ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
Nagad desktop

বিওয়াইডি ৫ মিনিটের চার্জে চলবে ৪০০ কিমি

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:১৩ পিএম
৫ মিনিটের চার্জে চলবে ৪০০ কিমি
বিওয়াইডির নতুন সেডান ‘হ্যান এল’। ছবি: সংগৃহীত

বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) বাজারে টেসলার অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের অটোমোবাইল জায়ান্ট বিওয়াইডি। সম্প্রতি তারা এমন এক অত্যাধুনিক ব্যাটারি প্রযুক্তি সম্পন্ন গাড়ি এনেছে, যা মাত্র পাঁচ মিনিটের চার্জে ৪০০ কিলোমিটার (প্রায় ২৪৯ মাইল) পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। নিজেদের নতুন ‘হ্যান এল’ সেডান ও ‘ট্যাং এল’ এসইউভি মডেলে এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রযুক্তি বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিতে চলেছে।

চীনের এই অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নতুন ‘সুপার ই-প্ল্যাটফর্ম’ প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারি এই দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা দেবে। এর চার্জিং গতি ১ হাজার কিলোওয়াট, যা টেসলার ২৫০ কিলোওয়াটের সুপার চার্জারের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি। দ্রুত চার্জিংয়ের পাশাপাশি দামের দিক থেকেও নতুন মডেল দুটি বেশ সাশ্রয়ী।

বিওয়াইডির নতুন হ্যান এল সেডান গাড়ির দাম শুরু হচ্ছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০০ ইউয়ান থেকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এই দাম টেসলার সবচেয়ে সাশ্রয়ী মডেল থ্রি-এর চেয়েও প্রায় ১০ হাজার ডলার কম। অন্যদিকে বিওয়াইডির ট্যাং এল এসইউভি মডেলের দাম শুরু হচ্ছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ ইউয়ান থেকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা।

গত মাসে এই সুপার ই-প্ল্যাটফর্ম চার্জিং প্রযুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল বিওয়াইডি। তখন তারা দাবি করেছিল, এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের ভ্রমণের সময় গাড়ির রেঞ্জ বা কত দূর চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা পুরোপুরি দূর করবে। কারণ, প্রচলিত পেট্রল বা ডিজেল গাড়িতে জ্বালানি ভরতে যে সময় লাগে, প্রায় একই সময়ে এই গাড়িগুলো চার্জ দেওয়া সম্ভব হবে। আপাতত এই দুটি নতুন মডেল শুধু চীনে পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দ্রুত চার্জিংয়ের জন্য দেশটিতে ৪ হাজার ফাস্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

বিওয়াইডি বর্তমানে চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। দেশটির মোট ইভি বিক্রির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তাদের দখলে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার পর সংস্থাটি সম্প্রতি বৈশ্বিক সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে। গত বছর তারা টেসলাকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রীত বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রস্তুতকারকের খেতাব অর্জন করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো কার্যক্রম নেই।

বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা মেটাতে বিওয়াইডি বর্তমানে হাঙ্গেরিতে একটি কারখানা নির্মাণ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বছরের শেষ নাগাদ কারখানাটি উৎপাদনে যাবে। এতে বছরে ৩ লাখ গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণাও দিয়েছে বিওয়াইডি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপে টেসলার ইভি বিক্রি কমে যাওয়া এবং শেয়ারের দরপতনের মতো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিওয়াইডির এই অত্যাধুনিক চার্জিং প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং তুলনামূলক কম দামের নতুন মডেলগুলো বাজারে আসায় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিশিয়াল ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। মাঠে ক্রিকেটের রোমাঞ্চের পাশাপাশি দেশে পরিবেশবান্ধব ই-মবিলিটি বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ধারণাকে ছড়িয়ে দিতে এই যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিরিজে মাঠের পারফরম্যান্স ও ক্রিকেটারদের অদম্য স্পৃহাকে সম্মান জানাতে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। চলমান এই সিরিজে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে যে বাংলাদেশি বোলার সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করবেন, তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একটি আকর্ষণীয় ইলেকট্রিক বাইক পুরস্কার দেওয়া হবে।

সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভি মটো বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভি মটো গ্রুপের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের কান্ট্রি ডিরেক্টর মীর ফয়সাল, ভি মটো বাংলাদেশ ও সিমবা মটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সোহেল বিন আজাদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজীব নূর।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ইনচার্জ ও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীস এবং মার্কেটিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের মো. আসিফুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে ক্রিকেট মাঠের উৎকর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও পরিবেশবান্ধব চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার অভিন্ন লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই গৌরবময় যাত্রার সঙ্গী হতে পেরে এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও স্মরণীয় সিরিজ উপহার দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছে ভি মটো বাংলাদেশ।

অটোমোটিভ উদ্ভাবনে শীর্ষে চীনের বিওয়াইডি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
অটোমোটিভ উদ্ভাবনে শীর্ষে চীনের বিওয়াইডি
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অটোমোটিভ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে জার্মানির বিখ্যাত ভক্সওয়াগেন ও মার্সিডিজ-বেঞ্জকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে চীনের নিউ এনার্জি ভেহিকেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। জার্মানিভিত্তিক স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার অব অটোমোটিভ ম্যানেজমেন্ট (সিএএম)’ প্রকাশিত ‘অটোমোটিভ ইনোভেশনস রিপোর্ট ২০২৬’-এ এই তথ্য জানানো হয়। বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাণ শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান এমন গৌরবময় মাইলফলক অর্জন করল।

প্রতিবেদনের ২২তম সংস্করণে বিশ্বের ৩৬টি বড় অটোমোটিভ গ্রুপের মোট ৮৬৭টিরও বেশি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সিএএম তাদের নিজস্ব ‘এম.ও.বি.আই.এল’ পদ্ধতির মাধ্যমে এই জটিল মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই পদ্ধতিতে অটোমোবাইল উদ্ভাবনগুলোর পরিপক্বতা, মৌলিকত্ব, গ্রাহক উপযোগিতা এবং কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে স্কোর দেওয়া হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে ১৫৭ দশমিক ২ ইনডেক্স পয়েন্ট পেয়ে উদ্ভাবনী সূচকে সবার শীর্ষে জায়গা করে নেয় বিওয়াইডি। অন্যদিকে পূর্ববর্তী চ্যাম্পিয়ন ভক্সওয়াগেন গ্রুপ ১৪৩ দশমিক ১ পয়েন্ট এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ গ্রুপ ১৩৪ দশমিক ২ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী অটোমোটিভ গ্রুপ হওয়ার পাশাপাশি ‘মোস্ট ইনোভেশন ভলিউম ব্র্যান্ড ২০২৬’-এর মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিও নিজেদের করে নিয়েছে বিওয়াইডি। এই বিশেষ ক্যাটাগরিতে ১০৫-এর বেশি ইনডেক্স পয়েন্ট নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি রেনল্ট ও টয়োটার মতো সুপ্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোকে সহজে পেছনে ফেলে দিয়েছে। সিএএম-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেন, আধুনিক ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেম এবং একাধিক বিশ্বমানের উদ্ভাবনই মূলত বিওয়াইডির এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থার দিকে বৈশ্বিক রূপান্তরে বিওয়াইডির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো। নিজেদের তৈরি ব্লেড ব্যাটারি, ডিএম-আই সুপার হাইব্রিড সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস-এর মতো যুগান্তকারী প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে সম্পূর্ণ নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারেও বিওয়াইডি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দুই ধাপে জমকালো মেগা ডেলিভারি ইভেন্টের মাধ্যমে ক্রেতাদের হাতে সরাসরি ৯০টি পরিবেশবান্ধব আধুনিক গাড়ি হস্তান্তর করেছে। দেশের বাজারে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

/আবরার জাহিন

চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে
চীনের অটোমোবাইল শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এখন রপ্তানি।

চলতি বছরের মে মাসে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিচালিত বা পরিবেশবান্ধব যাত্রীবাহী গাড়ি রপ্তানিতে বিশাল সাফল্য দেখছে চীন। দেশটির যাত্রীবাহী গাড়ি সংস্থার (সিপিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার গাড়ি রপ্তানি ১১২.৬ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ২৪ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।  
তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশে পাঠানো মোট যাত্রীবাহী গাড়ির ৫৪ দশমিক ১ শতাংশই ছিল পরিবেশবান্ধব জ্বালানিচালিত যান, যা এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
রপ্তানিকৃত এনইভিগুলোর মধ্যে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ ছিল ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও এক বছর আগে এ হার ছিল ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ। 
সিপিসিএ বলেছে, চীনের অটোমোবাইল শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এখন রপ্তানি। অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলনামূলক দুর্বল চাহিদার মধ্যেও চীনা গাড়ি নির্মাতারা লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের মতো বাজারে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং রপ্তানির ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে।
সূত্র: সিএমজি বাংলা 

ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’
ওয়েমোর তৈরি নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’। ছবি: সংগৃহীত

চালকহীন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েমো তাদের তৈরি নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ উন্মুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ফিনিক্সের যাত্রীরা এখন এই স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রাথমিক অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সেবা বিনামূল্যে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষভাবে তৈরি এই রোবোট্যাক্সি ওয়েমোর জন্য একটি বড় মাইলফলক। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ বাণিজ্যিক গাড়িকে রূপান্তর করে চালকহীন হিসেবে ব্যবহার করত। ভ্যান আকৃতির এই গাড়িটি বেশ বড় ও প্রশস্ত। এটি টেসলার ছোট আকারের সাইবার ক্যাবের সম্পূর্ণ বিপরীত, যাতে মাত্র দুজন মানুষ মালামালসহ বসতে পারেন।

চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জিকর’ ওজাই গাড়িটি তৈরি করেছে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ওয়েমোর নিজস্ব কারখানায় এতে স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়।

গাড়িটিতে যাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, তিনটি স্ক্রিন এবং চার্জিং পোর্ট রয়েছে। এতে ওয়েমোর ষষ্ঠ প্রজন্মের নতুন চালনা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ফলে গাড়িটির ক্যামেরা সেন্সর ২৯টি থেকে কমিয়ে ১৩টিতে আনা সম্ভব হয়েছে। এতে লিডার ও রাডার সেন্সরের সংখ্যাও কমেছে। ফলে প্রতিটি গাড়ি তৈরিতে খরচ পড়ছে ২০ হাজার ডলারের কম।

নতুন সফটওয়্যারের জন্য বরফাবৃত ও ঠাণ্ডা শহরের রাস্তায় গাড়িটি চলতে সক্ষম। এর আগে ওয়েমো কেবল উষ্ণ অঞ্চলের শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিল। এই সুবিধার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন শিকাগো শহরে তাদের সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমানে আমেরিকার ১১টি প্রধান শহরে ওয়েমোর স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সেবা চালু রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটিরও বেশি সফল ট্রিপ সম্পন্ন করেছে, যা এই খাতের যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি।

তবে চলতি মাসের শুরুতে বন্যার পানিতে গাড়ি চলে যাওয়ার কারণে দুটি শহরে ওয়েমো তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। এই ঘটনার পর প্রায় ৪ হাজার গাড়ি ফিরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনএইচটিএসএ) একটি নতুন প্রতিবেদনে টেসলার চালকহীন রোবোট্যাক্সি সেবার ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কিছু সড়ক দুর্ঘটনা রিমোট অপারেটরের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর সময় ঘটেছে। এতদিন টেসলা ব্যবসায়িক গোপনীয়তার স্বার্থে এসব তথ্যের কিছু অংশ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আসছিল।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেসলার এই সেবা দীর্ঘ অপেক্ষার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। ডালাসে এক সাংবাদিকের মাত্র ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে গন্তব্যের নির্ধারিত এলাকার ভেতরে থাকার পরও গাড়িগুলো যাত্রীদের মূল গন্তব্য থেকে ১৫ মিনিট দূরে নামিয়ে দিয়েছে।

টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে টেক্সাসের অস্টিনে অন্তত দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে যখন গাড়িগুলো দূর থেকে অন্য একজন চালক নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। অস্টিনে টেসলা তাদের রোবোট্যাক্সি সেবা শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িগুলোতে যাত্রী না থাকলেও একজন করে নিরাপত্তা পরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে গত বছরের জুলাইয়ে। তখন একজন নিরাপত্তা পরিদর্শক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য চাইলে দূরবর্তী অপারেটর গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন। এতে গাড়িটি রাস্তার পাশে একটি ধাতব বেড়ায় আঘাত করে। দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। তখন একজন রিমোট অপারেটর গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেটি একটি নির্মাণাধীন এলাকার অস্থায়ী ব্যারিকেডে আঘাত করে। তখন গাড়ির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৯ মাইল।

অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দূরবর্তী মনিটরিং ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও তারা সরাসরি গাড়ি চালায় না, বরং সফটওয়্যারকে সহায়তা করে। তবে টেসলার ক্ষেত্রে অপারেটররা সরাসরি গাড়ি চালান। টেসলার সব দুর্ঘটনা অবশ্য রিমোট অপারেটরের কারণে ঘটেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোবোট্যাক্সি অন্য গাড়ির আয়নায় আঘাত করেছে। অন্য একটি ঘটনায় রাস্তায় আচমকা চলে আসা একটি কুকুরকে গাড়িটি এড়াতে পারেনি, তবে কুকুরটি বেঁচে যায়।

স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা সফটওয়্যার জটিলতা নতুন কিছু নয়। টেসলার প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েমোকেও এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে টেসলার এই ধারাবাহিক সমস্যাগুলো ইঙ্গিত দেয়, প্রতিযোগীদের সমকক্ষ হতে প্রতিষ্ঠানটিকে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।