পেটের আলসার বা গ্যাসট্রিক আলসার হলো পাকস্থলীর ক্ষত বা ঘা, যা পাকস্থলীর আস্তরণে বা ডিওডেনামের অংশ। পাকস্থলীতে পেপসিন বা খাদ্যরস অ্যাসিডের মাধ্যমে এ ক্ষত সৃষ্টি হয়।
কারণ
নানা কারণে রোগটি হতে পারে। উল্লেখযোগ্য কারণের মধ্যে আছে —
◉ এ রোগের জন্য প্রধানত হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়াকে দায়ী করা হয়। এ জীবাণু পাকস্থলীর প্রাচীর নষ্ট করে আলসার সৃষ্টি করে।
◉ প্রদাহরোধী ওষুধ বা NSAIDS জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ অতিরিক্ত সেবন থেকে আলসার হতে পারে।
◉ মানসিক চাপ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে, ফলে আলসার সৃষ্টি করে।
◉ অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য ও জীবনধারা, যেমন- অতিরিক্ত চর্বিজাত খাদ্যগ্রহণ, অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণ থেকে এটা হতে পারে।
◉ অনিদ্রা, ধূমপান ও মদ্যপান।
◉ জন্মগত পরিপাকতন্দ্রের গঠনগত কাঠামো দুর্বল হওয়ার কারণে।
লক্ষণ
◉ খাদ্যগ্রহণের পর বা খালি পেটে পেটের উপরিভাগে ব্যথা, পেট ফোলা বা বেলচিং।
◉ অ্যাসিড রিফ্লাক্স।
◉ পেট, বুক ও গলা জ্বালাপোড়া।
◉ বমি ও বমি বমি ভাব। কখনো কখনো রক্ত বমিও হতে পারে।
◉ খাবারে অরুচি ও খাওয়ার পর পেট ফেঁপে ওঠা।
◉ অতিরিক্ত ঢেকুর ও খাদ্য গিলতে সমস্যা হওয়া ও বদহজম।
◉ দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।
◉ মলের সঙ্গে রক্তপাত এবং মলের রং খয়েরি বা কালো হওয়া।
◉ দীর্ঘস্থায়ী রক্ত ক্ষরণের ফলে রক্তস্বল্পতা ও শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
রোগ নির্ণয়
রোগ নির্ণয়ের জন্য নানা ধরনের পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে আছে এন্ডোস্কোপি, রক্তের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা, মলের অ্যান্টিজেন পরীক্ষা, সিএলও পরীক্ষা এবং ইউরিয়া শ্বাস পরীক্ষা।
চিকিৎসা
আলসার মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন উপায় রয়েছে। চিকিৎসার প্রথমে রোগের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। ধূমপান, মদ্যপান, ব্যথানাশক ওষুধ ঘন ঘন সেবন করলে তা অতি শিগগিরই পরিত্যাগ করতে হবে। সংক্রমণ ধরা পড়লে, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে হবে। রক্তক্ষরণ আলসারের ক্ষেত্রে দ্রুত এন্ডোস্কোপির প্রয়োজন হতে পারে। কখনো কখনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়তে পারে।
প্রতিরোধ
◉ গ্যাসট্রিক আলসার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। এ ব্যাকটেরিয়ায় অস্বাস্থ্যকর খাবার ও দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায়। এ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেশি হয়। এ রোগ হতে রক্ষা পেতে জীবনাচারে পরিবর্তন আনতে হবে।
◉ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
◉ তেল ও চর্বিজাত খাবার, অতিরিক্ত ঝাল, জাংক ফুড, চকোলেট, কফি খাওয়া হতে বিরত থাকতে হবে।
◉ ধূমপান ও মদ্যপান করা যাবে না।
◉ নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটার অভ্যাস করতে হবে।
◉ পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যবস্থা করতে হবে।
◉ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না।
লেখক: হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্য নিবন্ধকার।



