ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু
Nagad desktop

বগুড়ায় পাওয়া ব্রাহ্মী শিলালিপি ৯৪ বছর ধরে ভারতে

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
বগুড়ায় পাওয়া ব্রাহ্মী শিলালিপি ৯৪ বছর ধরে ভারতে
ছবি : সংগৃহীত সুফি মোস্তাফিজুর রহমান সৌজন্যে

আমরা এখন যে বাংলা অক্ষর লিখি বা পড়ি তা মৌর্য সম্রাট অশোকের সময় উদ্ভাবিত ব্রাহ্মীলিপি বা অশোকলিপির বিবর্তিত রূপ। ব্রাহ্মীলিপির এখন পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র নিদর্শন শিলালিপিটি উদ্ধার হয়েছে বগুড়ার পুণ্ড্রনগর বা মহাস্থান গড়ে। লিপি বিশারদ ও বগুড়ার শাহ সুলতান কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা আহাদ তালুকদার জানান, পাথরের ওই শিলালিপিতে যা লেখা আছে তা প্রথম পাঠোদ্ধার করেন ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব ও ভাষাবিদ ডি আর ভান্ডারকর। তার মতে, এ শিলালিপিটি মৌর্য আমলে দেখা দেওয়া দুর্ভিক্ষপীড়িত জনসাধারণকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সাহায্য করার প্রশাসনিক নির্দেশ। 

যিশুখ্রিষ্টের জন্মের অন্তত ৩০০ বছর আগে অর্থাৎ কমপক্ষে ২ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো পাথরে খোদাই করে লেখা এ শিলালিপিটি পান জমিচাষ করার সময় মহাস্থানের চাষি বারু ফকির। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ‘মহাস্থান’ নামে এক প্রকাশনাতেও শিলালিপিটি খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

১৯৩১ সালের ৩০ নভেম্বর মহাস্থান বা পুণ্ড্রনগরীতে উদ্ধার হওয়া ওই শিলালিপিটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে ডি আর ভান্ডারকরের ‘মৌর্য ব্রাহ্মী ইনস্ক্রিপশন অব মহাস্থান’ শীর্ষক নিবন্ধে। 

আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক জি সি চন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ এ নিদর্শনটি অধিদপ্তরের জন্য সংগ্রহ করে বগুড়া থেকে নিয়ে যান কলকাতায়। সম্ভবত তখন থেকেই এ শিলালিপিটি কলকাতায় আছে। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে জানতে পারে কলকাতা জাদুঘরের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিশেষ প্রদর্শনীতে শিলালিপিটি দর্শকদের জন্য প্রদর্শন করা হয়। তারপরই সুধী সমাজের পক্ষ থেকে শিলালিপিটি ফিরিয়ে আনার দাবি ওঠে। 

মৌর্য সম্রাট অশোকের সময়ের খণ্ডিত এ শিলালিপি দৈর্ঘ্যে ৩ দশমিক ২৫ ইঞ্চি, প্রস্থে ২ দশমিক ২৫ ইঞ্চি আর পুরু শূন্য দশমিক ৮৭৫ ইঞ্চি। উপরের অংশের খানিকটা ভাঙা থাকলেও লিপিবিশারদরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি দুর্ভিক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত দেশবাসীকে সাহায্যের একটি নির্দেশপত্র। 

মহাস্থানগড় থেকে ৯৪ বছর আগে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় নিয়ে যাওয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে শীর্ষ জাতীয় দৈনিকটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিলালিপিটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল ভারতীয় কর্মকর্তাদের। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে তেমন আগ্রহ দেখানো হয়নি। ফলে ওই শিলালিপিটি ফেরত চাওয়ার ও পাওয়ার প্রক্রিয়া আর গুরুত্ব পায়নি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) এ কে এম সাইফুর রহমান জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশনটি ভারতে আছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা সেলফোনে জানান, ওই শিললিপিটি ফেরত আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কী সেই উদ্যোগ বা কী ধরনের সে বিষয়টি তিনি জানাতে পারেননি। 

৬ লাইনে উৎকীর্ণ শিলালিপিটিতে কী লেখা আছে এ প্রশ্নের জবাবে ড. মোস্তফা আহাদ তালুকদার বলেন, ‘এ শিলালিপি আমাদের সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ। মহাস্থান ব্রাহ্মীলিপি নামে পরিচিত লিপিতে তৎকালীন মৌর্য রাষ্ট্রের অন্যতম ভুক্তি পুণ্ড্রনগরীর কর্তব্যরত মহামাত্রের নিকট জারি করা জনৈক শাসকের একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এতে ‘সংবঙ্গীয়’ নামে দুর্ভিক্ষপীড়িত নগরবাসীদের দুর্দশা দূর করতে ৪টি প্রয়োজনীয় দ্রব্য ধান, তেল, গাছ ও দুই ধরনের ক্ষুদ্রাকৃতির মুদ্রা গন্ডক (একগন্ডা) ও কাকনিক (কড়ি) ধার হিসাবে সাহায্য প্রদানের কথা বলা হয়েছে। এটি মূলত মৌর্য সাম্রাজের একটি প্রশাসনিক আদেশপত্র, যা দুর্ভিক্ষের সময় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দুর্গত জনগণের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহের নির্দেশ। এ শিলালিপিটি আমাদের সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ উল্লেখ করে ড. মোস্তফা আহাদ তালুকদার প্রাচীন গ্রিক রাজ্য ম্যাসিডনের রাজা আলেকজান্ডারের প্রত্যাবর্তনের পর মৌর্য রাজত্বের একটি শক্তিশালী পত্তনের অনেক নিদর্শনই মেলে বগুড়ার পুণ্ড্রনগর বা মহাস্থান গড়ে। সে সময় বগুড়াসহ বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের পুরোটাই ছিল মৌর্য রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন সময় প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া নিদর্শনে যেমন তার প্রমাণ মেলে তেমনই ব্রাহ্মী এ শিলালিপিতেও রয়েছে পুণ্ড্রনগরের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রজাদের অবস্থা এবং দুর্যোগে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের অবস্থানসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। 

বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ। একইসঙ্গে তিনি রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগের বিএনপির মিডিয়া সেলের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সুধীসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এ শিলালিপি নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। কালাম আজাদ বলেন, ‘কোনো এক বিশেষ পরিস্থিতিতে সে সময় এ শিলালিপিটি ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশ এখন স্বাধীন রাষ্ট্র। এ ব্রাহ্মী শিলালিপিটি আমাদের এবং তা আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। ১৯৭০ সালে ইউনেসকো সনদ অনুযায়ী এটা বাংলাদেশের। ‘মহাস্থান ব্রাহ্মীলিপি’ হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি ফেরানোর উদ্যোগ নিতে হবে বাংলাদেশকে আর সহযোগিতা করতে হবে ভারতকে।’

সম্রাট অশোকের সময়ে উদ্ভাবিত ব্রাক্ষীলিপির বিবর্তিত রূপ বর্তমান প্রচলিত বাংলা অক্ষর। এটাই এখন পর্যন্ত পাওয়া ব্রাহ্মীলিপির একমাত্র নিদর্শন। অবৈধভাবে পাচার হওয়া সাংস্কৃতিক সম্পদ ও প্রাচীন নিদর্শন উদ্ধারের ক্ষেত্রে ইউনেসকো ১৯৭০ কনভেনশন (UNESCO 1970 Convention) হলো সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশ এই কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। এ কনভেনশনের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ইরাক, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড তাদের চুরি হওয়া ও ঔপনিবেশিক আমলে নিয়ে যাওয়া প্রত্নসম্পদ ফেরত পেয়েছে।

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১ জুন। ১৯৬৯ সালের এ দিনে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া গ্রামে মানিক মিয়ার জন্ম। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৩৫ সালে বিএ পাস করে পিরোজপুর মহকুমা হাকিমের আদালতে সহকারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়।

১৯৪৭ সালে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার পরিচালনা বোর্ডের সেক্রেটারি পদে যোগ দেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং সাপ্তাহিক ইত্তেফাকের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫৩ সালে তার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ইত্তেফাক ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এ রূপান্তরিত হয়।

মানিক মিয়ার সম্পাদনায় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯৫৯ সালে তিনি এক বছর কারাভোগ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। এ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশনা নিষিদ্ধ এবং নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ফলে তার প্রতিষ্ঠিত অন্য দুটি পত্রিকা ঢাকা টাইমস ও পূর্বাণী বন্ধ হয়ে যায়। গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার ইত্তেফাকের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি ফের প্রকাশিত হয়।

‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’, ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ আর ‘রঙ্গমঞ্চ’ শিরোনামে কলাম লিখে বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতাকামী করে তোলেন মানিক মিয়া। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি আমৃত্যু নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২৩ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৩ মে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন জীবগুলোর মধ্যে অন্যতম কচ্ছপ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি, এই প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি এবং এর সংরক্ষণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেই প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।

আমেরিকান টরটয়েজ রেসকিউ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ২০০০ সাল থেকে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকেই প্রতি বছর ২৩ মে সারাবিশ্বে পালিত হয়ে আসছে ‘বিশ্ব কচ্ছপ দিবস’। বিশ্বজুড়ে কচ্ছপ ও তাদের বিলুপ্তপ্রায় আবাসস্থল রক্ষায় মানুষকে উৎসাহিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

সরীসৃপ শ্রেণির উভচর প্রাণী কচ্ছপ পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন জীব হিসেবে পরিচিত। শান্ত স্বভাবের এই প্রাণীর আয়ু মানুষের চেয়েও বেশি। তবে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ২০ প্রজাতির কচ্ছপ। নদী, খাল-বিল, ডোবা, গভীর সমুদ্র, মাটির গর্ত, গাছের গুড়ি কিংবা বালুময় স্থানে এদের বসবাস। একসময় দেশের নদী-নালা, পুকুর-ডোবা ও গ্রামীণ পরিবেশে সহজেই কচ্ছপ দেখা গেলেও এখন তাদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-নালা ও জলাশয় ভরাট, ঝোপঝাড় ধ্বংস, পানি দূষণ, খাদ্যাভাব এবং মানুষের নির্বিচার আক্রমণের কারণে কচ্ছপ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপের মধ্যে প্রায় একশ’ প্রজাতি বর্তমানে বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

কচ্ছপ সাধারণত রাতের বেলা ডিম পাড়ে। স্ত্রী কচ্ছপ মাটিতে গর্ত করে সেখানে ১ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ডিম পাড়ার পর সেগুলো মাটি, বালি বা জৈব পদার্থ দিয়ে ঢেকে রেখে যায়। এরপর ডিমগুলো প্রকৃতির ওপরই নির্ভরশীল থাকে। প্রজাতিভেদে ৬০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

দীর্ঘায়ুর জন্যও কচ্ছপ বিশেষভাবে পরিচিত। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জীবিত সবচেয়ে বয়স্ক কচ্ছপের নাম ‘জোনাথন’। সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বসবাসকারী এই কচ্ছপটির বয়স প্রায় ১৯০ বছর বলে ধারণা করা হয়। সত্য হলে এটি পৃথিবীর দীর্ঘায়ু জীবিত প্রাণীদের অন্যতম।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কচ্ছপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই প্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার

আমান/

গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (আর কে হাই স্কুল) প্রতিষ্ঠাতা ও গৌরীপুরের ৫ম জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর ১৫৩তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।

এসিক অ্যাসোসিয়েশন, ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরি, ক্রিয়েটিভ সন্ধানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব এবং দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচিতে ছিল, কেক কাটা ও আলোচনা সভা।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ মে) কেক কাটা হয়। এরপর বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় ধানমহালে ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস ঐতিহ্যের গবেষক খায়রুল আলম তুহিন, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স এর সহসভাপতি ও এসিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরি সদস্য হিউবার্ড চক্রবর্তী, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও প্রতিভা কোচিং সেন্টারের পরিচালক অমল চন্দ্র দাস।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহসভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিলসহ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররা।

সমাপনী বক্তব্য দেন ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক, গবেষক ও  ইতিহাস সন্ধানী মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার। 

আলোচনা সভায় গৌরীপুর রাজবাড়ির ৫ম পুরুষ জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর কর্মময় জীবন, গৌরীপুরে উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯২৭ সালে গৌরীপুর পৌরসভা, ১৯১২-১৮ সালে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন ইত্যাদি গঠনে তার অবদান এবং বিভিন্ন সামাজিক অবদান তুলে ধরা হয়।

অমিয়/

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১০:০১ এএম
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য

‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়/ পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’- অনাচার আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরে বাংলা সাহিত্যে বিপ্লবের সুর তোলা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৩ মে। ১৯৪৭ সালের আজকের এই দিনে ২১ বছর বয়সে কলকাতার একটি ক্লিনিকে নিভে গিয়েছিল এই প্রতিভাধর কবির জীবনদীপ।

যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অকালে ঝরে গেলেও মাত্র কয়েক বছরের সাহিত্যচর্চায় তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ‘গণমানুষের কবি’ হিসেবে। পরাধীন ভারতের বঞ্চনা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা আর তেতাল্লিশের মন্বন্তর তার লেখায় ফুটে উঠেছে শ্রেণিবৈষম্যহীন এক পৃথিবীর স্বপ্ন হয়ে।

১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে জন্মগ্রহণ করা সুকান্তের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও জীবনের পাঠশালায় তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভের পর থেকে তার সাহিত্য ও রাজনীতি একাকার হয়ে যায়।

কবির উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’; যা তাকে বাংলা সাহিত্যে কালজয়ী আসন দিয়েছে। 

অন্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠেকড়া’, ‘ঘুম নেই’, ‘হরতাল’। ‘আকাল’ তার সম্পাদিত বিখ্যাত ফ্যাসিবাদবিরোধী কাব্যগ্রন্থ।

সুকান্ত কেবল কবিতাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, কিশোর বয়সেই তিনি লিখেছিলেন গীতিনাট্য ‘রাখাল ছেলে’ এবং ব্যঙ্গাত্মক নাটিকা ‘দেবতাদের ভয়’। এ ছাড়া গল্প, গান এবং প্রবন্ধেও ছিল তার সাবলীল বিচরণ। আকাশবাণী কলকাতার ‘গল্প দাদুর আসরে’ তার লেখা গান গেয়েছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী পঙ্কজ মল্লিক।

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী হরিপূজা

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ০২ মে ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী হরিপূজা
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ী শহরের ঐতিহ্যবাহী হরিতলা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের পুরনো হরিপূজা। এই নিয়ে টানা ১৪৮ বার আয়োজন করা হয় এই পূজা।

প্রতিবছরের মতো এবারও ১৮ বৈশাখ এই পূজা উদযাপিত হয়।

শুক্রবার (১ মে) দুপুর থেকে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। বিকেলে পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি দেন। পরে বিতরণ করা হয় প্রসাদ। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর পদাবলি কীর্তন। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হরিতলা এলাকা।

রাজবাড়ী শহরের বড়পুল এলাকায় অবস্থিত হরিতলা মন্দির শহরের প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিবছর হরিপূজা অনুষ্ঠিত হয় বলে মন্দিরটি হরিতলা মন্দির নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এই পূজার নাম অনুসারে পুরো এলাকাটিও হরিতলা নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। হরিতলা মন্দির এই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।

হরিতলা এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী অভিজিৎ সোম অভি বলেন, ‘এই হরিপূজা আমাদের এলাকার শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী পূজা। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এই পূজা। এটি শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের এলাকার পরিচয়, আমাদের শিকড়ের সঙ্গে বাঁধনের উৎসব’।

প্রতি বছরের মতো এবারও এই পূজাকে কেন্দ্র করে হরিতলা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে পূজায় অংশ নেন।

সুমন/আমান