ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ৪টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন এমপি আমির হামজা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক নিশ্চিত আশ্রয় ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে দুর্নীতি বিরোধী চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা মিরপুরে মাদরাসার সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৩ ইংল্যান্ড দলের চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার জাপানিজ সমর্থকরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন? জামালপুরে মানববন্ধনে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাদকের আখড়া মুন্সীগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও তার মাকে হত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১ এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ ফরিদপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার
Nagad desktop

কলকাতার রামমোহন লাইব্রেরিতে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
আপডেট: ০৯ মে ২০২৬, ১২:১২ পিএম
কলকাতার রামমোহন লাইব্রেরিতে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় উৎপল চৌধুরী ও সোমঋতা মল্লিক

রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর প্রাক্কালে কলকাতার রামমোহন লাইব্রেরি অ্যান্ড ফ্রি রিডিং রুম–এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘হে নূতন দেখা দিক আর-বার’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান।

শুক্রবার (৮ এপ্রিল) রায়া দেবনাথ মেমোরিয়াল হলে রবি সৃজনীর আলোক ধারা আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।

শতাব্দীপ্রাচীন রামমোহন লাইব্রেরি বাংলার বহু মনীষীর পদধূলিধন্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ বাংলা ভাষার বহু বরেণ্য সাহিত্যিক এই প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর কবিগুরুকে এখানেই বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানে সেই ঐতিহাসিক ছবিও প্রদর্শন করা হয়।

এই পুণ্যভূমিতে বছরব্যাপী একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার ভিন্ন স্বাদের অনুষ্ঠান হয়। কলকাতা শহরের সঙ্গীতপ্রেমীরা গ্রামোফোনে পুরনো রেকর্ডের গান শোনার জন্য মিলিত হন এই প্রেক্ষাগৃহে। 

শুধুমাত্র একসঙ্গে বসে গান শোনা নয়, তথ্যসমৃদ্ধ এক সন্ধ্যার সাক্ষী থাকেন সংস্কৃতিপ্রেমী কলকাতাবাসী। এই অভিনব উদ্যোগ সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এক সার্থক প্রচেষ্টা। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে রামমোহন লাইব্রেরি অ্যান্ড ফ্রি রিডিং রুমের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত মিত্র এই সাংস্কৃতিক উদ্যোগ সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। 

অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনায় ছিলেন উৎপল চৌধুরী। তাঁকে সহযোগিতা করেন চন্দন চ্যাটার্জী ও অর্পন চ্যাটার্জি। সঞ্চালনায় ছিলেন উৎপল চৌধুরী ও সোমঋতা মল্লিক।

শুরুতেই উৎপল চৌধুরী কবিগুরুর ‘দুর্লভ জন্ম’ কবিতাটি পাঠ করেন এবং রবীন্দ্র জন্মোৎসবের সূচনার ইতিহাস তুলে ধরেন। 

তিনি উল্লেখ করেন- রবীন্দ্রনাথের ভাগ্নী সরলাদেবী চৌধুরাণী প্রথম এই জন্মোৎসবের সূচনা করেন। কবিগুরু তখন পার্কস্ট্রিটের ৪৯ নম্বর বাড়িতে তাঁর দাদা সত্যেন্দ্রনাথ ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সঙ্গে থাকতেন। সরলাদেবী তাঁর আত্মজীবনী ‘ঝরা পাতায়’ লিখেছেন, ‘রবি মামার প্রথম জন্মদিনের উৎসব আমি করাই। অতি ভোরে তাঁর ঘরে গিয়ে তাঁর বিছানার কাছে গিয়ে বাড়ীর বকুল ফুলের নিজ হাতে গাঁথা মালা ও বাজার থেকে আনানো বেল ফুলের মালার সঙ্গে অন্যান্য ফুল ও একজোড়া ধুতি ও চাদর তাঁর পায়ের কাছে রেখে প্রণাম করে তাঁকে জাগিয়ে দিলেম আর সবাই জেগে উঠলেন। রবির জন্মদিন বলে একটা সাড়া পড়ে গেল।’ 

অনুষ্ঠানে গ্রামোফোন রেকর্ডে একের পর এক বেজে ওঠে রবীন্দ্রসংগীত। শোনানো হয় অমিয়া ঠাকুরের কণ্ঠে ‘হে নূতন দেখা দিক আর-বার’, কবি মজুমদারের কণ্ঠে ‘শুন গো নলিনী খোল গো আঁখি’, কৃষ্ণা হাজরার কণ্ঠে ‘আজ কিছুতেই যায় না মনের ভার’, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ মৈত্রর কণ্ঠে ‘জগতে আনন্দ যজ্ঞে’, কনক দাস ও দেবব্রত বিশ্বাসের কণ্ঠে ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো’সহ আরও বহু গান।

এছাড়া কৃষ্ণচন্দ্র দের ‘তোমরা যা বলো তাই বলো’, অমিতা সেনের ‘চিনিলে না আমারে’, অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আমার পরাণ যাহা চায়’ এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘প্রাঙ্গণে মোর শিরীষ পাখায়’ পরিবেশিত হয়।

রেকর্ড তালিকার দিকে দৃষ্টিপাত করলে সহজেই বোঝা যায়, দুর্লভ রেকর্ডের বিপুল ভাণ্ডার রামমোহন লাইব্রেরির সংগ্রহে রয়েছে।

বেশ কিছুদিন আগে থেকেই শ্রোতারা গানের অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠানে গান নির্বাচন করেন উৎপল চৌধুরী। সেইসঙ্গে গানগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। 

অনুষ্ঠান শেষ হয় বিশ্বকবির স্বকণ্ঠে উচ্চারিত ‘Where the mind is without fear’ কবিতাটির রেকর্ড শোনানোর মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এই অস্থির সময়ে যেন শ্রোতাদের দিশা দেখায়, অনেকেই আবেগ বিহ্বল হয়ে পড়েন। 

প্রেক্ষাগৃহের নীরবতা প্রমাণ করে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কবিগুরু তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে আজও কতটা প্রাসঙ্গিক।

উৎপল চৌধুরী ও সোমঋতা মল্লিকের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে রামমোহন লাইব্রেরির এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক।

অমিয়/

সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন/ছবি: খবরের কাগজ

জীবন ও ইতিহাসের নিপুণ চিত্রকর কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ ১৪ জুন। ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ লেখালেখির প্রতিটি পর্বে তিনি সৃজনশীলতার অপূর্ব স্বাক্ষর রেখেছেন।

সেলিনা হোসেন কেবল একজন লেখক নন, তিনি সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংকটের একনিষ্ঠ পর্যবেক্ষক ও ভাষ্যকার। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ তার লেখায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘যাপিত জীবন’, ‘নীল ময়ূরীর যৌবন’ বা ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’র মতো উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ৫০টিরও বেশি মৌলিক গ্রন্থের রচয়িতা সেলিনা হোসেনের রচনা অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, রুশসহ নানা বিদেশি ভাষায়।

দীর্ঘ সময় বাংলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই লেখক ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ অলংকৃত করেছেন। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।

২০১৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে সম্মানিত হয়েছেন। বিদেশি বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তার সাহিত্যকর্ম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
দেশাত্মবোধক গানের কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা গানের অবিসংবাদিত সম্রাট, যার কণ্ঠস্বর কয়েক প্রজন্মের আবেগের নাম, সেই বরেণ্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী।

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও অধিক সময় ধরে সংগীতের সুধায় সিক্ত করে  তিনি পেয়েছেন এক বিশেষ সম্মাননা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই কালজয়ী শিল্পীকে দেওয়া হলো বিশেষ সম্মাননা স্মারক।

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ আয়োজন।

জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রাখা গুণীজনদের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের অবতারণা করা হয়।

সম্মাননা গ্রহণকালে আবেগময় কণ্ঠে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘আমি সবার প্রশংসায় আকুণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছি। তবে আমার একটিই অনুরোধ; আমরা যেন নিজেদের ভারে দেশটাকে ভারাক্রান্ত না করে ফেলি। আসুন, আমরা সবাই দেশটাকে ভালোবাসি।’ 

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে। এরপর মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. জাহেদ উর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন জাসাস-এর আহ্বায়ক হেলাল খান।

‘সৈয়দ আব্দুল হাদী’ একটি মানদণ্ড
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘বাংলা গানের উচ্চতা এখন নির্ণিত হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর কণ্ঠস্বরকে ঘিরে। নতুন প্রজন্মের কোনো শিল্পী কেমন গাইলেন, তা যাচাই করতে গিয়ে আজও শ্রোতারা সৈয়দ আব্দুল হাদীর গায়কীর মানদণ্ডেই বিচার করেন। এটিই তার সার্থকতা।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘বিগত সময়ে আমাদের সংস্কৃতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠে সংস্কৃতি অঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে চাই। রবীন্দ্র-নজরুল থেকে শুরু করে সংগীতের প্রতিটি শাখাকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

গীতসন্ধ্যায় শ্রদ্ধাঞ্জলি
সম্মাননা পর্ব শেষে আয়োজিত হয় ‘গীতসন্ধ্যা’। এখানে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায় উঠে আসে সৈয়দ আব্দুল হাদীর কালজয়ী সব গান। স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য, পিয়াল হাসানসহ একঝাঁক শিল্পীর পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন। ‘আছেন আমার মোক্তার’ ও ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’-এই দুটি গান সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মাধ্যমে কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

ক্যানভাস যেন এক নীরব ভাষা, যেখানে তুলির আঁচড়ে জমে ওঠে অস্ফুট অব্যক্ত কথা। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, মানুষের চোখের জলছবি আর রাজপথের সংগ্রামী মানুষদের নীরব মর্যাদার মিশেলে তৈরি এক অদ্ভুত সুরের মূর্ছনা এখন ঢাকার ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে। 

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় তিনটি ভিন্ন ধারার প্রতিভাবান শিল্পী মো. ফারিয়াজ ইমরান, নীহারিকা অহনা বারসাত এবং সুরভী আক্তারের শিল্পকর্মে সেজে উঠেছে প্রদর্শনী ‘ত্রিবন্ধন’। শিল্পীর মন ও ক্যানভাসের মধ্যকার এই যে নিবিড় সংযোগ, তা যেন আজ এক মূর্ত রূপ পেয়েছে শিল্পানুরাগীদের সামনে। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী সাইদুল হক জুইস, রশীদ আমিন এবং অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আনিস। 

স্মৃতির অতল থেকে উঠে আসা পরিচয়, প্রকৃতির সাথে মানবিক বন্ধন আর নগরের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্পগুলো এখানে একে অপরের সাথে সংলাপে মগ্ন।

নীহারিকা অহনা বারসাত দর্শকদের নিয়ে গেছেন এক স্বপ্নিল কাব্যিক জগতে। তার জলরঙ ও অ্যাক্রিলিকের বহুস্তরবিশিষ্ট কাজগুলোতে বৃক্ষ, পাখি ও নারীমূর্তির পুনরাবৃত্তি যেন এক প্রকার আরোগ্যের মন্ত্র উচ্চারণ করে। প্রকৃতিকে তিনি কেবল দৃশ্যপট হিসেবে নয়, বরং আত্মরূপান্তরের এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

উল্টো পিঠেই আবার সুরভী আক্তারের শিল্পভাষায় ধরা দিয়েছে মানবিকতার সূক্ষ্ম রেখা। এই শিল্পী ব্রাউন পেপারের ধূসর জমিনে লাল বলপয়েন্ট কলমের আঁচড়ে মানুষের চোখের ভাষা পড়তে চেয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই যান্ত্রিক পৃথিবীতে যেখানে মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, সেখানে তার প্রতিকৃতিগুলো দর্শককে থমকে দাঁড়াতে এবং দৃষ্টির গভীরে লুকিয়ে থাকা নীরব কথাগুলো শুনতে আহ্বান জানায়।

নগরজীবনের না বলা আখ্যানকে মলাটবন্দি করেছেন মো. ফারিয়াজ ইমরান। ঢাকার রাজপথ, রিকশাচালকদের ঘামভেজা শরীর আর প্রান্তিক মানুষের সংগ্রামগুলোকে তিনি জলরঙের মায়ায় জীবন্ত করে তুলেছেন। সমাজের জনপরিসরে যারা প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যান, ফারিয়াজের তুলিতে তারাই হয়ে উঠেছেন অনন্য সাধারণ।

সামগ্রিকভাবে ‘ত্রিবন্ধন’ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, এটি ব্যক্তি, সমাজ ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্কের এক নান্দনিক উদযাপন। আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

সুর-ছন্দের আন্তর্জাতিক মেলবন্ধন চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষার আগমনী বার্তার মাঝেই সুরের মায়াজালে জড়াতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সঙ্গীত উৎসব 'ফেত দ্য লা মিউজিক ২০২৬'।

বুধবার (১০ জুন) থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে সুরের মূর্ছনা ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশ, ফ্রান্স, ব্রাজিল ও ফিনল্যান্ডের শিল্পীরা। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা (এএফডি) তাদের সহযোগী সাংস্কৃতিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছে, যা চলবে আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সৃজনশীল অনুসন্ধানের চেতনাকে কেন্দ্র করে এবারের সুরের আড্ডাকে সাজানো হয়েছে। চার দিনের এই আয়োজনে কর্মশালা, লাইভ পারফরম্যান্স এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতারা সমসাময়িক বৈশ্বিক সংগীতধারার এক অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন।

রাজধানীর গুলশানের ‘বাটারনোট – আ জ্যাজ ক্যাফেতে’ গতকাল বুধবার বিকেলে ইলেকট্রনিক মিউজিক কর্মশালার মাধ্যমে উৎসবের পর্দা ওঠে। ফরাসি সংগীতশিল্পী ও পারকাশনবাদক সুভাষ ধুনুচন্দ এই কর্মশালা পরিচালনা করেন। উৎসবের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার দর্শকদের জন্য থাকছে বিশেষ কনসার্ট ‘বসা ও সোলেই কুশঁ’। এতে পারফর্ম করবেন ফিনল্যান্ডের মিরভা তুলিয়া, ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের ইমরান আহমেদ, তৌফিক আরিফিন ও তানভীর হক। বোসা নোভার মনোমুগ্ধকর সুর ও ছন্দের মাধ্যমে সেখানে তৈরি হবে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সংলাপ। অন্যদিকে আজ সন্ধ্যায় ধানমন্ডির গ্যেটে-ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘তবলাট্রনিক’। সুভাষ ধুনুচন্দের লাইভ পারফরম্যান্সে তবলা, পারকাশন এবং ইলেকট্রনিক প্রোগ্রামিংয়ের সমন্বয়ে ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির এক দারুণ মেলবন্ধন দেখার অপেক্ষায় আছেন শ্রোতারা।

উৎসবে শুক্রবারের মূল আকর্ষণ অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংগীত উদ্‌যাপন। তাদের নিজস্ব পরিবেশনার পাশাপাশি সেদিন ক্যাফে লা ভেরান্দায় গান শোনাবেন তপেশ চক্রবর্তী ও জ্যাজ ব্যান্ড ‘দ্য সোসাইটি’। আগামী শনিবার উৎসবের শেষ দিনে সমাপনী আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হবে ‘বাংলা ব্রাজিল: দ্য সাউন্ড অব দ্য ইউনিভার্স’। ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের মিঠুন চক্রের এক অনন্য পারকাশন যুগলবন্দির মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে চার দেশের শিল্পীদের এই মিলনমেলার।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

ক্যানভাসে জীবন, সমাজ ও প্রকৃতি আলিয়ঁসে শুরু  হচ্ছে তিন শিল্পীর ‘ত্রিবন্ধন’

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
আলিয়ঁসে শুরু  হচ্ছে তিন শিল্পীর ‘ত্রিবন্ধন’
ছবি: সংগৃহীত

একই গ্যালারি, অথচ তিনটি ভিন্ন চোখ দিয়ে দেখা চেনা-অচেনা জীবন। কেউ খুঁজে ফিরছেন প্রকৃতির মাঝে মানুষের আত্মিক আরোগ্য, কেউ মানুষের চোখের গভীরতায় খুঁজছেন মনের অলিগলি, আবার কারও তুলিতে মূর্ত হয়ে উঠছে ঢাকার রাস্তায় খেটে খাওয়া মানুষের নীরব লড়াই। তিন উদীয়মান শিল্পীর এমন তিন ঘরানার শিল্পভাষাকে এক সুতোয় বেঁধেছে ‘ত্রিবন্ধন’।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার ‘লা গ্যালারি’তে পর্দা উঠবে এই প্রদর্শনীর। তরুণ চিত্রশিল্পী মো. ফারিয়াজ ইমরান, নীহারিকা অহনা বারসাত এবং সুরভী আক্তারের সম্মিলিত চিত্রকর্ম নিয়ে সেজেছে এই প্রদর্শনী।

স্মৃতি, পরিচয়, প্রকৃতি, মানবিক সংযোগ এবং চেনা নগরজীবনের নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে এই তিন তরুণের ক্যানভাসে। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আর মাধ্যম ব্যবহার করলেও, শিল্পীদের কাজগুলো একসঙ্গে মিলে যেন গড়ে তুলেছে সহমর্মিতা, স্থিতিস্থাপকতা আর আত্মরূপান্তরের এক গভীর সংলাপ।

প্রদর্শনীতে শিল্পী নীহারিকা অহনা বারসাতের চিত্রকর্মগুলো দর্শকদের নিয়ে যায় এক কাব্যিক জগতে, যেখানে প্রকৃতি আর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মিলেমিশে একাকার। তার ক্যানভাসে বারবার ফিরে এসেছে পাখি, বৃক্ষ ও নারীমূর্তি। অ্যাক্রিলিক ও জলরঙে নির্মিত তার বহুস্তরবিশিষ্ট কম্পোজিশনে প্রকৃতি কেবল পটভূমি হয়ে থাকেনি, বরং রূপান্তরের এক সক্রিয় চরিত্র হয়ে উঠেছে। তার প্রতিটি কাজ যেন আরোগ্য, বিকাশ ও আত্ম-অন্বেষণের গল্প বলে; নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে মানুষ ও পরিবেশের অদৃশ্য সম্পর্ক নিয়ে।

শিল্পী সুরভী আক্তারের ক্যানভাসের মূল শক্তি মানুষের চোখ। মানবমুখের সবচেয়ে অভিব্যক্তিপূর্ণ এই উপাদানটিকে কেন্দ্র করেই তার পুরো শিল্পচর্চা। ব্রাউন পেপারের ওপর লাল বলপয়েন্ট কলম আর রঙিন পেন্সিলের সূক্ষ্ম টানে সুরভী ফুটিয়ে তুলেছেন একের পর এক প্রতিকৃতি। ক্ষণস্থায়ী আর চটজলদি ছবির এই যুগে সুরভীর কাজগুলো দর্শকদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। প্রতিটি চোখের দৃষ্টিতে লুকিয়ে থাকা আবেগ, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা আর মানবিক সংযোগকে নিবিড়ভাবে দেখার আহ্বান জানায় তার এই প্রতিকৃতিগুলো।

শহুরে জীবনের কোলাহল আর উপেক্ষিত মানুষের গল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন মো. ফারিয়াজ ইমরান। তার ক্যানভাসের অনুপ্রেরণা ঢাকার রাস্তাঘাট, বিশেষ করে রিকশাচালক ও নগরের পেছনের সারির খেটে খাওয়া মানুষ। জলরঙের স্তরবিন্যাস আর চমৎকার মানবকেন্দ্রিক কম্পোজিশনের মাধ্যমে ফারিয়াজ তুলে ধরেছেন শ্রমজীবী মানুষের নীরব মর্যাদা, সংগ্রাম ও আত্মমগ্নতার মুহূর্তগুলোকে। ঢাকার চাকা সচল রাখা যে মানুষগুলো জনপরিসরের আলোচনায় প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যান, ফারিয়াজের তুলি তাদেরই দিয়েছে সামাজিক স্বীকৃতি ও পরিচয়ের নতুন ভাষা।

এই প্রদর্শনী আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জয়ন্ত সাহা/এসএন