পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বিশ্ব ঐতিহ্য দিবসে ছায়ানট (কলকাতা)-এর বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নবীন আশা জাগল যে রে আজ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে এদিন ছায়ানটের সদস্যরা মিলিত হন প্রাণের টানে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রামমোহন লাইব্রেরির রায়া দেবনাথ মেমোরিয়াল হলে তিন ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০ জন শিল্পী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেন ছায়ানট (কলকাতা)-এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি বলেন, শুধুমাত্র একটি দিন নয়, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে অন্তরে ধারণ করে সারা বছর বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ছায়ানট এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে বাচিকশিল্পীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুকুমার রায়-সহ বর্তমান সময়ের একাধিক কবির কবিতা পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি সোহালিয়া সিং এবং ঐশানী মজুমদারের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
নজরুল তাঁর কাব্যে, গানে সর্বদাই তারুণ্যের জয়গান করেছেন। তরুণদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন- ‘আমার একমাত্র সম্বল, আপনাদের - তরুণদের প্রতি আমার অপরিসীম ভালোবাসা, প্রাণের টান। তারুণ্যকে - যৌবনকে - আমি যেদিন হইতে গান গাহিতে শিখিয়াছি সেইদিন হইতে বারে বারে সালাম করিয়াছি, তাজিম করিয়াছি, সশ্রদ্ধ নমস্কার নিবেদন করিয়াছি। গানে, কবিতায় আমার সকল শক্তি দিয়া তাহারই জয় ঘোষণা করিয়াছি, স্তব রচনা করিয়াছি।’
একক কবিতায় অংশ নেন- রাজশ্রী বসু, ইন্দ্রাণী চৌধুরী, রুনা মুখার্জী, অনিন্দিতা ঘোষ, ঐন্দ্রী বসু, আশিস বরণ মল্লিক, মিতালী মুখার্জী, রাজকুমার মুখোপাধ্যায়, অরূপ কুন্ডু, মৃন্ময়ী দে মুখার্জী, শিপ্রা কুমার, জয়িতা দত্ত, সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবরূপ পাল, স্নেহা ঘোষ, কুমকুম সাহা, সবিতা ঘোষ ও তৃপ্তি ভট্টাচার্য।
এককভাবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন অণ্বেষা ঘোষ, ড. বৈশাখী দাস, কুহু সেনগুপ্ত, পাপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি আইচ, কাকলি দেব, শান্তা দাস।
দলীয়ভাবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কলাবতী সঙ্গীত বিদ্যালয়, সুমিতা মিউজিক একাডেমি, কোমল গান্ধার ও গান্ধর্বীর শিল্পীরা।
বাংলা নতুন বছরের কথা ভেবে প্রতিটি দলের সঙ্গীত নির্বাচন দর্শকদের মুগ্ধ করে।
পাপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় গান্ধর্বীর শিল্পীরা সমবেতভাবে দুটি স্বল্পশ্রুত গান পরিবেশন করেন - সফল করো হে প্রভু আজি সভা (রবীন্দ্রসঙ্গীত), হেসে নাও এ দুদিন বৈ তো নয় (দ্বিজেন্দ্রগীতি)।
কাকলী চন্দর পরিচালনায় কলাবতী সঙ্গীত বিদ্যালয়ের শিল্পীরা চারটি রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন - এসো হে বৈশাখ, প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে, আকাশ জুড়ে শুনিনু এবং ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা। প্রতিটি গানের সঙ্গে দর্শকরাও গলা মেলান, একাত্মতা অনুভব করেন।
নন্দিনী নন্দীর পরিচালনায় কোমল গান্ধার দলের শিল্পীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দুটি গান পরিবেশন করেন - প্রাণ চায় চক্ষু না চায়, পুরানো দিন পুরানো মন।
দুচোখে হঠাৎ করে কালবৈশাখী, ওই উজ্জ্বল দিন - গান দুটি চমৎকারভাবে পরিবেশন করেন দেবশ্রী দে সরকারের পরিচালনায় সুমিতা মিউজিক একাডেমির শিল্পীরা।
দিগন্তিকা দলের পক্ষে সায়ন্তনী বসু ও চৈতালী চক্রবর্তী কবিতায় বৈশাখ-কে তুলে ধরেন।
সোমঋতা মল্লিকের সাবলীল সঞ্চালনা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
শুরু থেকেই প্রেক্ষাগৃহ ছিল পূর্ণ। গানে, কবিতায় বাংলা নতুন বছরকে এভাবেই বরণ করে ছায়ানট।
অমিয়/