আজ ১০ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব লুপাস দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য “লুপাসকে দৃশ্যমান করুন”। সচেতনতার এই দিনে চিকিৎসকরা বিশেষভাবে নারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ লুপাসে আক্রান্তদের বড় একটি অংশই নারী।
লুপাস কি?
লুপাস একটি অটো-ইমিউন রোগ, যাতে শরীরে প্রদাহ হয়। এই রোগে, রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করার পরিবর্তে, ব্যক্তির ইমিউন সিস্টেম তার নিজের কোষগুলির ক্ষতি করতে শুরু করে। এ কারণে টিস্যুর যে অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেখানে ফোলাভাব শুরু হয়। এ কারণে মস্তিষ্ক, কিডনি, হার্ট, ত্বকসহ অন্যান্য অঙ্গও আক্রান্ত হতে পারে। এই রোগ শনাক্ত করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত হওয়ার কারণে এর লক্ষণগুলি অন্যান্য রোগের মতোই, যার কারণে এটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, লুপাস বা সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমাটোসাস (SLE) রোগে আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী। অর্থাৎ প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে প্রায় ৯ জনই মহিলা। বিশেষ করে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। অন্যদিকে পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম প্রায় ১০ শতাংশের মতো।
কেন নারীরা বেশি আক্রান্ত হন?
গবেষকদের মতে, নারীদের শরীরে থাকা ইস্ট্রোজেন হরমোন লুপাসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া নারীদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুরুষদের তুলনায় বেশি সক্রিয় হওয়ায় অটোইমিউন রোগ হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। জেনেটিক কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিকেও লুপাসের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হয়।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হতে বলেন চিকিৎসকরা। লুপাসের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো নাক ও গালে প্রজাপতির ডানার মতো লাল ফুসকুড়ি। এছাড়াও দেখা দিতে পারে আরো অনেক লক্ষণ।
অতিরিক্ত ক্লান্তি
জ্বর বা জ্বরজ্বর ভাব
জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলাভাব
চুল পড়া
মুখে ঘা
শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা
মাথাব্যথা ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
হাত-পা ফুলে যাওয়া
ঠান্ডায় আঙুল সাদা বা নীল হয়ে যাওয়া
চিকিৎসকদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, লুপাস পুরোপুরি নিরাময় না হলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই বিশেষ করে নারীদের দীর্ঘদিন ক্লান্তি, জয়েন্টে ব্যথা বা ত্বকে অস্বাভাবিক ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশ্ব লুপাস দিবসে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “সচেতনতা বাড়লেই দ্রুত রোগ শনাক্ত হবে, আর দ্রুত শনাক্ত হলেই রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।”
আমান


