চালকবিহীন গাড়ির স্বপ্ন বাস্তবায়নে একধাপ এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অটোনোমাস যানবাহন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জুক্স। কল্পবিজ্ঞানের মতো অটোনোমাস বা স্বচালিত রোবোটাক্সি চালু করতে তারা পরীক্ষামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর রাস্তায় নামিয়েছে চালকবিহীন শাটল। এবার প্রতিষ্ঠানটি লাস ভেগাসের স্ট্রিপ ও আশপাশের এলাকায় বড় পরিসরে এই রোবোটাক্সির পরীক্ষা শুরু করেছে। ২০২৫ সালের মধ্যে সাধারণ যাত্রীদের জন্য রোবোটাক্সির পরিসেবা চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনেক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান বৈদ্যুতিক গাড়িতে অতিরিক্ত সেন্সর ও অন্যান্য হার্ডওয়্যার যোগ করে সেগুলোকে স্বয়ংক্রিয় রোবোটাক্সিতে রূপান্তর করছে। তবে জুক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ রোবোটাক্সির দিকে নজর দিয়েছে, যা দেখতে অনেকটা ছোট শাটল বাসের মতো। এই শাটলগুলোতে কোনো স্টিয়ারিং, প্যাডেল বা চালকের আসন নেই। আসনগুলো একে অপরের মুখোমুখি করে সাজানো। এই গাড়িতে একসঙ্গে চারজনের বেশি যাত্রী বসতে পারবে। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি সামনের দিক থেকে দেখতে ঠিক পেছনের দিকের মতোই লাগে। ফলে এটি যেকোনো দিকে চলতে পারে।
জুক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) জেসি লেভিনসন বলেন, ‘জুক্স হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা চালকের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বিশেষভাবে নির্মিত রোবোটাক্সির পরীক্ষা চালাচ্ছে।’
জুক্সের দাবি, তাদের এই গাড়ি চালকবিহীন গাড়ির ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। এটি একসঙ্গে একাধিক যাত্রীকে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা দিচ্ছে। তবে এটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়। এখন পর্যন্ত শুধু জুক্সের কর্মীরা এই গাড়িতে চলাচল করতে পারছেন।
প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রোটোটাইপের পরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে এখন তারা কোনো চালকের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই যাত্রী পরিবহন উপযোগী উৎপাদন পর্যায়ের রোবোটাক্সির পরীক্ষা চালাচ্ছে।
এই উদ্যোগ সফল হলে জুক্সের রোবোটাক্সি নতুন যুগের স্বয়ংক্রিয় যাতায়াত ব্যবস্থার সম্ভাবনা তৈরি করবে। যেখানে আর ড্রাইভারের প্রয়োজন থাকবে না। তবে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও সরকারি নীতিমালার প্রশ্নে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
তবে জুক্স একা নয়, আরও কিছু কোম্পানি এ ধরনের বিশেষভাবে তৈরি চালকবিহীন যান নিয়ে কাজ করছে। তবে কাস্টমাইজড রোবোটাক্সি নির্মাণে কিছু বিশেষ চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো উৎপাদন খরচ। পুরোপুরি নতুন ডিজাইন করা রোবোটাক্সির জন্য খরচ অনেক বেশি। এ ধরনের যান একাধিক যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে পারে, যা রাইড-পুলিং সেবাকে জনপ্রিয় করতে পারে।