ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা এবং জাসদের অন্যতম নেতা কাজী আরেফ আহমেদের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি। ১৯৯৯ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হন।
১৯৪৩ সালের ৮ এপ্রিল কুষ্টিয়ার কাওদিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া কাজী আরেফ ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬২ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন ও শিক্ষা কমিশনের প্রতিবাদে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
কাজী আরেফ আহমেদ ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (মুজিব বাহিনী)-এর অন্যতম নেতা হিসেবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর দৈনিক গণকণ্ঠ প্রকাশের মাধ্যমে প্রগতিশীল ধারার সাংবাদিকতাতেও যুক্ত হন।
ছাত্রলীগের বিভক্তির পর জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও পরবর্তী সময়ে দলীয় সীমার বাইরে বৃহত্তর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তিনি সোচ্চার ছিলেন।
১৯৯৮ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গঠনে তিনি উদ্যোগী হন।