুৎফা নিত্রার রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার। আজ ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাটকটির ৯২তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।
খনা নারী ও শ্রেণির প্রশ্ন সামনে আনেন। গল্পটা ১৫০০ বছর আগের হলেও আজও সমান প্রাসঙ্গিক। গল্পে দেখা যাবে- এক বিদুষী খনা, যার অন্য নাম লীলাবতী। তার গল্পটা অনেক পুরোনো, কিংবদন্তির ঘেরাটোপে বন্দি। তবু যেটুকুর তল খুঁজে পাওয়া যায় তাতে বোধহয় তিনি এক বিদুষী জ্যোতিষী; স্বামী মিহিরও একই বৃত্তিধারী।
শ্বশুর যশস্বী জ্যোতিষী বরাহ মিহির। পুত্রজায়ার যশ, খ্যাতি ও বিদ্যার প্রভাব সন্দর্শনে বরাহের হীনম্মন্যতা ও ঈর্ষা। পুরুষের এই ঈর্ষাটুকু বোঝা ততটা কঠিন নয়। কঠিন থাকেওনি। শ্বশুরের নির্দেশে লীলাবতীর জিহ্বা কর্তন ও তার খনা হয়ে ওঠার গল্প পেরিয়েছে প্রজন্মের সীমানা। তাই একবিংশ শতকেও হাতড়ে বেড়ানো হয় খনার বচন।
এ নাটকের কাহিনি এগিয়েছে চন্দ্রকেতু গড়কে কেন্দ্র করে- যেখানে আজও আছে খনা-মিহিরের ঢিবি। লঙ্কাদ্বীপ থেকে খনা মিহিরকে সঙ্গে করে পৌঁছে দেন তার পিতা বরাহ মিহিরের কাছে। বরাহ মিহির বালহণ্ডার দেউলানগর বা দেউলনগরের রাজা ধর্মকেতুর রাজজ্যোতিষী। পুত্র মিহিরের জন্মকোষ্ঠী ভুল গণনা করে তাকে ভাসিয়েছিলেন বিদ্যাধরীর জলে। সেই মিহিরকে নিয়ে খনা হাজির হন বরাহের সামনে, ভুল প্রমাণ করেন বরাহের গণনা। এভাবে এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি।
অভিনয়ে রয়েছেন কাজী রোকসানা রুমা, ইভান রিয়াজ, ইমরান খান মুন্না, তৌফিক হাসান, শারমীন ইতি, শেউতি শাহগুফতা, কামারুজ্জামান সাঈদ, হাফিজা আক্তার ঝুমা, চন্দন পাল, আবদুল কাদের, পংকজ মজুমদার, রিশাদুর রহমান রিশাদ, লায়েকা বশীর, পলাশ নাথ, সানজিদা ইয়াসমীন, সুমিত তিওয়ারি, রেওয়াজ, সৃষ্টি, অন্তু প্রমুখ।
মঞ্চ ও আলো- আবু দাউদ আশরাফী, সংগীত- ব্রাত্য আমিন, শারমিন ইতি ও জিয়াউল আবেদিন রাখাল, পোশাক- তাহমিনা সুলতানা মৌ ও তৌফিক হাসান, প্রপস- হুমায়রা আখতার, কোরিওগ্রাফি- নাসিরুদ্দিন নাদিম ও মোহাম্মাদ রাফী।