রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে টানা আন্দোলনের মধ্যে ১৯৫২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকায় উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ১৪ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি ঘিরে ছাত্রসমাজের মধ্যে যে ক্ষোভ জমেছিল, তা এদিন সংগঠিত প্রস্তুতিতে রূপ নেয়। সভা-সমাবেশ, প্রচারপত্র বিতরণ এবং ধর্মঘটের ডাককে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রনেতারা পৃথক বৈঠকে মিলিত হয়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন কর্মসূচি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ছাত্রদের মধ্যে স্পষ্ট হতে থাকে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাজপথে নামতে হবে। ১৪৪ ধারা জারির গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা আরও বাড়ে। বিভিন্ন হলের কক্ষে কক্ষে চলতে থাকে গোপন বৈঠক। আন্দোলনকে বেগবান করতে লিফলেট ছাপানো, দেয়াললিখন এবং মিছিল সংগঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
এদিন শিক্ষকদের একটি অংশও ছাত্রদের দাবির প্রতি নৈতিক সমর্থন জানায়। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবু ছাত্রসমাজ পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখায়নি।
পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, মেডিকেল কলেজ হোস্টেল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। আন্দোলনের সম্ভাব্য কেন্দ্রগুলোতে সাদাপোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ করা যায়।
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রসমাজের ঐক্য, সংগঠিত প্রস্তুতি এবং প্রশাসনের কড়াকড়ি–সব মিলিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তৈরি হয় এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। এই দিনটি ভাষা আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।