লেখালেখিকে ‘প্রার্থনা’ ও ‘মেডিটেশন’ এর সঙ্গে তুলনা করে কথাসাহিত্যিক ও খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেছেন, পুরস্কারের আশায় নয়, বরং একটি ভালো কাজ সৃষ্টি করতে পারাই লেখকের জন্য সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে ‘সমধারা দ্বাদশ কবিতা উৎসব ও সমধারা সাহিত্য পুরস্কার’ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তাকে সমধারা সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি পুরস্কারের জন্য লিখি না। একটা ভালো উপন্যাস বা গল্প লিখতে পারা এবং সেটি পাঠকের কাছে পৌঁছানোকেই আমি বড় পুরস্কার মনে করি। যখন আনন্দ পাবলিশার্স কিংবা লন্ডনের অলিম্পিয়া পাবলিশার্স থেকে আমার বই বের হয়, সেটিই আমার কাছে বড় অনুপ্রেরণা।’
দেশের পুরস্কার বিতরণী ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক সময় পুরস্কার রাজনৈতিকভাবে কলুষিত বা সমালোচিত হয়। অনেক সত্যিকারের লেখক পুরস্কারের ধারে-কাছেও যান না। আবার দেখা যায়, অল্প লিখেও অনেকে রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন।’
কালজয়ী লেখকদের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘জীবনানন্দ দাশকে আমরা ১০০ বছর পর মূল্যায়ন করতে পেরেছি। নজরুল বা রবীন্দ্রনাথও তাদের সময়ে নানাভাবে সমালোচিত ও অপদস্থ হয়েছেন। কিন্তু কাজই তাদের টিকিয়ে রেখেছে। সত্যিকারের মূল্যায়ন এভাবেই হয়।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘স্যার কোথাও সচরাচর যান না, কিন্তু আজ এখানে এসেছেন। তিনি আমাদের পেশার অভিভাবক। সংকটের সময়েও তিনি সাহস জুগিয়ে বলেন- ভয় পেয়ো না, আমরা সঙ্গে আছি।’
নিজের লেখালেখির অভ্যাস সম্পর্কে এই কথাসাহিত্যিক বলেন, ‘লেখালেখি আমার কাছে প্রার্থনার মতো। আমি পবিত্র হয়ে লিখতে বসি। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা আমি লিখি, না লিখতে পারলে দিনটি ভালো কাটে না। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যেন লিখে যেতে পারি, এটাই আমার চাওয়া।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- কবি মোহাম্মদ নূরুল হুদা, সাংবাদিক ও গবেষক হারুন হাবীব, কবি ফরিদ আহমদ দুলালসহ বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিকরা।
জয়ন্ত সাহা/অমিয়/