ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম মণিপুরী সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব মহারাসলীলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই মহাআয়োজনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মণিপুরী অধ্যুষিত এলাকাগুলি।
বুধবার (৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হবে মণিপুরী সম্প্রদায়ের এই মহারাসলীলা।
মৃদঙ্গের তালে, নাচে-গানের মহারাসের এই উৎসব ঘিরে প্রতিটি গ্রামে বইছে আনন্দের হাওয়া। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রঙ-তুলির ছোঁয়ায় কারুকাজ আর সাজসজ্জা।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে কমলগঞ্জের মণিপুরী অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাড়াগুলোতে চলছে রাস উৎসবের মহড়া। মৃদঙ্গের তালে মণিপুরী গান ভেসে বেড়াচ্ছে। গান আর মৃদঙ্গের তাল অনুসরন করে একটু এগিয়ে গেলেই চোখে পড়ে মণিপুরীদের নৃত্যের নানান আয়োজন। কোথাও চলছে রাখাল নৃত্য কোথাও রাসনৃত্যের মহড়া। এ যেন রাস উৎসবের রং ফুটছে। বিভিন্ন বাড়ির উঠোনে নৃত্যের প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষক দেখিয়ে দিচ্ছেন নৃত্যের তাল-লয়-ছন্দ। চলছে নৃত্যকে নিখুঁত করার শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি।
মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুরের জোড়া মণ্ডপে বিষ্ণুপ্রিয়া (মণিপুরি) সম্প্রদায়ের ১৮৩তম এবং আদমপুর মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মীতৈ (মণিপুরি) সম্প্রদায়ের ৪০তম মহারাস উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
নৃত্যের মহড়ায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী নিশা মনি সিনহা বলেন, রাস উৎসবে অংশ নেওয়া মনিপুরী ছেলেমেয়েদের অনেকেই নতুন। আবার অনেকেই আছেন পুরাতন। তাদের মহড়া দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নৃত্যের মহড়া চলে।
রাসনৃত্যের শিক্ষক সজল কুমার সিংহ বলেন, ‘৫ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাখালনৃত্য শুরু হবে। সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হবে রাসনৃত্য। এই রাসনৃত্যের জন্যই মহড়া হচ্ছে।’
রাসনৃত্যের আরেক শিক্ষক অজিত কুমার সিংহ বলেন, এখন রাস উৎসবের মহড়া চলছে। রাস উৎসবে গান ও তালের সঙ্গেই সারারাত ধরে নাচতে হবে শিল্পীদের। তাই এখন শিক্ষকদের পরামর্শ অনুযায়ী মহড়া চলছে।
মাধবপুর মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের যুগ্ম-সম্পাদক নির্মল এস পলাশ বলেন, ‘এই মহারাস শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি মণিপুরী সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শুদ্ধ নৃত্যকলার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। যেখানে ধর্ম, সংস্কৃতি আর শিল্প একসূত্রে গাঁথা।’
মাধবপুর মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ বলেন, আগামী ৫ নভেম্বর সকাল ১১টা থেকে রাখালনৃত্য দিয়ে রাস উৎসবের শুরু হবে। উৎসবের দিন একটানা বিরতিহীন নাচ করবেন শিল্পীরা। রাখালনৃত্যে রাখাল সাজে শ্রীকৃষ্ণের বালকবেলাকে উপস্থাপন করা হবে। এতে থাকবে কৃষ্ণের সখ্য ও বাৎসল্য রসের বিবরণ। গোধূলি পর্যন্ত চলবে রাখালনৃত্য। সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান। রাত ১১টার দিকে শুরু হবে শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা। রাসনৃত্য ভোর (ব্রাহ্ম মুহূর্ত) পর্যন্ত চলবে।
পুলক পুরকায়স্থ/নাঈম/