বিশ্বের প্রথম শতভাগ সিলিকন অ্যানোড ব্যাটারি ২০২৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হবে। এই ব্যাটারি মাত্র পাঁচ মিনিটের চার্জে প্রায় ১৮৬ মাইল বা ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হবে।
চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর প্যারিস মোটর শোতে প্রোলজিয়াম নামের লিথিয়াম সিরামিক ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের নতুন সলিড-স্টেট ব্যাটারির ধারণা উন্মোচন করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই সিলিকন কম্পোজিট অ্যানোড ব্যাটারির শক্তির ঘনত্ব (এনার্জি ডেনসিটি) বর্তমান লিথিয়াম-আয়ন (li-ion) বা লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (lfp) ব্যাটারির তুলনায় অনেক বেশি।
জার্মানির টিইউভি রাইনল্যান্ড কর্তৃক এই ব্যাটারির শক্তির ঘনত্ব প্রমাণিত হয়েছে। ভলিউম অনুসারে শক্তি ঘনত্ব প্রতি লিটারে ৭৪৯ ওয়াট (wh/l) আর ওজন অনুসারে শক্তি ঘনত্ব প্রতি কিলোগ্রামে ৩২১ ওয়াট (wh/kg)। তুলনামূলকভাবে বর্তমানে ব্যবহৃত এলএফপি ব্যাটারি ২০০ wh/kg-এর কম শক্তি সরবরাহ করে। আর লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ২০০ থেকে ৩০০ wh/kg শক্তি সরবরাহ করে।
প্রোলজিয়াম জানিয়েছে, চলমান গবেষণা ও উন্নতির ফলে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ এই সিলিকন অ্যানোড ব্যাটারির শক্তি ঘনত্ব ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ৫ থেকে ৬০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব মাত্র ৫ মিনিটে, যা ৩০০ কিলোমিটার যাত্রার জন্য যথেষ্ট। এই চার্জিং সময়সীমা ব্যাটারি শিল্পের প্রচলিত গড় ৩০ মিনিটের তুলনায় অনেক কম একই দূরত্বের ক্ষেত্রে।
এই ব্যাটারির উচ্চ শক্তির ঘনত্বের ফলে ছোট ব্যাটারি থেকে বেশি শক্তি পাওয়া যাবে। এতে গাড়ি নির্মাতারা কম জায়গা ব্যবহার করে বড় শক্তি সরবরাহ করতে পারবে। এটি হাইব্রিড গাড়ির নকশায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে, যেখানে ব্যাটারির জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে সমান আকারের ব্যাটারি ব্যবহার করে, প্রচলিত গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে। প্রোলজিয়ামের এই ব্যাটারির মডুলার নকশা মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ আরও সহজ করবে। ব্যাটারির কোনো এক বা একাধিক সেলের ক্ষতি হলে পুরো ব্যাটারি প্যাক পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না, ফলে খরচও কমবে।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রোলজিয়াম এতদিন বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য ব্যাটারি উপাদান ও নমুনা সরবরাহ করে আসছিল। এবার তারা সলিড-স্টেট ব্যাটারির বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতাদের কাছে মডিউল উন্নত ও পরীক্ষা করার জন্য প্রায় ৮ হাজার সলিড-স্টেট ব্যাটারি নমুনা হিসেবে সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া কোম্পানিটি জার্মানির এফইভি গ্রুপের সঙ্গে অংশীদারত্ব করছে। এর মাধ্যমে প্রোলজিয়ামের ব্যাটারি প্রযুক্তি ও এফইভিয়ের প্রকৌশল দক্ষতা একত্রিত হয়ে আগামীর পরিবেশবান্ধব যানবাহন নির্মাণে কাজ করছে।
এফইভিয়ের ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেনের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট থমাস হুলশর্স্ট বলেন, ‘গত দুই বছরে আমাদের সহযোগিতায় কাস্টমাইজড ব্যাটারি প্যাক ও ধারণাগত নকশাগুলো তৈরি হয়েছে, যা বাজারের চাহিদা ও নিয়ন্ত্রক মানের ঊর্ধ্বে। এটি টেকসই যানবাহন তৈরির পথে বড় পদক্ষেপ।’ ২০২৭ সালে প্রোলজিয়ামের পরবর্তী প্রজন্মের এই ব্যাটারি উৎপাদন শুরুর কথা রয়েছে। সূত্র: লাইভ সায়েন্স