ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে দিন যতই যাচ্ছিল পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন ততই বেগবান হচ্ছিল। আমাদের দাবি মানতে হবে, আমাদের অধিকার মানতে হবে শ্লোগানে বাংলার আকাশ বাতাস দিন দিন ভারী হয়ে যাচ্ছিল। যেকোনো বাধাই যেন গণমুখী আন্দোলনের কাছে টিকবে না। বরং মাথানত করতে বাধ্য হবে, আর হয়েছেও তাই।
ব্রিটিশ সরকারের কাছে সর্বপ্রথম ১৯২১ সালে বাংলা ভাষার লিখিত দাবি পেশ করেন সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখ ছিল বাঙালি মুসলমান। বাকি ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের ভাষা শুধু উর্দুই ছিল না, তবে সিন্ধু পাঞ্জাবি, পস্তু, বালুচ ভাষাগুলো তত উন্নত না হওয়ায় তাদের উর্দুভাষী হিসেবে পরিচিতি ছিল। অথচ তারা সংখ্যালঘু হয়েও বাংলাভাষীদের অর্থাৎ সংখ্যাগুরুদের মেনে নিতে পারেনি। কতই না হীন মনমানসিকতার ও অহংকারী প্রকৃতির পরিচায়ক ছিলেন। যা এখনো হৃদয়ের ছোট্ট কুটিরে বার বার স্মরণ হলেই বুক ফেটে যায়, তাদের প্রতি ঘৃণা জন্মায়। মূলত ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৪৭ সালে এবং যে সংগঠনটি এর পক্ষে জোরালো দাবি জানিয়েছিল তার নাম হলো- তমদ্দুন মজলিস। এর নেতৃত্বে ছিলেন প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম। ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি কমিটিও গঠিত হয়েছিল।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পূর্ব পাকিস্তানের গণপরিষদের একমাত্র সদস্য যিনি সেদিন বাংলা ভাষার পক্ষে গণপরিষদে প্রস্তাব করেন। বাংলা ভাষাকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করেন এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে কলকাতার শান্তি নিকেতনেও সেমিনার হয়।